177182

যোহর অথবা জুমার পূুর্বের চার রাকাত ছুটে গেলে করণীয় কী?

আওয়ার ইসলাম: দারুল উলুম দেওবন্দের অনলাইন ফতোয়ায় একজন জানতে চেয়েছেন যোহর বা জুমার নামাজের পূর্বের চার রাকাত ‍সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় কী?

এ প্রশ্নের জাবাবে দারুল উলুম দেওবন্দ ফতোয়া নম্বর ৩৪৪-২৯৪/M=০৩/১৪৪১ লিখেন যখন নামাজ শেষ হবে তখনও সে সুন্নত পড়ে নিতে পারবেন।

না হয় যোহর বা জুমার চার রাকাত সুন্নত যখন সময় হয় তখনই পড়ে নিতে পারবে। তাহতাবি আলাল মারাকি-২৩৯। সূত্র: দারুল উলুম দেওবন্দ।

وأما سنة الظہر القبلیة إذا صلیت بعدہ فإطلاق القضاء علیہا مجاز علی کل حال ، لأنہا مفعولة في وقتہا (طحطاوي علی المراقي: ۲۳۹)

জোহরের ফরজ নামাজের আগের চার রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা। কখনো জোহরের নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে, জোহরের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে আগের চার রাকাত সুন্নত আদায় করে নেওয়া কর্তব্য।

জোহরের নামাজের পূর্বাপর সুন্নত সম্পর্কে রাসুল (সা.) এর অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নত ও জোহরের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়তেন। (তিরমিজি, হাদিস নং: ১/৫৫০)

উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জোহরের পূর্বে এবং পরে চার রাকাত নামাজ আদায় করবে, জাহান্নামের আগুন আল্লাহ তায়ালা তার ওপর হারাম করে দিবেন। (তিরমিজি, হাদিস নং: ১/৫৫৩)

আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার বোন উম্মে হাবিবা (রা.) (প্রিয় নবীজীর সা. বিবি) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, ‘আমি স্বয়ং রাসুল (সা.) থেকে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জোহরের নামাজের পূর্বের এবং পরের চার রাকাত সুন্নত নামাজ এর পূর্ণ খেয়াল রাখবে (নিয়মিত আদায় করবে), মহান আল্লাহ তায়ালা তার থেকে জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন। (তিরমিজি, হাদিস নং: ১/৫৫৪)

ফজর ও জোহর নামাজের পূর্ববর্তী সুন্নত নামাজ সম্পর্কে আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, রাসুল (সা.) কখনই জোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত ও ফজরের পূর্বের দুই রাকাত সুন্নত ছাড়তেন না। (বুখারি, হাদিস নং: ১১৮২)

অনেক সময় সময় স্বল্পতার কারণে অনেকে জোহরের আগের সুন্নত ফরজের আগে পড়ে নিতে পারেন না। হাদিস এবং ফিকাহ-ফাতওয়ার বিভিন্ন গ্রন্থের আলোচনায় জানা যায়, কোনো ব্যক্তি যদি জোহরের নামাজের পূর্বের চার রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়তে না পারে, তাহলে সে ফরযের পরে সে চার রাকাত সুন্নাত পড়ে নিবে। কারণ হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) জোহরের আগের চার রাকাত সুন্নাতের এত গুরুত্ব দিতেন যে, কখনো যদি আগে পড়তে না পারতেন তাহলে ফরযের পরে হলেও পড়ে নিতেন।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) জোহরের আগের চার রাকাত সুন্নাত কখনো আগে পড়তে না পারলে ফরজের পরে তা পড়ে নিতেন। (তিরমিজি, হাদিস নং ২/২৯১)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) জোহরের আগের চার রাকাত সুন্নাত এবং ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত কখনো ছাড়তেন না। (বুখারি, হাদিস নং : ১১২৭; নাসায়ি, হাদিস নং : ১৭৫৭)

সুতরাং নিয়ম হলো, কেউ আগে পড়তে না পারলে পরে পড়ে নিবে। কোনো কোনো সময় জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নত পড়ার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে না।

এক্ষেত্রে সম্ভব হলে ফরজ নামাজের আগে দুই রাকাত পড়ে নিবে। তবে জোহরের পূর্বের চার রাকাতই যেহেতু সুন্নতে মুআক্কাদা, তাই কখনো জোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে জোহরের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে পূর্বের চার রাকাত সুন্নত আদায় করে নেওয়া উচিত। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৪২৬; ইবনু মাজাহ, হাদিস নং : ১১৫৮; আলমুহিতুল বুরহানি : ২/২৩২; ফাতহুল কাদির : ১/৪১৫; আদ্দুররুল মুখতার : ২/১২-১৩

৫ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে যেসব সুন্নত নামাজ রয়েছে তা নিম্নরূপ:-

ফজরের নামাজ দুই রাকাত সুন্নাত। যোহরের নামাজে মোট ছয় রাকাত সুন্নাত। আছরের নামাজে চার রাকাত সুন্নাত।
মাগরিবের নামাজে দুই রাকার সুন্নাত। ইশার নামাজে মোট ছয় রাকাত সুন্নাত। জুমার নামাজে মোট আট রাকাত সুন্নাত।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.