141695

যে ১০ খাবার ক্যান্সারে আক্রান্তের আশঙ্কা বাড়ায়!

তামিম আহমেদ
ফিচার রাইটার

ক্যান্সার রোগ হওয়ার পিছনে যে যে কারণগুলি দায়ি থাকে সেগুলি হল জিনগত সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ, বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান প্রভৃতি।

তাই তো চিকিৎসকেরা বলে থাকেন, ডায়েটের পাশপাশি জীবনযাত্রায় যদি পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে ক্যান্সার রোগের প্রকোপকে অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব।

নিজেকে ও নিজের পরিবারকে ক্যান্সারের হাত থেকে দূরে রাখতে জেনে রাখুন কোন খাবারগুলো গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

১. প্রক্রিয়াজাত মাংস:  প্রক্রিয়াজাত মাংস অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকার ‘ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই’য়ের তত্ত্বাবধানে হওয়া এক গবেষণা অনুযায়ী, এসব খাবারে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে যেগুলি ‘কারসিনোজেন’। অর্থাৎ এক প্রকার বিষ, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

২. চাষ করা মাছ: বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছেদের অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিকভাবে বড় করা হয়। সেই সঙ্গে চাষের সময় মাছেদের নানাবিধ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবিদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে নানা ধরনের জীবণুরোধকারী ওষুধ, কীটনাষক ও অন্যান্য ‘কারসিনোজেনিক’ রাসায়নিক উপাদান ব্যাবহার করা হয়। ফলে এই ধরনের মাছ খেলে শরীরে ওইসব কার্সিনোজেনিক উপাদানের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

৩. প্রসেসড খাবার: প্রতিদিন আমাদের প্রত্যেককের সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় বিভিন্ন ধরণের প্রসেসড খাবার। চিপস, ক্যান্ডি, সোডা, ফ্রোজেন খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডলস এর মতো আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তো বটেই, সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় ক্যান্সারের ঝুঁকিও।

৪. ক্যানড ফুড: টিনজাত খাবারকে দীর্ধদিন তাজা রাখতে এমন কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। শুধু তাই নয় এমন খাবারের স্বাদ যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, তার জন্য অনেক রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এত মাত্রায় রাসায়নিক দেওয়া খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের ক্ষয় হতে শুরু করে দেয়।

৫. লবন বেশি রয়েছে এমন খাবার এবং স্মোক ফুড: এই ধরনের খাবারে প্রচুর মাত্রায় প্রিজারভেটিভ, যেমন, ‘নাইট্রেইট’ থাকে। দীর্ঘদিন এসব খাবার খেলে শরীরে প্রিজারভেটিভের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে একসময় গিয়ে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো কোষের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ক্রমেই ক্যান্সার রোগের প্রথকে প্রশস্থ করে।

৬. মাইক্রোওয়েভ তৈরি পপকর্ন: প্যাকেট থেকে শুরু করে খাবারটি বানানোর পদ্ধিত, সব কিছুই এত অবৈজ্ঞানিক যে এমন খাবার খেলে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যে যে উপাদানগুলি ব্য়বহার করে এমন ধরনের পপকর্ন বানানো হয়, সেগুলি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নানাভাবে শরীরের ক্ষয় করতে শুরু করে।

৭. পরিশোধিত সাদা আটা: আটাকে যখন পরিশোধিত করা হয় তখন প্রায় তার সব পুষ্টিগুণই নষ্ট হয়ে যায়। পরে একে ক্লোরিন গ্যাসের সাহায্যে ব্লিচ করা হয়, যাতে ক্রেতার চোখে আকর্ষণীয় লাগে। এই ধরনের আটার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রাও অনেক বেশি। অর্থাৎ শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দিতে পারে এমন খাবার। সেই সঙ্গে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

৮. চিনিযুক্ত পানীয়: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও সোডা পানের ফলে শুধুমাত্র ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় না, সঙ্গে ক্যান্সার দেখা দেওয়ার সম্ভবনাও বৃদ্ধি পায়। মাত্রাতিরিক্ত চিনি আমাদের অন্ত্র ও কিডনির উপর চাপ তৈরি করে। যা পক্ষান্তরে ক্যান্সারের জন্য দায়ি।

৯. প্লাস্টিক কন্টেইনারে থাকা খাবার:  খাবার সংরক্ষণের জন্য আমরা প্লাস্টিকের বিভিন্ন আকারের কন্টেইনার ব্যবহার করি। এমনকি এই সকল কন্টেইনারে রেখেই মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করি। এভাবেই প্লাস্টিকে থাকা ক্যান্সার তৈরিকারী উপাদান খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। যা হরমোনের সমস্যা তৈরি করার পাশপাশি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে দেয় শরীরে। এ কারণেই প্লাস্টিকের পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিল কিংবা কাঁচের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

১০. আলুর চিপস: “হাইড্রোজেনেইটেড ভেজিটেবল অয়েল”এ ভাজা এই সব চিপসে প্রচুর মাত্রায় লবণ থাকে, যা ওজন বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করে। সেই সঙ্গে আরও সব মরণ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

One response to “আল্লাহর সঙ্গে একান্তে আলাপন; ইতিকাফই মহান সুযোগ”

  1. Cecilstomi says:

    JWallet – платежный сервис нового поколения https://jwallet.cc/?ref=4900 Самые низкие %% за переводы. Банковские переводы в России, Украине и др. странах. WebMoney. Обменный сервис. Заработок

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *