159004

‘আমরা কারও দালালি কিংবা অন্যায় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করিনি’

দেশের ইসলামি ভাবধারার লেখকদের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম’। ২০১২ সালের ২৬ মে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু। লেখালেখি কর্মশালা, সাহিত্যসভা, গ্রন্থ আলোচনা, সাহিত্য ভ্রমণসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সফলতার সাথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে সংগঠনটি। লেখিয়েদের সুসংগঠিত করা এবং ঐক্য ধরে রাখা দীর্ঘ বছরের বড় প্রাপ্তি। আগামী ১২ জুলাই (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ফোরামের চতুর্থ কাউন্সিল ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ফোরামের নির্বাচনকে সামনে রেখে সাত বছরের ইসলামী লেখক ফোরামকে জানতে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক জহির উদ্দিন বাবর-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব


আওয়ার ইসলাম: ইসলামী লেখক ফোরাম বলতে কোন ধরনের সংগঠনকে বোঝাতে চান এবং ইসলামী লেখক মানে কী?

জহির উদ্দিন বাবর: ইসলামকে বিষয় হিসেবে ধারণ করে যারা লেখালেখি করেন মূলত তাদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম গড়তেই ইসলামী লেখক ফোরামের যাত্রা। দেশে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষদের স্বতন্ত্র সংগঠন আছে। জেনারেল ধারার সাংবাদিকদের কত সংগঠন!

জেনারেল লেখকদেরও সংগঠনের অভাব নেই। তবে এসব সংগঠনে ইসলামী ধারার লেখকদের সাধারণত অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। সেই শূন্যতাটি পূরণ করার জন্যই ২০১২ সালে গঠন করা হয় ইসলামী লেখক ফোরাম।

‘ইসলামী লেখক’ এর মানেটা পরিষ্কার।  এর সংজ্ঞা বা পরিচয় নিয়ে বিতর্ক করা অহেতুক। কারও কারও বক্তব্য হচ্ছে, ইসলামী লেখক বললে অন্যরা কি ‘অনৈসলামিক’! আমি মনে করি এটাও অহেতুক বিতর্ক।

দৈনিক পত্রিকায় একটি ইসলামী পাতা থাকে, তাহলে কি অন্য পাতাগুলো অনৈসলামিক! যারা ইসলামী লেখক পরিচয় দিতে চান তারা দেবেন। যারা দিতে চান না দেবেন না। এখানে অযাচিত বিতর্ক টেনে আনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আওয়ার ইসলাম: লেখক ফোরামের পথচলার সাত বছর হতে চলেছে, দীর্ঘ এই সময়ের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি নিয়ে যদি কিছু বলেন?

জহির উদ্দিন বাবর: পৃথিবীতে খুব কম সংগঠনই আছে যারা পথচলায় প্রত্যাশিত জায়গাটিতে পৌঁছতে পারে। সব উপায়-উপকরণ থাকার পরও অনেকে পারে না। আর আমাদের তো প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার কোনো শেষ নেই। গত সাত বছরে আমরা টুকটাক করে কিছু কাজ করেছি। তবে বলতে দ্বিধা নেই, যতটুকু করা উচিত ছিল ততটুকু পারিনি। আমরা চেষ্টা করছি, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।

আরেকটি কথা আমি প্রায়ই আমাদের অনুষ্ঠানগুলোতে বলে থাকি। লেখক ফোরাম যখন যাত্রা করে এর প্রত্যাশার জায়গাটি খুব বড় কিছু ছিল না। আমরা একই শহরে, একই নগরে বাস করি, কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। ভাবনার বিনিময় হয় না। লেখক ফোরাম বছরে কয়েকটি উপলক্ষ অন্তত করে দেবে যেখানে আমরা একসঙ্গে বসতে পারি এবং পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ হয়। আমাদের সুখ-দুখগুলো শেয়ার করতে পারি।

ফোরাম দ্বারা আমরা বিপ্লব জাতীয় কিছু একটা করে ফেলব এমন প্রত্যাশা আগেও ছিল না এখনও নেই। তবে ফোরামকে যারা ভালোবাসেন, ফোরামের যারা শুভাকাঙ্ক্ষী তারা এর প্রতি অনেক বড় প্রত্যাশা রাখেন। আমরা তাদের প্রত্যাশাকে শ্রদ্ধা করি এবং তা পূরণে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আওয়ার ইসলাম: লেখকদের মেধা-মননের বিকাশ, সৃজনশীল লেখক তৈরি, লেখকদের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় অতীতে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?

জহির উদ্দিন বাবর:  প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফোরাম বেশ কিছু লেখালেখির বুনিয়াদি কর্মশালার আয়োজন করেছে। সাহিত্যসভা, গ্রন্থ আলোচনার অনুষ্ঠান করেছে। ঢাকার বাইরেও এ ধরনের আয়োজন হয়েছে। লেখালেখির অঙ্গনে সরব এমন কয়েক ডজন ছেলে পাওয়া যাবে যারা ফোরামের এই উদ্যোগের দ্বারা লেখালেখিতে এসেছেন।

আমরা ফোরামের যারা দায়িত্বশীল ব্যক্তিগতভাবেও তরুণ লেখকদের অনেক সহযোগিতা করে থাকি। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কোনো তরুণ লেখক কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা তাকে সেটা দিই। লেখকদের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় সীমিত পরিসরে হলেও আমরা নানা সময় উদ্যোগ নিয়েছি।

কোনো লেখক পেশাগত কারণে সমস্যায় পড়লে আমরা সাধ্যমতো তার পাশে দাঁড়াই। তবে ফোরামের আওতার বাইরে থাকা অনেক বিষয়ে আমরা চাইলেও কোনো উদ্যোগ নিতে পারিনি। এটা হয়ত আমাদের একটি দুর্বল দিক।

আওয়ার ইসলাম: বর্ষপূর্তি পালন, বছরে একবার ভ্রমণের মতো গতানুগতিক আয়োজনের মধ্যে ফোরামকে সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়, কিন্তু ফোরামের উদ্যোগে সৃজনশীল লেখক তৈরির কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন…

জহির উদ্দিন বাবর: যেকোনো বিষয়েই প্রশ্ন তোলার লোকের অভাব নেই। বলতে খারাপ শোনায়, তবুও বলি, সমাজের এমন লোক প্রচুর আছেন, যারা নিজেরা কাজ করবে না, অন্যের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে। সুতরাং আমরা যত কাজই করি প্রশ্ন উঠবেই।

কাজ করছি বলেই প্রশ্ন উঠছে। কাজ না করলে তো প্রশ্নও উঠতো না, সমালোচনাও হতো না। এসব নিয়ে বেশি চিন্তা করলে তো আর কাজ করা যাবে না! আপনাকে শুধু ভাবতে হবে, আপনি যে কাজটি করছেন, তা শরিয়তের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ কি না? কারণ আমরা জানি, যত কাজই করি তাদের চোখে তা ধরা পড়বে না।

তারা ফোরামকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সবসময়ই ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। তবে আমি তাদেরকে ধন্যবাদ দিতে চাই, তাদের এই ত্রুটি খোঁজার প্রবণতা আমাদের কাজে গতি এনে দেয় এবং আমাদেরকে নিষ্ক্রিয় হতে দেয় না।

গত সাত বছর ধরে ফোরাম তার নির্দিষ্ট কর্মসূচিগুলো নিয়মিত পালন করছে সেটা কি খুব খাটো করে দেখার? একটি বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান, স্মারক প্রকাশ কিংবা একটি ভ্রমণ আয়োজন করতে কতটা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় সংশ্লিষ্টরাই ভালো টের পাবেন।

জেনারেল ধারার লেখক-সাংবাদিকদের কত বড় বড় সংগঠন, কত বেশি তাদের সক্ষমতা, একটু দেখান তো আমাদের চেয়ে বেশি কর্মসূচি আর কারা পালন করে? আমরা তাদের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না, আমাদের আরও বেশি সৃজনশীল কর্মসূচি দেয়া উচিত এটা আমরাও বুঝি। অনেক উদ্যোগ নিয়েও বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সীমাবদ্ধতা তো আমাদের আছেই।

আশা করি সেটা আস্তে আস্তে কেটে যাবে। ভাঙা-গড়ার ইতিহাসে তো আমাদের অঙ্গন ভরপুর। সেখানে একটি সংগঠন সাত বছর ধরে নির্দিষ্ট বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করছে সেটা খাটো করে দেখার অবকাশ আছে বলে মনে করি না।

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী ভাবধারার সিনিয়র-জুনিয়র লেখকদের একটি অংশ ফোরামে নেই, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ফোরামের কোনো ভূমিকা আছে কি?

জহির উদ্দিন বাবর: হ্যাঁ, ফোরাম পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই প্লাটফর্মে আনতে চায়। মাত্র ৭০/৮০ জনকে নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন আমাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ।

সদস্য হওয়ার আবেদন ঝুলে আছে আরও অনেক। আমাদের গঠনতন্ত্রের শর্ত অনুযায়ী সক্রিয় লেখক যারা এখনো ফোরামের বাইরে আছেন তাদেরকে যুক্ত করতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রতিটি সাধারণ সভায় আমরা এ রকম অনেককে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকি। এবারও এ রকম অনেকেই আসবেন এবং আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে আশা করছি।

আওয়ার ইসলাম: ফোরামে নারী সদস্য বা সংরক্ষিত কোনো পদে তাদের অংশগ্রহণ নেই, এর পেছনের কারণটা কী, আগামী দিনে নারী লেখিয়েদের ফোরামে অন্তর্ভুক্তির কোনো সুযোগ আছে কি না?

জহির উদ্দিন বাবর: এটি অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ ব্যাপারে আমাদেরও চিন্তা আছে। ফোরাম প্রতিষ্ঠার সময়ই প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সময় আমাদের কাছে তথ্য আসে, ইসলামী ধারার নারী লেখকদের একটি সংগঠন আছে এবং আমাদের পরিচিতজনরাই তা করেছেন।

যদিও পরবর্তী সময়ে সেই সংগঠনের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। নারী সদস্যদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে হলে আমাদেরকে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

আওয়ার ইসলাম: আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নানা-কৌশল অবলম্বন করেন, বিশেষ করে নির্বাচনে অনিয়ম হয় বলে অভিযোগ উঠছে। নির্বাচনের প্রার্থীদের নানা কারণে আপনারা ফোরাম ছাড়তে বাধ্য করেন, বিষয়টি যদি খুলে বলতেন…

জহির উদ্দিন বাবর: কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে হলে সুনির্দিষ্টভাবে তোলা উচিত। ঢালাওভাবে অভিযোগ করা সমীচীন নয়। এখানে কেউ পদ অযাচিতভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন এর দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ।

গত সাত বছরে ব্যক্তিগত কোনো মত বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন নজির নেই। ফোরামের সবকিছু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়, ফোরামের নির্বাহী কমিটির মতামতের ভিত্তিতে হয়। এখানে পদ ধরে রাখা না রাখার কিছু নেই। এটা এমন কোনো লাভজনক পদ নয় যে ধরে রাখতেই হবে।

এই সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার মতো আমাদের আরও অনেক পদ-পদবি আলহামদুলিল্লাহ আছে। আমি প্রায়ই বলি ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ’ তাড়ানোর সঙ্গেই তুলনা চলে এই পদকে। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে, দিনের পর দিন অমানুষিক শ্রম আর মেধা ব্যয় করে অহেতুক সমালোচনার ভাগিদার হওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। যদিও জাতির বৃহত্তম স্বার্থে সেই ‘বোকামিটি’ গত সাত বছর ধরে করছি আমরা।

আর নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে এটা কোনো সদস্য বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না। আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই।

গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নেতৃত্ব বাছাই করা হয়। হ্যাঁ, গত কাউন্সিলে আমাদের কয়েক ভাই ভিন্ন প্যানেল করে নির্বাচন করেছেন। তারা পরিবর্তনের ডাক দিয়ে সদস্যদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সদস্যদের রায়ে তারা নির্বাচিত হতে পারেননি। এতে তারা হয়ত ক্ষুব্ধ।

যদিও এই ক্ষুব্ধতা আমাদের ওপর থাকা উচিত নয়। কারণ আমরা তাদেরকে নির্বাচনে বাধা দিয়েছি কিংবা কোনো ভোটারকে অন্যায়ভাবে প্ররোচিত করেছি এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না। সদস্যরা তাদের ভোটে যাকে নেতৃত্বের জন্য বাছাই করবেন তিনিই নেতৃত্বে আসবেন, এর বাইরে নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা টিকে থাকার কোনো উপায় নেই।

আওয়ার ইসলাম: আগামী মাসে ফোরামের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো উত্তাপ নেই। নির্বাচনের নামে উত্তাপ নষ্ট করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন দেওয়ার কী মানে আছে?

জহির উদ্দিন বাবর: দুই-তিনশ সদস্যের একটি সংগঠন। এখানে প্যানেলভিত্তিক কোনো ভোটও হয় না। আগে থেকে প্রার্থী ঘোষণারও কোনো রেওয়াজ নেই। অনুষ্ঠান শুরুর পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভোট। সুতরাং এর উত্তাপ আগে থেকেই টের পাওয়া যাওয়ার কথা না।

তাছাড়া হাঁকডাক করে প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী আমেজ আনার ব্যাপারে আমাদের মুরব্বি ও উপদেষ্টাদের বিধিনিষেধ রয়েছে। নেতৃত্ব বাছাইকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে কোনো তিক্ততা যেন না আসে এ ব্যাপারে তারা আমাদেরকে বারবার সতর্ক করে থাকেন। এজন্য নির্বাচনী কোনো আমেজ আগে থেকেই চলে আসুক এটা আমরাই চাই না।

হ্যাঁ, উপস্থিত কয়েক ঘণ্টা যথেষ্ট নির্বাচনী আমেজ থাকে। সেটা দেখতে হলে আগামী ১২ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চলে আসবেন।

আওয়ার ইসলাম:. সাত বছরেও কোনো সরকারি অনুমোদন, নিজস্ব অফিস কিংবা স্থায়ী ঠিকানা নেই ফোরামের, কোথায় রেখে যাচ্ছেন ফোরামকে?

জহির উদ্দিন বাবর: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ফোরামের গায়ে বিতর্কের সামান্য তিলকও লাগুক সেটা থেকে বাঁচার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছি আমরা। নানা সময় বিভিন্ন সংস্থা ও গোষ্ঠীর কাছ থেকে অনেক প্রলোভন এসেছে, কিন্তু ফোরাম কারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেনি। সাত বছরে ফোরাম বৈষয়িক দিক থেকে অনেক বেশি সাবলম্বী হতে পারতো যদি নীতির প্রশ্নে এরকম অটল না থাকত।

আমরা হয়ত সরকারি অনুমোদন পাইনি, এখনও নিজস্ব কোনো অফিস নেই; কিন্তু আমরা কারও দালালি করেছি, কারও অন্যায় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছি এমন উদাহরণ নেই।

আমরা মনে করি, সংগঠন তার আদর্শের ওপর টিকে থাকলে এগুলো একদিন না একদিন হয়ে যাবে। এটার জন্য ব্যাকুল হওয়ার কিছু নেই। বরং আমরা মনে করি, প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানের উৎস থাকলেই কাজ করা সহজ। অর্থের যোগান বেড়ে গেলে আভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যাবে।

এমন নজির আমাদের অঙ্গনে ভুরি ভুরি আছে। তবে সরকারি অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোতে যোগাযোগ শুরু করেছি। আশা করি অনুমোদন পেয়ে যাবো।

আওয়ার ইসলাম: ফোরাম নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা আগামী দিনে ফোরামকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?

জহির উদ্দিন বাবর: ফোরামকে সবার আস্থার প্রতীকে পরিণত করতে চাই। ‘আমি ফোরামের সঙ্গে আছি’ এটা যেন প্রতিটি সদস্য গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন ফোরামকে সেই জায়গাটিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখতে চাই। সেই জায়গাটিতে নেয়ার ব্যাপারে বর্তমান নেতৃত্ব ব্যর্থ হলে সদস্যরা নতুন নেতৃত্ব বাছাই করে নেবে।

এখানে নেতৃত্ব বিকাশের অবারিত সুযোগ আছে। আমরা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীরা সফল হবে এমনটাই প্রত্যাশা করি। কারণ আমরা নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এখন একটি জায়গায় এসে পৌঁছেছি; পরবর্তীদের সেটা করতে হবে না। এজন্য আমি ফোরামের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেই মনে করি।

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.