173223

মহিলা মাদরাসার পড়াশোনা যেমন হওয়া চাই!

তানভীর সিরাজ

আজকাল কিছু মহিলা মাদরাসার কথা কানে আসছে, যার আঁচলে সহশিক্ষার মিশ্রণ পাওয়া যাচ্ছে। মহিলা মাদরাসা বলতে যেখানে শুধুই মহিলা শিক্ষার্থী পড়ে, না কোনো যুবক, আর না কোনো কিশোর। তবে তাকেই কেবল মহিলা মাদরাসা বলে।

সংগত কারণে পর্দার ব্যবস্থাপনায় পুরুষ শিক্ষক থাকতে পারেন, তবে কখনোও মহিলা মাদরাসায় যুবক আর কিশোর শিক্ষার্থী থাকতে পারে না, অন্যথায় সেটি পরিপূর্ণ মহিলা মাদরাসা হতে পারে না।

আপনাদের সময়ের প্রতি যত্নবান হয়ে সংক্ষেপে মূলকথায় ফিরে আসছি।
আজকাল কিছু মহিলা মাদরাসা আছে যেখানে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত সহশিক্ষার ব্যবস্থা আছে। মাদরাসার নাম যেহেতু মহিলা মাদরাসা সেহেতু সেখানে কেবল থাকবে মেয়ে শিশু, কিশোরী, মহিলা আর নারী, এটিই নিয়ম ও বাস্তবতা।

একটা মেয়ে ৫ম শ্রেণীতে যখন পড়ে তখন তার বয়স হয় সাধারণত ১২-১৩, কারণ সে মূলপড়ালেখা শুরু করেছে প্রায় ৬ -৭ বছর বয়সে। আর ফিজিক্যাল গবেষণার তত্ত্ব মতে ভালো খাবারদাবারে থাকা একটি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠে ৯,১০-১২ বছর বয়সে।

অনেকসময় প্রাপ্তবয়সে উপনীত না হলেও দেখতে সাবালিকা মনে হয়, অন্যের চোখে লাগে। আর যখনই একজন মেয়ে সাবালিকা হয়ে উঠে তখনই তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এবং সময়ের সাথে মনোবাঞ্ছাও দেয় নানা উঁকিঝুঁকি।

একটা ছেলে ৫ম শ্রেণীতে যখন পড়ে তখন তার বয়স হয় সাধারণত ১২-১৩, কারণ সে মূলপড়ালেখা শুরু করেছে প্রায় ৬-৭ বছরে। একজন ছেলে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠে সাধারণ ১২/১৩-১৪ বছর বয়সে। আর ছেলে মানুষ মানেই বাহির-জগত তার ছোটকালের সাথী।

আর একজন মেয়ে শিশুও এমন যে, নানা বিনোদনে বাহির-জগতের সাথে ভালোই সখ্যতা গড়ে উঠে তার। এভাবে তাদের লজ্জার যে আবরণ তা দিন দিন লোপ পেতে থাকে।

আচ্ছা, বর্তমানে যেসব মহিলা মাদরাসায় ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত সহশিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে কি সম্পূর্ণ পর্দার ব্যবস্থা আছে? আবার অদিকে বালিক- বালিকা ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী একেঅপরকে সরাসরি দেখছে না? সেখানে পর্দার ব্যবস্থা নেই? অবশ্যই নেই, থাকবে কেন? কারণ সেটি তো আগাগোড়াই মহিলা মাদরাসা! এখানে সিলিবাস কোনো মুখ্য বিষয় নয়, আসল বিষয় হল বেপর্দা হওয়াটাই।

যারা এর ব্যবস্থা রেখেছেন তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, জনাব, আপনার উদ্দেশ্য হয়তো ভালো, তবে শয়তান যে মৃত সাপের ভাণ ধরে আছে, আর যেকোনো মুহূর্তে বেপর্দার চাহনিতে একে অপরকে দিয়ে ছুবল মারতে পারে। যার সম্পূর্ণ দায় আপনার ঘাড়েচাপাবে না?!

আপনি কি আল্লাহর ধরপাকড় থেকে এর জন্য রেহাই পেয়েছেন? যেখানে আপনি পর্দার মতো একটি ফরযকে তরক (ছেড়ে দিতে) করার জন্য সহযোগিতা করেছেন। বেপর্দার সয়লাবে সাহায্য করেছেন।

অথচ আজকাল কতশত এমন বয়সীদের মাঝে অঘটন ঘটছে! আল্লাহ্‌ আমাদের বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করেন।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.