172594

শিশু তুহিন হত্যা: বর্বরতার শেষ কোথায়!

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী।।

ছোট্ট শিশু তুহিন। বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। কদমগাছের ডালে ঝুলছিল তার নিথর দেহ। দুই কান কাঁটা। পেটে ঢোকানো দুটি ছুরি। নির্মমতার এখানেই শেষ নয়। কেটে নেয়া হয়েছে তার যৌনাঙ্গটিও। নজিরবিহীন এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অসৎ উদ্দেশ্যে পিতা ও চাচা কর্তৃক সংঘটিত হয়েছে পৈশাচিক এ হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের বর্বরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ঘুমে থাকা শিশু তুহিনকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান তার বাবা। পরে চাচা ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার তুহিনকে হত্যা করেন। পরে তুহিনের কান ও লিঙ্গ কেটে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশের কাছে শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে তুহিনের বাবা ও চাচা।

পিতা ও চাচা কর্তৃক শিশু হত্যার এ বর্বর ঘটনা আইয়ামে জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। সভ্য সমাজের ললাটে কলংক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। পৈশাচিকতার স্তর দেখে দেশবাসী স্তম্ভিত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু শিশু হত্যার ঘটনা দেশবাসীকে অবাক করে দিয়েছে। সিলেটের ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। রাজনের মায়ের কান্না থামতে না থামতেই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরপর আরও বেশ কিছু শিশু নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়, যার মধ্যে খুলনার রাকিব, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে সুটকেসের মধ্যে পাওয়া প্রায় ৮/৯ বছরের নাম না জানা শিশুর ক্ষত-বিক্ষত লাশ, এরপর জানা গেল বরগুনার রবিউল ইসলাম আওয়ালের মৃত্যু সংবাদ এবং আরও করুণ ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাবা-মায়ের পিটুনীতে ৩ বছরের শিশুকন্যা সুমাইয়া আক্তারের মৃত্যুর ঘটনা। এর আগের তালিকায় রয়েছে, সিলেটের শিশু সাঈদ, রাজধানী ঢাকার সামিউল, নারায়ণগঞ্জের ত্বকি, পুরান ঢাকার হাজারীবাগের রাজা মিয়াসহ অসংখ্য শিশু হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী।

এসব নিষ্ঠুর পাশবিক ঘটনায় দেশের বিবেকবান মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। সকলের একটিই প্রশ্ন আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থাতো কখনো এমন ছিল না, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কেন এমন হলো? উচ্চ শিক্ষিত থেকে শুরু করে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ ধরনের নৃশংসতা ও পাশবিক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এসব নিষ্ঠুর ঘটনা রোধ করতে না পারলে আমাদের সমাজ মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এজন্য দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর শিশুদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রয়োজন। তুহিন হত্যার পৈশাচিক ঘটনা গুরুত্বের সাথে নিয়ে খুনিদের দ্রুত বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজকে এ নৈতিক অধঃপতন থেকে উদ্ধার করার জন্য ইসলামের সুমহান শিক্ষারআলোকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

-এএ

ad