178232

মুফতি আমিনীর ছিল অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস: মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেছেন, ‘দুই বিচারপতি মুরতাদ’ এই সাহসী বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহসের পরিচয় দিয়ে গেছেন। মুফতি আমিনী সহজাত গুণাবলীর দ্বারা মানুষের মনে স্থায়ী আসন দখল করে নিয়েছিলেন। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যার ইন্তেকালে তার গুনগ্রাহী, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীদের কাঁদিয়েছে, ব্যথিত করেছে। আর শোকাহত করেছে তৌহিদী জগতকে। তার শুন্যতা পূরণ হবার নয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ৭ম ইন্তেকাল দিবস উপলক্ষ্যে পুরানা পল্টনের মাওলানা আতহার আলী রহ. মিলনায়তনে নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত ‘মুফতি আমিনীর কর্ম ও জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা নেজামী বলেন, মুফতি আমিনী শুধু শিক্ষকতার মধ্যেই আবদ্ধ না থেকে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বস্তরে- রাজনীতিতে, ওয়াজ-নসিহতেও লেখালেখিতে। ইসলামী ছাত্র সমাজের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর পদচারণা শুরু। পরে সম্পৃক্ত হয়েছেন খেলাফত আন্দোলনের সাথে। গড়ে তুলেছেন ইসলাম বিরোধী প্রতিরোধ মোর্চা সংক্ষেপে ইসলামী মোর্চা বর্তমানে খেলাফতে ইসলামী। যোগ দিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটে । চার দলীয় জোট গঠনে অবদান রেখেছেন।

তিনি বলেন, মুফতি আমিনী কর্মসূচী ভিত্তিক ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ, বাবরী মসজিদ লংমার্চ কমিটি , মাদ্রাসা কল্যাণ পরিষদ, ইসলামী অর্থনৈতিক পরিষদ, জমিয়তুল আনসারসহ আরো অনেক সংগঠন গড়ে তুলেছেন। এসব অরাজনৈতিক সংগঠনে সমমনা প্রায় সকল রাজনেতিক দল সম্পৃক্ত হয়েছে। এভাবে কর্মসূচী ভিত্তিক ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে মুফতি আমিনী তার বর্ণাঢ্য কমর্মময জীবনের গৌরবময় কীর্তির আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.। তার ইন্তেকালে ইসলামী আন্দোলনের প্রবহমান গতি পথে এক শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বললে অতিরঞ্জিন হবে না । এতে যুগ সৃষ্টিকারী স্নায়ূতে রক্ত সঞ্চালনকারী ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের পথ নির্দেশক হারিয়ে গেছে । তাই আমরা অভিভাবকহারা, মর্মাহত।

পরিণত বয়সে বিদায় নিলেও বেদনা-অপার, বিষন্নতায় আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত। তার ইনতেকালের পূর্ব পর্যন্ত তাকে যা দেখেছি, তাতে আমাদের এই বিশ্বাস জন্মেছে, কর্তব্যনিষ্ঠা তার সহজাত ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অক্ষুন্ন ছিল মুফতি আমিনীর প্রাণচাঞ্চল্য। বিদ্যানুরাগী মুফতি ফজলুল হক আমিনী তার নিজের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে স্থাপন করে গেছেন এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের পর ঘরে বসে পড়াশোনা করা ছিল তার সহজাত প্রবৃত্তি। প্রচুর কিতাবের সম্ভার তার ঘরে, বৈঠকখানায়। শেষ বয়সে ও তার পাঠ্যভ্যাসের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। তিনি প্রচুর পড়াশোনা করতেন।

মহাসচিব মুফতি আবদুল কাইয়ূমের সঞ্চালনায় মুফতি আমিনীর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করে এতে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্দুর রশিদ মজুমদার, অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ার, মুফতি এএনএম জিয়াউল হক মজুমদার, উপাধ্যক্ষ মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, মাওলানা একেএম আলরাফুল হক, মাওলানা ওবায়দুল হক, মাওলানা মাহবুবউল্লাহ, রবিউল ইসলাম মজুমদার, পীরজাদা সৈয়দ মুহা. আহছান, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা আবদুল বাতেন, মাওলানা আবুল হাছান তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কামালপাশা দোজা ও মুহা. নুরুজ্জামান প্রমূখ।

-এটি

ad