156007

বিদায়ী রমজানের ফরিয়াদ

তানভীর সিরাজ

ছিলাম এক মাস। বিদায় নিবো ক’দিন পর। আসবো আবারও ১১ মাস পর। তবে বিদায় নিবো চিরতরে কারো জীবন থেকে, এই মাসে, এই রমজানে। কিন্তু আমার যাওয়া- আসা, এ নিয়ে কতজন ওয়াকিফহাল আছে। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের মূল্যবান কিছুদিন পেয়েও খেলাচ্ছলে যারা খামখেয়ালির দিনাতিপাত করে, তাদের দেখে আমি অবাক করি। বুঝে না আমার মান, দেয় না আমায় মর্যাদা, করে না তারা সম্মান! কী বলি আমি তাদের? আমি মাহে রমজানের কেন আগমন?

আমার ব্যথাতুর তপ্ত হৃদয়ের আকুতি কে শুনে? তপ্ত সেই বুকের আকুল আবেদন, ‘আসুন, দিনশেষে হলেও মিনতি আমার সাদরে গ্রহণ করুন।’
বলছি, কে কেমন অতিবাহিত করেছি তা নয়, যে যেভাবেই হোক একটা তো করেছি, করেছি। দয়াময় রহমান খোদার মাগফিরাতের পেয়ালা যে শুধু মাগফিরাতেই সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়, বরং নাজাতে তার মূল হিসাব নিকাশের পালাবদল। মাগফিরাতের যে পানপাত্র নিয়ে প্রতিদিন ইফতার-পূর্বে ফিরিশতাসমেত হাজির হয়ে দশ দশহাজার জাহান্নামিকে জান্নাতি বাগানের রেজিস্টারভুক্ত করে।

আপনিও কি পারেন না বিদায়বেলায় এসে মহান এই পবিত্র মাসের তপ্ত হৃদয়ের মিনতিটি কবুল বলে ‘আমীন’ বলতে? পারেন, তবে দুনিয়ার ঝাঁক্কি ঝামেলা আপনাকে শয়তানি ধোঁকায় ব্যস্ত রাখে বলে পারেন না। মিনতিভরে রমজানের প্রতিটি রাতে স্বাগত জানাই ফিরিশতা খোদার। ঘোষণা করছে তাঁরা আর বলছে, يا باغي الخير أقبل ويا باغي الشر أقصر

“ওহে কল্যাণকামী, কুঁড়ে নাও সব কল্যাণ, ওহে অকল্যাণকামী, ছুড়ে মার সব অকল্যাণ।” অগণিত পাপীতাপীকে প্রতি রমজানের প্রতি রাতে এভাবেই জাহান্নামের বেড়ি মুক্ত করা হয়।

কবির ভাষায়, “দরদী মালির কণ্ঠে যখন আহ্বান করছে ফিরিশতা খোদার, তবুও, কী করে নীরব থাকি বান্দা, হুশিয়ার!
এরপরেও কি সজাগ হবো না নাফরমান বান্দা খোদার!
আমাদের সব গোনাহ তিনি ক্ষমা করেন বলেই তো তিনি গাফফার,
আমাদের সব অপরাধ তিনি গোপন করেন বলেই তো তিনি সাত্তার।”

শেষপ্রহরেও ফরিয়াদ করি আর বলি, إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
“খোদা, তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও, তারা তো তোমারই বান্দা, আর তাদের যদি ক্ষমা কর সন্দেহাতীত তুমি তো মহান পরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী।” (সূরা মায়েদা:১১৮) আমরা তো তোমারই বান্দা।

-এএ

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.