শিরোনাম :
বেহেশতী জেওর কি মাওলানা আশরাফ আলী থানবী’র লেখা?
জুলাই ০৪, ২০১৭ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

বেহেশতী জেওর আমাদের উপমহাদেশের একটি বহুল পরিচিত কিতাব। ঘরে ঘরে এ কিতাব বিদ্যমান। এ কিতাবের শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

আলোচনা চলছে, উপরোক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি কি হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ. নিজের লেখা?

অনেকে হাকীমুল উম্মত বলতে বুঝে থাকেন, উম্মতের হেকিমী ডাক্তার। আসলে বিষয়টি তা নয়। আশরাফ আলী থানবী রহ. এ উপমহাদেশের আল্লাহভোলা মানুষদের জন্য অন্তরের চিকিৎসক ছিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের পাবন্দ এক সাচ্চা আল্লাহর ওলী ছিলেন। তিনি কুরআন ও হাদীসের নূর দিয়ে গোনাহে জর্জরিত অন্তরকে আল্লাহ অভিমুখী করার চিকিৎসক ছিলেন। হেকিমী চিকিৎসক নন।

বেহেশতী জেওরের শেষাংশে যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করা আছে, এর অধিকাংশের নজীর সালাফের কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।

দেখুনঃ
১ আত্তিব্বুন নববী, ইবনুল কাইয়্যিমকৃত।
২ আত্তিব্বুন নববী, আবু নাঈম আলইস্ফাহানীকৃত।
৩ আলআমরাজ। ইমাম যিয়া আলমাকদিসীকৃত। ইত্যাদি।

এছাড়া লা-মাযহাবী আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খানের সংকলিত “আদদাউ ওয়াদ দাওয়া” গ্রন্থটিতে প্রায় একই টাইপের চিকিৎসা পদ্ধতি বিধৃত হয়েছে।

সুতরাং বেহেশতী জেওরের চিকিৎসা পদ্ধতির উপর অভিযোগ উত্থাপন করার আগে সালাফের উপর অভিযোগ উত্থাপন করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বেহেশতী জেওর হানাফী ফিক্বহের একটি গ্রহণযোগ্য কিতাব একথা সত্য। একটি ব্যাপক সমাদৃত গ্রন্থ তা’ও সত্য।

কিন্তু এর সংকলক হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ. কে নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক নয়।

কারণ, হযরত থানবী রহ. এর নিজের লেখা ও তার ভাগিনা হযরতুল আল্লাম মুফতী যফর আহমাদ উসমানী রহ. এর লিখনী ভিন্ন কথাই প্রমাণ করে।

মাকতাবাতুল বুশরা প্রকাশনী করাচি পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত বেহেশতী গাওহারের রোযা অধ্যায় এর ১৬৭ পৃষ্ঠার নিচে লিখিত একটি টিকায় হযরত যফর আহমাদ উসমানী রহঃ পরিস্কার লিখেছেনঃ

مولوى احمد على صاحب مؤلف بہشتی زیور অর্থাৎ মৌলভী আহমাদ আলী সাহেব বেহেশতী জেওরের সংকলক। [বেহেশতী গাওহার, রোযা অধ্যায়, ১৬৭ পৃষ্ঠা, প্রকাশনী, মাকতাবাতুল বুশরা, করাচি, পাকিস্তান]

দেখুন কিতাবের স্ক্রিনশট

ঠিক একই টিকা সংযোজিত হয়েছে আশরাফ আলী থানবী রহ. এর ফাতওয়া গ্রন্থ “ইমদাদুল ফাতাওয়া” যাকারিয়া বুক ডিপো দেওবন্দ ছাপায় ২য় খন্ডের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় এবং দারুল উলুম করাচি প্রকাশনায় ২য় খন্ডের ১৬৬ পৃষ্ঠায়। কিতাবটি পাকিস্তানের মুফতীয়ে আজম মুফতী শফী রহ. এর তারতীবক্রমে ছেপেছে।

যা পরিস্কার প্রমাণ করে বেহেশতী জেওরের মূল সংকলক হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ. নন। বরং “আহমদ আলী” নামের একজন মাওলানা সাহেব।

এবার আরো স্পষ্ট বক্তব্য দেখুন খোদ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. থেকে।

ইমদাদুল ফাতাওয়ার দ্বিতীয় খন্ডের রোযা অধ্যায়ে বেহেশতী জেওরে উদ্ধৃত রোযার কাফফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

সে প্রশ্নের জবাবে থানবী রহ. লিখেন-

بہشتی زیور کی سند میں تو اس وقت کوئ روایت نہیں ملی مولوی احمد علی صاحب مرحوم نے معلوم نہیں وہ مسئلہ کہا سے لکها

বেহেশতী জেওরে উল্লেখিত মাসআলার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোন বর্ণনা পাইনি। জানা নেই এ মাসআলা মাওলানা আহমাদ আলী কোত্থেকে লিখেছেন! [ইমদাদুল ফাতওয়া, যাকারিয়া বুক ডিপো দেওবন্দ, দ্বিতীয় খন্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা, মাকতাবা দারুল উলুম করাচি, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৬]

ইমদাদুল ফাতাওয়ার স্ক্রিনশট

হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ. এর নিজের বক্তব্য এবং হযরত যফর আহমাদ উসমানী রহঃ.এর বক্তব্য অনুপাতে একথা পরিস্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে, বেহেশতী জেওরের সংকলক আশরাফ আলী থানবী রহ. নয়। বরং “আহমদ আলী” নামে একজন মাওলানা এ কিতাবের আসল সংকলক।

কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবী রহ. এর নাম গলদ মশহুর হয়ে গেছে।

সুতরাং এ কিতাবে বর্ণিত কোন ভুল তথ্যের জন্য আশরাফ আলী থানবী রহ. কে দোষারোপ করা অনুচিত।

উত্তর দিয়েছেন মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

সূত্র: আহলেহক মিডিয়া ডটকম

সর্বশেষ সব সংবাদ