170984

নির্বাচনী ব্যয়ের শীর্ষে ইসলামী আন্দোলন, ব্যয় নেই খেলাফত আন্দোলনের

রকিব মুহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ব্যয় দেখিয়ে চরমোনাই পীরের দলটি জানিয়েছে, গত ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে তাদের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ ব্যয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় বিএনএফ-এর ১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যয় বিএনপির ১ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগের ব্যয় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা, পঞ্চম সর্বোচ্চ ব্যয়ের তালিকায় রয়েছে দলটি।সবচেয়ে কম ব্যয় করেছে বিএমএল- মাত্র ২ হাজার টাকা।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমান ও মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ‘নিবন্ধিত দলের ব্যয় বিবরণী’ ইসির ব্যয় বিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে কোনো নির্বাচনী ব্যয় করেনি। প্রার্থীকে দলীয় ফান্ড দেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগত ব্যয়ে নির্বাচনে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় এলডিপি, বিকল্পধারা, জাসদ, গণফোরাম, জাগপা ও মুক্তিজোটও রয়েছে। এসব দলগুলোর স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় শুধু প্রার্থীরাই নিজের ব্যয় সেরেছেন।

এ নির্বাচনে অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর মধ্যে জাকের পার্টি ৬ লাখ, তরিকত ফেডারেশন ১০ লাখ ৬৫ হাজার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১ লাখ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ১ লাখ ২৮ হাজার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১ লাখ ৫১ হাজার, ইসলামী ঐক্যজোট ৬৪ লাখ ২৪ হাজার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ লাখ ৬৬ হাজার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ১ লাখ ২৫ হাজার ও ও খেলাফত মজলিস ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় করে।

এছাড়া ৩০ ডিসেম্বরের এ নির্বাচনে সিপিবি ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২০ টাকা, জাতীয় পার্টি ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা, জাতীয় পার্টি-জেপি ১৮ লাখ ২২ হাজার টাকা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১০ লাখ ৭ হাজার, সাম্যবাদী দল ৪ লাখ ৩৩ হাজার, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১০ লাখ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৭০ লাখ ২৪ হাজার এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ৩ লাখ ৬৬ হাজার, গণতন্ত্রী পার্টি ৬ লাখ ৭ হাজার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১ লাখ ২৬ হাজার, এনপিপি ২ লাখ ৭৫ হাজার, গণফ্রন্ট ১ লাখ ৫০ হাজার, পিডিপি ১ লাখ ২০ হাজার, বাংলাদেশ ন্যাপ ৪৩ হাজার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ২ লাখ ৫ হাজার, কল্যাণ পার্টি ২ লাখ ৪১ হাজার ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয় করে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব বিবরণী সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে জমা দিতে হয়। আর নির্বাচন কমিশনে দলীয় নির্বাচনী ব্যয় ৯০ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী অনুপাতে দলগুলোর ৭৫ লাখ টাকা থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা নির্বাচনী ব্যয়ের সুযোগ ছিল। ৫০ জনের কম প্রার্থী হলে ৭৫ লাখ টাকা, ৫০ থেকে ১০০ প্রার্থী হলে দেড় কোটি টাকা, ১০১ থেকে ২০০ প্রার্থী হলে তিন কোটি টাকা এবং ২০১ প্রার্থীর বেশি হলে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪১টি।  এর মধ্যে ৩৯টি দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।  দলগুলোর হিসাব অনুসারে তারা এ নির্বািচনে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.