177210

ভয়াবহ দূষণের কবলে ইরান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশ ও ভারতের মতো বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে শনিবার বলা হয়, মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খবর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার।

ইরানের বায়ুদূষণ বিষয়ক এক জরুরি কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ তাগিজাদেহ শুক্রবার এই ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ। তিনি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে তেহরান প্রদেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, দূষণের সূচক পরীক্ষা করে ফিরুজকুহ, দামাভান্দ ও পারদিস ছাড়া তেহরানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার শিশু ও কিশোরসহ সব বয়সের মানুষকেই বাসাবাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে গণমাধ্যমটিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই দেশটির বাতাসে ধূলার পরিমাণ আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে রের হওয়া অনেককেই দেখা যায় মাস্ক ব্যবহার করতে। এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া প্রাইভেটকার নিয়ে রাস্তায় না বেরোনোর আহ্বান জানিয়েছে তেহরানের নগর কর্তৃপক্ষ। এমনকি বাতিল করা হয়েছে সব ধরনের ক্রীড়ামূলক কার্যক্রম।

স্থানীয় একজন বলেন, অনেকেরই ধারণা যে, প্রাইভেটকারের ধোঁয়া থেকেই পরিবেশ অতিরিক্ত দূষিত হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় বাসের ধোঁয়া এর চেয়ে ৫০ গুণ বেশি পরিবেশকে দূষিত করছে।

যানবাহনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে যাওয়াই বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে পাতাল রেল বা বাসে ওঠা খুবই কষ্টসাধ্য, ফলে বাধ্য হয়েই অনেকে নিজস্ব বাহন ব্যবহার করে। আর এভাবেই যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, তেহরানের বায়ু দূষণের জন্য যানবাহন ও ভারী শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোয়াই অন্যতম কারণ। শহরটিকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস। আর এ কারণেই দূষণের তীব্রতাও এখানে বেশি। বায়ুদূষণ রোধে ইরান সরকার বিগত বছরগুলোতে নানা পদক্ষেপ নিলেও আবারও মারাত্মক দূষণের কবলে পড়েছে দেশটি।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.