154238

রমজানের বাইরে মুসুল্লিদের মসজিদমুখী করতে রমজানেই কর্মসূচি নিতে হবে

চলছে রমজান মাস। ‘ইসলাম ও রমজান ভাবনা’ নিয়ে জামিয়া মিফতাহুল উলুম মধ্যবাড্ডা এর মুহাদ্দিস ও দক্ষিণখান আশরাফিয়া মাহমুদুল উলুম এর শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু উসামা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ মুখোমুখি হয়েছেন আওয়ার ইসলাম আয়োজিত ‘লেখালেখি ও সাংবাদিকতা কোর্স’ এর শিক্ষার্থী উমারা হাবীব। সাক্ষাৎকারটি আওয়ার ইসলাম পাঠকদের জন্য পরিবেশন করা হলো।


আওয়ার ইসলাম: রমজান মাসকে এবাদতের বসন্তকাল হিসেবে আমরা জানি। এ মাসে কোন কোন আমল বেশি করা দরকার?

মাওলানা আবু উসামা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ : রমজান ইবাদতের মাস। এ মাসে রোজা ও তারাবির পর সর্বোচ্চ বড় আমল কুরআন তেলাওয়াত। এ তেলাওয়াত রাতের তারাবির মাঝেও করা জরুরি। কিয়ামুল লাইলের মাঝেও করা জরুরি। এছাড়া এমাসে গরীবদের জাকাত দেয়া। একটি ফরজ আদায় সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান।

তাছাড়া দুঃখীদের দান সদকা করা। ফিতরা দেয়া। অন্নহীনদের অন্ন দেয়া।বস্ত্রহীনদের বস্ত্র দেয়া। গরীবদের ঘর বা ব্যবসার জন্য টাকা দেয়া। রমজানে সাহরি ও ইফতার সামনে নিয়ে বসে থাকা। এটাও একটি ইবাদাত। সম্ভব হলে কোন আল্লাহওয়ালার দরবারে পুরো রমজান কাটিয়ে দেয়া। তা না হলে অন্তত শেষ দশদিন এতেকাফ করা। এর সাথে সাথে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বড় ইবাদত।

আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের রমজানের মত বরকতময় মাস দিয়েছেন। এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে মাফ করিয়ে নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন। জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।

আওয়ার ইসলাম: রমজান এলে সমাজের যুবক, বৃদ্ধ ও শিশুরা সবাইমিলে মসজিদমুখী হয়। রমজান গেলে তাদের এ স্রোত থেমে যায় কেনো? রমজানের বাইরেও তাদের মসজিদে ধরে রাখার জন্য করণীয় কী?

আবু উসামা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ: এটা একটা চিরন্তন সত্য কথা। রমজান এলেই শিশু থেকে নিয়ে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই মসজিদমুখী হয়। কারণ আল্লাহ তাআলা রমজানে শয়তানকে বন্দী করে রাখেন। এজন্য রমজানের আবহে মুুমিনের হৃদয়ে অন্যরকম প্রশান্তি ছুয়ে যায়। তাই ঈমানদার সকল মানুষই শান্তির কেন্দ্র মসজিদে আসে। মসজিদে আসা এ মানুষদের ধরে রাখতে আলেমদের বিশেষ ভাবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। রমজান মাসেই ইফতার পার্টিতে আলোচনা করে বা তারাবির পর আলোচনা সভা করে তাদের ধরে রাখতে পারি। এছাড়া প্রত্যেকেই নিজ নিজ বন্ধুদের মসজিদে টেনে আনতে পারি।

আমাদের পীর মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রহ. যখন কানপুরে ছিলেন তখন আশপাশের চায়ের দোকানে যুবক ভাইদের সাথে বসতেন । চা পান করতেন।কথাবার্তা বলতেন। আজান হলে বলতেন আমি এতক্ষণ আপনাদের সাথে দোকানে বসে চা পান করলাম।এখন দয়াকরে আপনারা আমার সাথে চলুন মসজিদে যাই। এভাবে একজন দুজন করে উনি মসজিদে নিয়ে আসতেন।

একজন আলেম ও একজন মাদারাস ছাত্র যেহেতু সবসময় মসজিদমুখী থাকে। সে চাইলে তার বন্ধুদেরও সবসময় মসজিদমুখী করতে পারে। আবার প্রতি মাসে কিংবা পনের দিনে একবার আলোচনা সভার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এমনিভাবে ইসলামি পত্র-পত্রিকা, নির্ভরযোগ্য আলেমদের লেখা বইপুস্তক বিতরণ করে সাধারণ মানুষকে মসজিদমুখী করা যেতে পারে।

এটা একটা বাস্তব বিষয় যে, বসন্ত বছরের বারমাস থাকলেও সারা বছরেই বসন্ত থাকে না। বসন্ত মাঝে মাঝে আসে।ঠিক ইবাদতের বসন্তকাল রমজান।সারা বছরই যে একই অবস্থা বিরাজ করবে এমনটা নয়। একটা বিষয় হলো আমাদের ইংরেজি শিক্ষিত ছেলেদের ধর্মীয় জ্ঞান কম। মানুষ ধর্মীয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ হলে, তাকওয়া অর্জন করলে মসজিদমুখী না হয়ে উপায় থাকে না।তাই আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো জরুরি।

আওয়ার ইসলাম: মসজিদ কেন্দ্রীক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও ইমামদের কী ধরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত?

আবু উসামা মোহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : এখানে প্রথমেই একটা বিষয় যে, আমাদের মসজিদের যারা কর্তৃপক্ষ তারা মসজিদমুখী সমাজ গঠনের যোগ্য কিনা? তা লক্ষ করা প্রয়োজন। কারণ আমাদের সমাজের মসজিদগুলোতে অনেকেই ক্ষমতার দাপটে, পয়সার দাপটে অথবা অন্য কোনো কারনে মসজিদের পরিচালনা কমিটিতে এসে পড়ে।

আসলে মসজিদের পরিচালনা কমিটিতে এমন মানুষ আসা দরকার, যারা সত্যিকার রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরদ রাখেন। আল্লাহর নবি সা, এর দরদ সম্পন্ন মানুষ যখন মসজিদ পরিচালনা করবে। তখন আল্লাহর নবি সা. যেভাবে সাহাবায়ে কেরামকে মসজিদে ধরে রেখেছেন সেভাবে মসজিদ কমিটির লোকেরাও সমাজের সাধারণ মানুষকে মসজিদে ধরে রাখার ব্যবস্থা করবে।

কমিটির উদ্যোগ এমন হতে পারে যে, সময়ে সময়ে কোনো ভাল দরদী আলেম যিনি দীনের দরদ রাখেন তাকে দিয়ে আলোচনা করানো । এই আলোচনা যেনো প্রচলিত ওয়াজ মাহফিলের মত না হয়। মানুষ যেন নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে দেখে এটাকে।

এমডব্লিউ/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.