172718

দেশেই তৈরী হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এরাবিয়ান জুব্বা

সুফিয়ান ফারাবী
বিশেষ প্রতিবেদক

সৌদি আরবের আল-বদর জুব্বা প্রস্তুতকারক কোম্পানির প্রধান কাটিং মাস্টারের হাতে বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে এরাবিয়ান জুব্বা। সাভারের অন্ধ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সৌদি জুব্বা হাউসে তৈরি হচ্ছে আরবদের শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পোশাক।

সৌদি আরব থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একদল কারিগরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ আমিনুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন সৌদি জুব্বা হাউজ নামক এই শিল্প-প্রতিষ্ঠানটি।

গুণগত মান এবং কাপড়ের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন তারা। প্রতিষ্ঠানটির বয়স মাত্র আটমাস হলেও এর মধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে শুভ-উদ্বোধন প্রতিষ্ঠানটির। ঢাকা ও তার আশপাশের ওলামায়ে কেরামের প্রথম পছন্দ এখন সৌদি জুব্বা হাউস। এখানে জুব্বা প্রেমীরা ভিড় জমাচ্ছেন সকাল-বিকাল। শুধু ক্রয়ের উদ্দেশ্যেই নয়, পরিদর্শনেও আসছেন অনেকে। বিশাল পরিসরের শোরুমটি ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

সৌদি জুব্বা হাউসের একাংশ

তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, উন্নত ও গুণগতমানের পোশাক তারা বিক্রি করছেন খুবই অল্প মূল্যে। যা অবিশ্বাস্য। ভাল মানের একটি সৌদি জুব্বার দাম বাংলা টাকায় তিন থেকে চার হাজার টাকা। যা আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য একটু বেশি।

কিন্তু সৌদি যুব্বা হাউজ হুবহু সেরকম জুব্বা বাজারজাত করছেন মাত্র আটশো থেকে বারোশো টাকার মধ্যে (সাইজের পার্থক্য)। কোয়ালিটি সৌদি জুব্বার তুলনায় কোন  অংশেই কম নয় এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন সৌদি জুব্বা হাউসের স্বত্তাধীকারী হাফেজ মুহাম্মাদ আমিনুর রহমান।

সৌদি জুব্বা হাউসের স্বত্তাধীকারী হাফেজ মুহাম্মাদ আমিনুর রহমান

সৌদি জুব্বা হাউস প্রতিষ্ঠার কারণ জানিয়ে তিনি আওয়ার ইসলামকে বলেন, আমাদের দেশ মুসলমানদের দেশ। এখনো মানুষের চলনে-বলনে ইসলামী রীতিনীতি ও পোশাক-আশাক। এদেশের মানুষ ধর্মকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসেন।

তারা খোদাভীরু। এজন্য তারা চেষ্টা করেন সর্বদাই সুন্নতি লেবাসে থাকতে। তাই সুন্নতি লেবাসটাকে মানুষের গায়ে গায়ে পড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা “সৌদি জুব্বা হাউস” প্রতিষ্ঠা করেছি।

“সুন্নতি লেবাস এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো এরাবিয়ান জুব্বা। আমাদের দেশে জুব্বা তৈরি হলেও সৌদি জুব্বার মত গুণগতমানের জুব্বা বর্তমানে বাজারে নেই। তাই যারা সৌদি জুব্বা পড়তে চান, তারা সরাসরি সৌদি থেকে জুব্বা এনে পরিধান করেন। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

ভাল মানের একটি সৌদি জুব্বার দাম বাংলা টাকায় তিন থেকে চার হাজার টাকা। যা আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য একটু বেশি। সৌদি জুব্বা হাউজ প্রতিষ্ঠা করেছি সেজন্যই।”

“আমরা উন্নত ও গুনগত এরাবিয়ান জুব্বা বাজারজাত করছি আটশো থেকে বারোশো টাকার মধ্যে। আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি আমাদের জুব্বার কোয়ালিটি সৌদি জুব্বার তুলনায় কোন অংশেই কম নয়।

মানুষের মাঝে সুন্নতি লেবাস কমদামে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমরা এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি।” বলছিলেন হাফেজ মুহাম্মাদ আমিনুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমার মাথায় একটা বিষয় ছিল- আমি সেলাই, কাপড় ইত্যাদি সর্বোচ্চ মানের দিবো।

আলহামদুলিল্লাহ এ পর্যন্ত দিয়েও আসছি। আমাদের এখানে এযাবৎ যারা এসেছেন এবং আসছেন সকলেই এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন আমাদের গুণগতমান বাজারের সেরা। আমরা মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

“আমাদের কোয়ালিটি বাজারের সেরা। একথায় জন্য বলব, আমাদের জুব্বার কাটিং মাস্টার দীর্ঘ ১৬ বছর সৌদি আরবের আল-বদর (জুব্বা তৈরীর সবচে’ বড় কম্পানি) প্রধান কাটিং মাস্টার হিসেবে ছিলেন।

আমরা তাকে এখানে নিয়ে এসেছি। এবং তাদের সাথে যে সকল কর্মীরা আরবে কাজ করছিলেন তাদেরকেও কিছুদিন আগে আমাদের এখানে নিয়োগ দিয়েছি।

সুতরাং এ কথা বলতে পারি একদল দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে আমাদের জুব্বা তৈরি হচ্ছে।

এমনকি, কোয়ালিটি ঠিক রাখার লক্ষ্যে মেশিন থেকে শুরু করে পেস্টিং পর্যন্ত আমরা সরাসরি সৌদি থেকে আমদানি করছি। কারণ আমারা এটাকে শুধুমাত্র ব্যবসার চোখে দেখি না, বরং সেবা-ও মনে করি। এজ্যই আমাদের এতো দায়বদ্ধতা।” যোগ করেন হাফেজ মুহাম্মাদ আমিনুর রহমান।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.