185881

কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের ভাবনায় মুজিব বর্ষ

রকিব মুহাম্মদ
বার্তা সম্পাদক

আগামী ১৭ মার্চ বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ২০২০-২১ সালকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপনে চলছে নানা প্রস্তুতি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ই মার্চ শুরু হবে মুজিব বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। তারপর বছরব্যাপী রয়েছে নানা আয়োজন। এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়ার প্রয়াস রয়েছে সরকারের। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনের নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ধর্মীয় মহলেও এ দিনটি ঘিরে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখা গেছে। মুজিব বর্ষের দিন ১০০ হাফেজ কুরআন খতম দেবে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

এছাড়াও ধর্মমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নানা কর্মসূ’চি নেওয়া হয়েছে। সেদিন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং দেশের শহীদের সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হবে। দোয়া শেষে ভোজের আয়োজন করা হবে। এছাড়া বছরব্যাপী বিভিন্ন প্রোগ্রাম করবে মন্ত্রণালয়।

তবে মুজিববর্ষ নিয়ে আলেমদের ভাবনা, কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা মুজিববর্ষ নিয়ে কী ভাবছে, তাদের কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা—বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে নানা মহলের।

এর আগে মুজিব বর্ষ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একটি সভায় বর্তমানে ছাত্রছাত্রী অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কখন মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় সেটা জানে না বলে অভিযোগও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা কওমি মাদরাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। অথচ এই মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস পড়ানো হয় না। এসব বিষয়ে তারা কিছু জানেও না। এ ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মুজিব বর্ষকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে —এ বিষয়ে জানতে  ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র সদস্য ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গ্র্যান্ড ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সরকারের আয়োজনে জনতার সার্বিক অংশগ্রহণে উদ্‌যাপিত হবে। মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনের ব্যাপারে প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব মত ও স্বাধীনতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামও নিজস্ব জায়গা থেকেই চিন্তা করবেন। ’

‘তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান কেউ ভুলতে পারবে না। সুতরাং, ওলামায়ে কেরামেরও উচিৎ— মুজিব বর্ষের তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে তাঁকে স্মরণ করা, তার জন্য দোয়া করা।’ যোগ করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

তবে কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের মুজিব বর্ষ পালন সংক্রান্ত কোন ধরণের সরকারি নির্দেশনা পাননি বলে জানান কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর ভারপ্রাপ্ত কো চেয়ারম্যান ও কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’-এর মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।

নির্দেশনা না থাকলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুজিব বর্ষ পালনের কোন কর্মসূচি আছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুজিব বর্ষ নিয়ে আমাদের কী পরিকল্পনা! আমরা রাজনীতি করি না, কিছু না; এ সমস্ত ব্যাপার নিয়ে আমাদের কোন পরিকল্পনা নাই।’

উল্লেখ্য, এরআগে ২০১৩ সালের দিকে একাধিক গণমাধ্যমে কওমি মাদরাসার সিলেবাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শেখ মুজিবরের জীবনি না থাকা নিয়ে প্রতিবেদন হওয়ার পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশ কওমি মাদারাস শিক্ষা বোর্ড বেফাক উদ্যোগ নিয়েছিল সংযোজনের।

তবে কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির পর কওমি মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, কওমি শিক্ষার্থীদেরকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নীতিবোধ ও সর্বজনীন মানবাধিকারের পড়ানোর দাবি উঠেছে।

আরএম/

ad