172103

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শোক ও স্মরণে এটিএম হেমায়েত উদ্দীন

মোল্লা মোহাম্মদ ।।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন আজ শুক্রবার বেলা সকালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের অসুস্থতায় ভুগছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামভিত্তিক রাজনীতির ময়দানে প্রথম সারীর নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এটিএম হেমায়েত উদ্দিন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগরের দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ। সর্বশেষ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক হেমায়েত উদ্দিন।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ সারির আলেম-ওলামা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকও ভাসছে শোকের নদীতে। সেখানে থেকে আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য কয়েকটি ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো।

ওয়ায়েজ ও লেখক মাওলানা হাবিবুর রহমান মেসবাহ লিখেছেন, “প্রিয় হেমায়েত ভাই! আপনাকে অনেক ভালোবাসতাম, কিন্তু এতটা অনুভব করতাম না। আপনার চলে যাওয়ার সংবাদে বুঝতে পারলাম, ধারণার থেকেও কোটিগুণে ভালোবাসা জমা আপনার জন্য। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে কোনো মৃত্যুর খবর এতটা কাঁদায়নি আমায়…”

ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা এইচ.এম.কাওছার বাঙ্গালী লিখেছেন,  “খবরটি শুনে বাকরুদ্ধ! যদিও তিনি অসুস্থ ছিলেন, তবুও মনে হতো জাতিকে তাঁর দেয়ার অনেক কিছু বাকি। তিনি এতো আগে যাবেন না। কিন্তু অবশেষে..”

মালয়েশিয়ার মাশা ইউনিভার্সিটির ছাত্র বশির ইবনে জাফর লিখেছেন,  “এটিএম হেমায়েত উদ্দীন স্যার, জানি না আপনার মতো নেতা রাজনৈতিক অঙ্গণে আর পাবো কিনা। দেশ ছেড়ে আসার দু’সপ্তাহ আগেই আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ এর সৌভাগ্য হয়েছিলো। অসুস্থ শরীরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেয়া আপনার জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুনে আমার চোখের পানি ঝড়েছিলো। ভাবিনি আপনার সাথে আর কখনো দেখা হবে না। আল্লাহ জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।”

মোহাম্মদ সাবেত হুসাইন লিখেছেন, “আহ… প্রিয় নেতার চলে যাওয়ার খবর শুনে অন্তর টা ফেটে যাচ্ছে. জাতি আজকে একজন অভিভাবক কে হারালো. আল্লাহ তাকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন… আমিন।”

এইচ এম জুনাইদ মাহমুদ লিখেছেন,  “বিপ্লবীদের অশ্রুঝরা ভালোবাসায় সিক্ত মহাপুরুষ জননেতা অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন।  প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন মাত্র ১০০মিনিট হলো, এরইমধ্যে ফেসবুকে নিউজফিড জুড়ে শুধু তিনিই আছেন। তার ছবি, শোক সংবাদ, দোয়া…”

রায়হান আল কবীর লিখেছেন, “ যিনি আমাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন,তিনি আমার শিক্ষাগুরু, রাজনৈতিকগুরু হাফেজ মাওলানা অধ্যাপক এটি এম হেমায়েত উদ্দীন আজ সকাল ১০ টায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নিন, আমিন।”

খালেদ সাইফুল্লাহ লিখেছেন, “ এটিএম হেমায়েত উদ্দীন। প্রথম দেখেছি জিএম হাট নূরাণী শিক্ষা সম্মেলনে ৷ সর্বশেষ দেখেছি পল্টনে ই আ বার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৷ আপোসহীন এ কীর্তিমান মনীষী পশুদের এ অভয়ারণ্যের সাথে আপোস করতে পারলেন না ৷ পাড়ি জমালেন জান্নাতের চির সবুজ উদ্যানে ৷ প্রিয় নেতা! দুনিয়ার চা-পান আর খেতে হবে না আপনাকে; জান্নাতের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত নহর থেকে অবিরাম পান করুন শারাবান ত্বহুরা!”

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.