125618

সিলেটে সৌন্দর্যময় ৫ রিসোর্ট

আব্দুল্লাহ আফফান:  সব জায়গায় শীত ভালো ভাবে না পরলেও অনেক জায়গায় শীত বেশ ভালো ভাবেই পড়েছে। পরীক্ষাও শেষ, সামনে বিশাল বন্ধ। এসময় ঘুরতে বেরুবার কথা অনেকের মাথায়ই ঘুর ঘুর করছে। ঘুরতে যাওয়া যায় চা প্রেমীদের স্বর্গরাজ্য সিলেটের শ্রীমঙ্গলে।

চা বাগান, পাহাড়, ঝর্ণা, এ তিন জিনিস দেখা পাওয়া যাবে সেখানে। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য এক উপাখ্যান। এখানকার ছোট-বড় চা বাগানগুলো যেন সবুজের আচ্ছাদনে গড়ে তুলেছে এক প্রাকৃতিক ভূ-স্বর্গ।

কোথায়ও ঘুরতে বেরুবার কথা মনে হলে আগে আসে থাকার কথা। সারাদিন ঘুরে-বেড়ানো, হইহল্লার পর একদণ্ড বিশ্রাম না নিলে কি হয়। থাকার জায়গা মানেই কোন হোটেল বা রিসোর্ট। সিলেটে যেমন রয়েছে ঘুরার জায়গা তেমনি ছোট, বড়, মাঝারি ধরনের হোটেল, রিসোর্টও রয়েছে। সাধ্যের মধ্যে খুজে পাওয়া যাবে পছন্দের রিসোর্ট।

১.গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ: এটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থীত। এটি চা বাগানে ঘেরা প্রায় ১৩.২ একর জায়গার উপর বানানো হয়েছে রিসোর্টটি। এখানে মোট ১৩৫টি কক্ষ রয়েছে।

যা আছে রিসোর্টে: আউটডোর স্পোর্টস হিসেবে রয়েছে গলফ, টেবিল টেনিস, বেডসিন্টন, বাস্কেটবল, সুইুমং পুল, স্পা, জিম, লাইব্রেরী, শিশুদের জন্য রয়েছে গেম সেন্টার। ২৪,০০০টাকা থেকে শুরু করে ৭৭,৬০০টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের রুম রয়েছে।

২.দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা: মৌলভীবাজারের গিয়াসনগরে। সুদৃশ্য লেক এবং পাহাড়ের ওপর সবুজে পরিবেষ্টত এই রিসোর্টটি অবকাশ যাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান।

এই রিসোর্টটি প্রায় ১০০০ ফুট সমান একটি লেক দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং পাহাড়ের ওপর সবুজ বনানীতে অবস্থিত। এখানে হোটেল এবং ভিলা দুই ধরনেরই ব্যবস্থা আছে। হোটেলে ৯,৬০০টাকা থেকে শুরু করে ১২,০০০টাকায় রুম পাওয়া যাবে।

আর ভিলায় ১৬,০০০টাকা থেকে মুরু করে ৬০,০০০টাকা
যা আছে রিসোর্টে: কনফারেন্স রুম, টেনিস ও ব্যাটমিন্টন কোর্ট, বারবিকিউ এর ব্যবস্থা, কিডস জোন, গেম জোন, ফিসিং এর ব্যবস্থা, স্পা, সুইমিং পুল, জিম, সাইকেল রাইডিং

৩.নভেম ইকো রিসোর্ট: একেবারেই নিরিবিলি এলাকায় ছোট্ট দুটো টিলার উপর গড়ে উঠেছে এই রিসোর্টটি। নানা কারণে রিসোর্টটি পর্যটকদের খুব প্রিয়। সবুজ পাহাড় ঘেরা মাঠটিতে রিসোর্টের কিচেন ও খাবার ঘর।

দুই টিলার মাঝে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ব্রীজ। এই ব্রীজটিই রিসোর্টটির ‘ট্রেড মার্ক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রীজটিতে উঠে টিলার গায়ে চমৎকার কাঠের ব্রীজ পার হয়ে যেতে হবে মূল রিসোর্টের থাকার অংশে।

বিভিন্ন ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে রিসোর্টটিতে। (১)কাঠের কটেজ দুটো সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে প্রতিটি রুমের সাথেই রয়েছে ছোট্ট প্রাইভেট সুইমিং পুল। রিসোর্টে আরও একটি সবার ব্যবহার যোগ্য সুইমিংপুল রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব বার-বি-কিউ করার জায়গা।

সংগত কারণেই কটেজের ভাড়া সবচেয়ে বেশি, প্রতি রুমের নিয়মিত ভাড়া ১১,০০০ টাকা। তাতে দুটো কাপল বেড রয়েছে কাঠের তৈরী।

(২)মাড হাউজ বলে মাটি দিয়ে তৈরী একটি রুম আছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরের সাথে মিল রেখে বানানো এটি তৈরী করা হয়েছে। তবে বাথরুম আর ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাব সবই আধুনিক। এই রুমের ভাড়া ৫,৫০০ টাকা। তাতে থাকা যাবে দুজন। রুমে যথেষ্ট জায়গা আছে, চাইলে চার্জ দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিয়েও থাকা যাবে।

(৩)ডুপ্লেক্স ফ্যামিলি ভিলা। এ ভিলার দুই তলায় মোট ৪টি বেড আছে যার মধ্যে ২টি ডাবল বেড আর ৩টি সিংগেল বেড, সাতজন সহজেই তাতে থাকতে পারবেন। এর ভাড়া ১৭,৫০০ টাকা সাতজনের জন্য। সামনেই সুইমিংপুল, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, আর রেস্টুরেন্ট আছে।

ভাড়া নির্ভর কাপল ও ফ্যামিলি রুম ভেদে ৫,৫০০ থেকে ৮,৫০০ টাকা। (৪)এছাড়াও রিসোর্টের আরেকটি টিলার উপর রয়েছে চমৎকার একটি কাপল ভিলা। এর নিয়মিত ভাড়া ৬,০০০ টাকা। তাতে থাকা যাবে দুজন।

রিসোর্টে কমন একটি বেশ বড়সড় সুইমিংপুল আছে। আছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট, বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থা, ভাড়া নিতে পারবেন সাইকেলও। কর্পোরেট অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত কনফারেন্স রুম।

৪.লেমন গার্ডেন রিসোর্ট: শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া উদ্যানের পাশেই এই রিসোর্টটির অবস্থান। লাউয়াছড়া প্রান্ত ঘেঁষা মেঠো পথে এগোতে থাকলেই,পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা পথে সাইনবোর্ডের ডিরেকশন আপনাকে পৌঁছে দিবে লেমন গার্ডেন রিসোর্টে।

ছোট ছোট টিলায় লেবু বাগান। তার মাঝে নিরিবিলি শান্তির ছায়ামাখা রিসোর্টটি। এখানে সম্পূর্ণ পাহাড়ি পরিবেশ। উঁচু-নিচু সু বিশাল লেবু বাগানের গাছ ভরা ঝুলন্ত লেবু, এখানে আরও দেখবেন শত-শত কাঁঠাল গাছ, কলাগাছ, পেয়ারা, জাম্বুরা, আতাফল, জামরুল, কদবেল, আনারসের সুবিশাল বাগান, নারিকেল, আমড়া, কামরাঙা, বেল,পেঁপে,পাহাড়ীডালিম, মালটা, জলপাই, বড়ইসহ আরও কত ধরনের দেশী ফলের দুর্লভ গাছ-গাছালীর সমাহার।

কয়েকটি ফোয়ারা আর নিপুণ যত্নে গড়ে তোলা তাদের ফুলের বাগানে দেশি ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি ফুলের সংগ্রহ। বাগানের বসবার জন্য রয়েছে ছাউনি দেওয়া চেয়ার টেবিল আর বড় দোলনা। পাহাড়ি স্বকীয়তা সম্পূর্ণ বজায় রেখে ৪০ টির মত দৃষ্টি নন্দন পাহাড়ি রুম/কটেজ আপনার স্বপ্নের রাত্রি যাপনকে স্মরণীয় করে রাখবে। এখানে আপনি পাবেন আপনার সাধ্য আর পছন্দ অনুযায়ী তিন থেকে চার ধরনের রুম কিংবা কটেজ। হানিমুন কটেজ, এক্সিকিউটিভ কটেজ অথবা অনেক বন্ধু মিলে থাকবার জন্য বাংলো।

অতিথিদের রুচি, পছন্দ অনুসারে বাংলো অথবা কটেজের ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া। তাদের মোট চৌদ্দটি রুম রয়েছে। ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। সবধরনের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। তবে খাবার পেতে হলে অন্তত এক ঘণ্টা আগে খাবারের অর্ডার দিতে হবে আপনাকে।

৫.শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট: শ্রীমঙ্গল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশে ভাড়াউড়া চা বাগান সংলগ্ন ২৫.৮৩ একর জায়গার ওপর এই টি রিসোর্ট অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কয়েকটি টিলা ও চা বাগান নিয়ে এই রিসোর্ট তৈরী হয়েছে।

মূলত পুরানো একটি বৃটিশ বাংলোকে রিসোর্টে রূপান্তরিত করা হয়েছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই রিসোর্টে ১টি অফিস ভবন, ২টি ভিআইপি লাউঞ্জ, ১৪টি বাংলো, ৯টি স্টাফ হাউজ, ৫০টি শ্রমিক সেইড, ২টি পাম্প হাউজ, ১টি পানির ট্যাংক, ১টি জেনারেটার হাউজ ও ১টি জ্বালানি স্টোরসহ একটি বিদেশী রেস্ট হাউজের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

পর্যটকদের জন্য সুইমিং পুলসহ ১টি অত্যাধুনিক টেনিস কোর্ট ও একটি বেডমিন্টন কোর্টও রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি কটেজে উন্নত মানের ড্রইং, ডাইনিং, কিচেন, স্টোর রুম, ফ্রিজ রুম, বাথরুম সহ ঠান্ডা ও গরম জলের ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত টি-রিসোর্টে ১৪টি কটেজ রয়েছে। ১২টি কটেজ ২ বেড রুমের এবং দুটি কটেজ ৩ বেড রুমের। কটেজের ভাড়া যথাক্রমে ৪০২৫ টাকা ও ৫৭৭৫ টাকা।

ad

পাঠকের মতামত

২ responses to “প্রচণ্ড তাপদাহে স্বস্তির খবর দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর”

  1. junaid adib says:

    কোর্সের কথা আগে জানলে! অংসগ্রহণ করতাম। ধন্যবাদ আওয়ার ইসলাম।

  2. মো তাওফিকুল ইসলাম says:

    শয়তানের মত শিরোনাম কেন? মুফতি মিজান কি দেশে একটাই? শিরোনাম লেখার যোগ্যতা নাই আবার সাংবাদিকতা করো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *