154060

প্রশংসায় ভাসছেন মুফতী হিফজুর রহমান

জুবায়ের রশীদ

আল্লামা মুফতী হিফজুর রহমান। দেশের খ্যাতনামা মুফতী। প্রাজ্ঞ আলেম। মুহাদ্দিস। ইসলাম বিষয়ক লেখক। রিজাল শাস্ত্রের বরেণ্য গবেষক। আপন কর্ম ও সৃষ্টিশীলতায় যিনি কিংবদন্তি। প্রবল নিভৃতচারিতা তাকে আড়াল করে রাখলেও তিনি কালজয়ী। বাংলার বরিত মনীষা।

রোজার দিনের এক দুপুরে উপস্থিত হলাম তার কামরায়। চারদিকে কিতাবের ছড়াছড়ি। নতুন ও পুরনো কিতাবের ঘ্রাণ এসে নাকে বিঁধল। সারিসারি কিতাবের ছায়ায় বসে আছেন তিনি। কিতাব আর আর কুতুবের অপূর্ব সম্মিলন যেন। নিবিষ্ট চিত্তে লিখে চলছেন। সালাম মুসাফাহা শেষে পাশে বসালেন। থেমে থেমে কথা বলছেন। কথার ফাঁকে কিবোর্ডে লিখে চলছেন। সময় যেন একদমই নষ্ট না হয় সেদিকে তীব্র খেয়াল।

জানতে চাইলাম, কোন কিতাবের কাজ করছেন। বললেন, নতুন একটি কিতাবের কাজ শেষ হয়েছে, ‘তারাজিমুশ শায়খ’ নামে। এখন তার প্রুফ কাটছি। ইদানিংকার লেখালেখির ব্যাপারে জানতে চাইলে পাশ থেকে চারটি নতুন প্রচ্ছদ আমার হাতে দিলেন। ফিকহ ও হাদীসে ইমাম আবু হানীফা রহ. এর অবস্থান এবং ইমাম মুহাম্মদ রহ. ও তার কিতাব জামে সগীর সম্পর্কিত দুটি আরবী কিতাব, সাথে উসুলে ইফতার নতুন সংস্করণ এবং আরো একটি কিতাব। সবগুলোই আরবী ভাষায় লিখিত।

সবিশেষ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ‘আল বুদুরল মুযিয়্যা’ সম্পর্কে। প্রশ্নটি পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হলেন এ কিংবদন্তি আলেম। বললেন, কিছুদিন আগে মিশর থেকে কিতাবটির দ্বিতীয় এডিশন বেরিয়েছে। প্রথমবারের তুলনায় ডাবল ছাপিয়েছে। প্রকাশক জানিয়েছে, কিতাবটি বেশ ভালো চলছে। মিশরের বাহিরেও বেশ চাহিদা।

ফিকহে হানাফীর ইমামগণের জীবনী সম্বলিত ২৩ খন্ডের দীর্ঘ একটি গ্রন্থ গত বছর মিশরের অভিজাত প্রকাশনী দারুস সালাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। কিতাবটি হানাফি ফকিহদের জীবনীর ওপর সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষগুলোর একটি। যাতে ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফকিহদের জীবনী সন্নিবেশিত। গ্রন্থটি লিখতে লেখকের দশ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় হয়েছে।

গ্রন্থটি আরব ও অনারবে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারদের যারপরনাই প্রশংসা কুড়িয়েছে। আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়েখ আওয়ামা কিতাবটি দেখে খুবই উৎফুল্ল প্রকাশ করেছেন। তিনি ফোন করে মারকাজুদ দাওয়া ইসলামিয়া’র আমিনুত তালিম মাওলানা আব্দুল মালেক হাফি. কে বলেছেন, তিনি যেন হজে যাওয়ার সময় দুই সেট কিতাব শায়েখের জন্য নিয়ে আসেন। শায়েখ আওয়ামা লেখকের সাথে এক ফোনালাপে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষায় বলেন, আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল এমন একটি কিতাব লিখব, আল্লাহ আপনার মাধ্যমে এই খেদমতটি কবুল করেছেন।

বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থালয়ে ইতোমধ্যে এটি জায়গা করে নিয়েছে। ব্যাপক চাহিদার ভিত্তিতে মাত্র এক বছরে গ্রন্থটির দ্বিতীয় এডিশন বেরিয়েছে। এই সুবিশাল গ্রন্থটি লেখককে কালজয়ী ও অবিস্মরণীয় করে রাখবে পৃথিবীর জ্ঞানের ইতিহাসে।

জ্ঞানপিপাসুদের জন্য আরো একটি সুখবর হলো, কিছুদিন আগে লেখকের নিজস্ব প্রকাশনী মাকতাবাতু শাইখিল ইসলাম থেকে ‘যাদুল মুহতাজ’ নামে ছয় খণ্ডে দীর্ঘ কলেবরের আরো একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এটিও মিশর থেকে প্রকাশিত হবার প্রাথমিক আলোচনা সম্পম্ন হয়েছে। লেখক বলেন, মূলত আল বুদুরুল মুযিয়্যার ব্যাপক চাহিদার ভিত্তিতেই নতুন এই কিতাবটি প্রকাশ করার ব্যাপারে প্রকাশনা সংস্থাটি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

অর্ধশতাধিক গ্রন্থ রচয়িতা মুফতী হিফজুর রহমান এখনো লিখে চলছেন দু’হাত ভরে। বাংলাভাষী হয়েও তিনি অবিরাম আরবী ভাষায় লিখে চলছেন মূলত সারাবিশ্বে তা ছড়িয়ে দেবার মহৎ লক্ষ্যেই। তার সেই পরম লক্ষ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে ভেবে ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি থাকলেও আছে প্রবল তিয়াসা। আরো আরো লেখবার তিয়াসা।

-এএ

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.