144070

শাহজালাল বিমানবন্দরে মশার উপদ্রব নিয়ে হাইকোর্টে রুল

আওয়ার ইসলাম: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী, দর্শনার্থীসহ অন্যান্যদের মশার উৎপাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং মশার আক্রমণ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত মন্তব্যে বলেছেন, এরকম একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যদি মশার উৎপাত থাকে, তবে বহির্বিশ্বে আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তিই খারাপ হবে।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ (১২ মার্চ) মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সচিব, বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিমানবন্দর সংলগ্ন ওয়ার্ড কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ তানভির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

তানভির আহমেদ বলেন, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বছরে ৫০ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। তাদের মধ্যে ৪০ লাখই বিদেশি। ফলে এরকম একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যদি মশার উৎপাত থাকে, তবে বহির্বিশ্বে আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তিই খারাপ হবে, আদালতও এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া জ্বর মশার কামড়েই হয়। এমনকি ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া জ্বরে প্রাণহানিও ঘটেছে। আমাদের সংবিধান নাগরিকের জান, মাল রক্ষার বিধান দিয়েছে। ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষা করাই রাষ্ট্রের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। ফলে রিট আবেদনে মশার উৎপাত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ রুল চাওয়া হলেও আদালত শুধু রুল জারি করেছেন।

গত ২৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তার পরেই এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টদের উকিল নোটিস দেন আইনজীবী মুহাম্মদ তানভির আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে এবং মশা নিধনের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় ৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেই রিট আবেদনটির শুনানি নিয়েই আদালতে এ রুল জারি করেন।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *