154436

হাজারো মানুষের ইফতারে মুখরিত আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ

জুনায়েদ হাবীব
বিশেষ প্রতিবেদক

সময় তখন ঘড়ির কাঁটায় ৬.১০ছুঁই ছুঁই। ফরিদ মিয়া নামের এক রিকশা চালক তড়িঘড়ি করে ছুটছিলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের দিকে।

ঠিক এ সময়টাতেই সর্বস্তরের মানুষের বিশাল সমাগম হয়ে থাকে পবিত্র এ রমজান মাসে। কারন এ মসজিদে পবিত্র মাহে রমজানে মাস ব্যাপী চলে বিনামূল্যে হাজারো মানুষের এক ছাদের নীচে ইফতার করার আয়োজন।

জানা যায় আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসূল সাইয়্যদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী আল-মাদানীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং মসজিদের মুসল্লি পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত এ ইফতারের আয়োজন হয়ে আসছে।

এমন বিচিত্রময় এ ইফতারের আয়োজন তাদের কাছে সৌভাগ্য বলে মনে করেন রিকশাচালক ফরিদ মিয়া, রিকশা চালিয়ে আয় করে নুন আনতে যার পান্তা ফুরোয় তার ইফতার করার মতো সাধ্য বাসায় না থাকলেও প্রতিদিনই তার আসা হয় মসজিদের ইফতার আয়োজনে শরিক হতে।

মসজিদে ইফতার করতে আসা আহমেদ ইমতিয়াজ আওয়ার ইসলামকে বলেন, কোন এক কাজে আন্দরকিল্লায় এসেছিলাম কিন্তু বাসায় যেতে ৮টা বেজে যাবে তাই একজন পথিক বলল এ মসজিদে ইফতার করার ব্যাবস্থা রয়েছে। এখানে আসলাম, তবে খুবই ভালো লাগলো এক কাতারে যেমন একদম নিম্ন শ্রেণীর মানুষ আছে তেমনি সেই কাতারের বিত্তবান ধন্যাঢ্যরাও রয়েছে।

আর এক সাথে এত্তো মানুষের ইফতার আয়োজন এ প্রথম দেখলাম। ইফতারে শরিক হওয়া জারিন স্প্রীং এর ব্যাবস্হাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মাহফুজ চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন ইফতার বাসায় করলেও মাঝে মধ্যে এখানে করি। কারন এক সাথে মানুষের সাথে ইফতার করার একটি আনন্দ ও অন্যটি দ্বিগুণ সওয়াবের আশা।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের এ ভিন্নধর্মী আয়োজন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আন্দরকিল্লা মসজিদের খতিব আওলাদে রাসূল সাইয়্যদ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী আল-মাদানীর ব্যাক্তিগত সহকারী হাসান মুরাদ আওয়ার ইসলামকে বলেন, ১৯৯৯ থেকে খতিব মহোদয় আপ্রাণ চেষ্টা করতেন পবিত্র রমজানে মক্কার আদলে এমন আয়োজন করার।

কিন্তু প্রথমদিকে সবাই তাতে গুরুত্ব না দিলেও ইসলামি ফাউন্ডেশন ও মসজিদের মুসল্লি পরিষদের একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া ২০০৮ থেকে এই ইফতার আয়োজন করার।

আমাদের মসজিদে প্রতিদিন ইফতার করছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মানুষ। আর সবচেয় বড় কথা হলো প্রতিবছর ইফতারের এ আয়োজনে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন শিল্পপতি থাকছে।

যারা অপ্রকাশ্য দান করে যাচ্ছেন তাদের নাম জিজ্ঞেস করলে ও ছদ্মনামে দিয়ে চলে যান। এমন কয়েকজনই প্রতিবছর নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে সহযোগিতায় করে আসছেন।

তিনি আরো বলেন, সেহরির পর থেকেই ইফতার তৈরীতে নেমে পড়েন ১৫ জন বাবুর্চী। আর ইফতারে খাবারের ৮ পদের তালিকা থাকে প্রতিদিন ছোলা, আলুর চপ,বেগুনী,পেঁয়াজু,মুড়ি, জিলাপী,সিংগারা, শরবত ৮টি পদের আইটেম থাকে। ৫.৩০ থেকেই আমাদের ৪৫ জন সেচ্ছাসেবকরা ইফতার পরিবেশনে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।

মোঘল আমলের প্রাচীন স্হাপত্য আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে আসরের পর থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ হতে থাকে লোকসমাগমে। এক কাতারের ধনী- গরীবের ভেদাভেদ ছাড়া এক থালায় ইফতার সারেন পথচারী, মুসল্লী, রিকশাচালক দিনমজুর,সহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ। ইফতারের আগে ৩০ মিনিট মাহে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন পেশ ইমাম।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.