মেলায় মাওলানা মিছবাহ’র দুই বই; প্রথম দিনেই বিক্রি ১ হাজার কপি!
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম: মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ৷ দেশের একজন খ্যাতিমান ওয়ায়েজ৷ প্রতি বছর সারাদেশে প্রায় ৩০০ মাহফিল করে থাকেন তিনি৷

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় রয়েছে তার প্রতিষ্ঠিত মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার৷ মাহফিলের ব্যস্ততার পাশাপাশি মাদরাসায়ও সময় দেন নিয়মিত৷

শত ব্যস্ততার মাঝেও লেখালেখি করেন। লেখালেখি তার পেশা না হলেও নেশাই বলা চলে। তার লেখালেখির প্রধান স্থান ফেসবুক। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেন। তরুণ সমাজকে জাগিয়ে তোলেন তার লেখার মাধ্যমে।

২০১৬ সালে তার প্রথম বই বের হয়। নাম, পাশ্চাত্য সভ্যতার বিপরীতে নববী আদর্শ। বইটি ব্যাপক সাড়া ফেলে সারাদেশে। বিক্রি হয় কয়েক হাজার কপি। কিছু দিন আগে সে বইয়ের তৃতীয় সংস্করণ বের হয়েছে।

চলমান অমর একুশে বই মেলাকে সামনে রেখে তিনি এক সঙ্গে দুটি বই লিখেছেন। ইতোমধ্যেই বই দুইটি বাজারে এসেছে।

বইগুলো হচ্ছে- ‘বদলে যাও বদলে দাও’ ও ‘রোহিঙ্গা শিবিরের অলিগলি’। পাওয়া যাবে অন্যধারা পাবলিকেশন্স স্টল নং ১৩০, বাবুই (৪০৫) ও নবসাহিত্য প্রকাশনীর (৬২৪) স্টলে।

বই দুটি প্রকাশ করেছে নবসাহিত্য প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন ইবরাহীম কোব্বাদি। ‘বদলে যাও বদলে দাও’র মূল্য ৩০০ টাকা এবং ‘রোহিঙ্গা শিবিরের অলিগলি’র মূল্য ২০০ টাকা।

বিশ্বমানবতার মুক্তি, সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামের ভূমিকা কী, পৃথিবীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মূলত কারা দায়ী- এসব নিয়েই ‘বদলে যাও বদলে দাও’। আর রোহিঙ্গা শিবিরের অভিজ্ঞতা, রোহিঙ্গা শিবিরে আলেমদের সেবা, রোহিঙ্গাদের হালচাল নিয়ে লেখা হয়েছে ‘রোহিঙ্গা শিবিরের অলিগলি’।

বই প্রকাশের আনন্দঘন মুহূর্তে লেখক কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের সাথে। সংক্ষেপে  জানিয়েছেন তার বই সম্পর্কে।

একসঙ্গে আপনার দুটি বই প্রকাশ হলো৷ অনুভূতি কী?

এ অক অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।

এক সঙ্গে দুই বই প্রকাশ করতে গিয়ে কেমন পরিশ্রম করতে হয়েছে?

একটি বই ছেপে আসতে যে কতোটা পরিশ্রম করতে হয় তা কেবল একজন লেখকই ভালো জানেন। বই লেখাকালীন সময়ে পৃথিবীর অন্যসব অবহেলার পাত্র হয়ে যায় লেখকের কাছে। মাথায় তখন শুধু বই আর বই।

এমন কি স্ত্রী-সন্তানরাও অভিযোগ তুলতে শুরু করে। বাসায় গেলে বলে আপনি বই নিয়েই পড়ে থাকেন, আমাদের কারোর দরকার নেই। খাওয়া, ঘুম, গোসল, কোনোরিছুর রুটিনই ঠিক থাকে না। তবে সবশেষে বই ছেপে এলে লেখকের চেয়ে সুখী মানুষ আর কাউকে পাবেন না।

বদলে যাও বদলে দাও এটা তো একটা পত্রিকার স্লোগান৷ এমন নামে কেন বই করলেন?

কার স্লোগান সেটি দেখিনি। আমার মায়ের ভাষা বাংলা। আমারও তাই। বইয়ের নামটিও দিয়েছি বাংলায়। আমি মনে প্রত্যেকেই মানুষেরই স্লোগানটি দেবার অধিকার আছে।

আমার লিখনী দিয়ে মানুষের মানসিক চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি বদলে দেবার আহবান করেছি। আহবান করেছি নিজেকেও বদলে ফেলার। তাই এ নামটি নির্বাচন করেছি।

বাকি নাম সিলেকশনের সময় এটি যে অন্য কারও স্লোগান এরকমটা মাথায় আসেনি। তাই বিষয়টা ভাবাও হয়নি।

পাঠকের চাহিদা কেমন দেখছেন?

নবসাহিত্য প্রকাশনীর ফজলুর রহমান বকুল ভাই জানালেন বদলে যাও বদলে দাও প্রকাশের প্রথম দিনেই ১ হাজার কপি সেল হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরের অলিগলি এখনও স্টলে ওঠেনি। আশা করি দুটি বইই পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

 

 তরুণ লেখকদের উদ্দেশে কোন ম্যাসেজটি দিতে চান?

বেশি বেশি লিখুন। মাতৃভাষায় ফুটিয়ে তুলুন ইসলামের সৌন্দর্য। সমাজের সব অসঙ্গতি তুলে ধরুন আপনার লিখনীতে। তবে লেখক হতে গিয়ে নিজের সংস্কৃতি, ধর্ম ও ঐতিহ্যকে যেনো পায়ে না দলি।

আমার যেনো ওরা না হয়ে যাই। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেই সর্বমহলে আধিপত্ত বিস্তার করুন।

আর পাঠকদের প্রতি আহ্বান থাকবে লেখক ও বিষয় দেখে বই সিলেক্ট করুন। বেশি বেশি বই পড়ুন। অন্যদের বই হাদিয়া দিন। লেখকদের উৎসাহ দিন। অন্যদের বই পড়তে উৎসাহ প্রদান করুন।

বই দুটি ঘরে বসে কিনতে অর্ডার করুন রকমারিতে