171841

জবিতে আবরার হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে জবি শাখা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগ হামলা করেছে।

আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সহসভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক আলি হাওলাদার, মিজানুর রহমান শরীফ ও জাহিদসহ ১০ জন আহত হয়। এ সময় যুগ্ম সম্পাদক আলি হাওলাদার ও জাহিদকে আটক করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় সমবেত হয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে থেকে আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি অবকাশ ভবনের সামনে আসলে পেছন থেকে শাখা ছাত্রলীগের ৮-১০ কর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনকে মারধর করে।

এ সময় ছাত্রদলের অন্যান্য পালিয়ে গেলেও মীজানুর রহমান নাহিদ নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে ছাত্রলীগকর্মীরা প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। তার চিকিৎসার জন্য প্রক্টর অফিস পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শরীফের ডান হাত ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামালের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিদুর রহমান গণমাধ্যডমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসা চলছে। এ বিষয়ে কাউকে আটক করা হয়েছে কি-না আমার জানা নেই।

এদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। আট দফা দাবিতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন তারা। সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন। এর আগে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা মামলার অভিযোগপত্র না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছেন।

এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান বুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরাও। ঢাবি ও বুয়েট ক্যাম্পাসে পূজার ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.