148974

‘ভবিষ্যতে নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের নীরব থাকার অনুরোধ করছি’

উবায়দুল্লাহ সাআদ 
বিশেষ প্রতিবেদক

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা বাতিল করেছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। একই অভিযোগে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-এর (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) চলমান ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেশকাত জামাতের (ফজিলত) পরীক্ষাও বাতিল করা হয় ।

দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা বাতিল করায় ছাত্রদের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে পরীক্ষার্থীদের।  সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কী করণীয় সে সম্পর্কে আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুরের মুহাদ্দিস মাওলানা মামুনুল হক

তিনি বলেন, “ছাত্ররা দীর্ঘ একটি বছর ব্যাপক পড়াশুনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং একটা পরীক্ষা শেষ হওয়ার অর্থ, তাদের মাথা থেকে একটা কঠিন বোঝা সরে যাওয়া। যখন পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত আসল, তখন প্রায় অর্ধেক বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পথে। এ সময়ে পরীক্ষা বাতিল হওয়া এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হওয়া, শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা কষ্টকর, একজন ছাত্র হিসেবে আমি তা অনুভব করতে পারছি।”

“কিন্তু অন্ত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় বিষয়টি যতই কষ্টকর হোক না কেন, কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার বৃহত্তর স্বার্থ এবং আমাদের আগামীর ভবিষ্যত প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যে আমি সকল ছাত্রদের এই বিষয়টাকে সহজভাবে গ্রহণ করতে বলব।  প্রকৃত জটিলতা এবং সমস্যাকে তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করবে এটা তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে।” বললেন মাওলানা মামুনুল হক।

পরীক্ষার নতুন সময়সূচির কারণে ছাত্রদের পড়ালেখার প্রতি মনযোগের বিচ্যুতে ঘটতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,আশা করছি, ছাত্রদের মনযোগের বিচ্যুতি ঘটবে না। যদি তারা ধৈর্য হারা না হয়, সেই সাথে তাদের চেষ্টা এবং পড়াশুনা চালিয়ে যায়, তবে তাদের জন্য ভালো ছাড়া খারাপ কিছু হবে বলে মনে করিছ না।

পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করা বা কোন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার বিষয়ে মাওলানা মামুন বলেন, আমি মানছি যে, পরীক্ষা প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পথে এমন সিন্ধান্ত নেওয়ায়  তাদের কষ্ট এবং বিড়ম্বনা একটু বেশীই হবে। তথাপিও কওমির আগামী প্রজন্মের স্বার্থে এ বিষয়টির বিপক্ষে-বিপরীতে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করা, কোন ক্ষোভ প্রকাশ না করা এবং এটা নিয়ে অযাচিত কোন বাদানুবাদে জড়িয়ে না পড়ার জন্যে আমি আমার প্রিয় ছাত্র ভাইদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রশ্নফাঁস কিভাবে হতে পারে- তা জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ এ আলেম বলেন,  “দেখুন পরীক্ষার বিষয়টি হাজার হাজার মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এখানে কোন একটি জায়গায় সামান্য খেয়ানতের বিষয় থাকতে পারে বরে আমার মনে হয়। হয়তো একটি মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘৃণ্য কাজটি করে আমানতের খেয়ানত করেছে। আবার কারও দূর্বলতা কিংবা সরলতার সুযোগ নিয়ে এ কাজটি করা হতে পারে। হাজার মানুষের সংশ্লিষ্টতার কারণে এখানে গোপনীয়তা রক্ষা করা সত্যিই খুবি কঠিন।”

বেফাক ও হাইয়ার নেতৃবৃন্দের প্রতি তিনি মাওলানা মামুনুল হক আশা রেখে জানান, আমি আমার শ্রদ্ধেয় মুরুব্বীদের কাছে আশা করছি, এবারের অনাকাঙ্খিত ঘটনার পুনবৃত্তি যেন না ঘটে। সেই সাথে আগামী দিনে বিকল্প ব্যবস্থা এবং আরো গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং প্রশ্নেপত্রের নিরাপত্তা রক্ষা করার ক্ষেত্রে তারা অধিকতর সজাগ হবেন। পাশাপাশি কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখবেন।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ বছরে শিক্ষার্থীদের এ ত্যাগ এবং কুরবানী অবশ্যই আমাদের কওমি মাদরাসার ভবিষ্যতেের নিরাপত্তার জন্যে আল্লার কাছে কবুল হবে।

প্রসঙ্গত,  প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসে নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে চলমান দাওরায়ে হাদিসের সকল বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে এবং আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা শুরু হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ এ অথরিটি। পাঁচ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- তদন্ত কমিটির আহ্বাবায়ক হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য মুফতি রুহুল আমিন, সদস্য মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ও মাওলানা মাহফুজুল হক।

এর আগে, ৮ এপ্রিল থেকে সারাদেশে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে দাওরায়ে হাদীস ও বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) এর ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু হয়।

আরএম/

 

ad