161504

সেই ভাইরাল বক্তব্য থেকে তওবা করলেন হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী

রকিব মুহাম্মদ : বর্তমানে দেশের আলোচিত ওয়ায়েজদের মধ্যে মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী সেরা। বলার ভঙ্গি এবং সুর তার ওয়াজে ভিন্ন মাত্রা আনে। যে কারণে প্রায় পুরো বাংলাদেশে তিনি বেশ খ্যাতি পেয়েছেন। তবে সমালোচনাও পিছু ছাড়েনি তার। চুক্তিভিত্তিক ওয়াজ করা, টাকা নিয়ে মাহফিলে না যাওয়া, ওয়াজ মাহফিলের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করাসহ দেশের খ্যাতিমান এ ওয়ায়েজকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানান বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাওলানা সিদ্দিকীর একটি বয়ানের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তিনি  পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাহরিমের ৮ নাম্বার আয়াতে ‘তাওবাতান নাসুহা’ এর  ‘ভুলব্যাখ্যা’ করেছেন বলে অভিযোগ করে সমালোচকরা। এ নিয়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচিত হন এ বক্তা।

তবে ‘তাওবাতান নাসুহা’ শিরোনামে ভাইরাল সেই বক্তব্যের জন্য তওবা করলেন মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী। গত ১৩ জুলাই চট্রগ্রামের বাঁশখালী দারুল কারীম মাদরাসার হিফজ সমাপনী ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তার আলোচনায় ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। বক্তব্যে আল্লাহ যেন তাকে কুরআন-হাদিস অনুযায়ী আলোচনা করার তৌফিক দান করেন— সে মর্মেও দোয়া করেন তিনি।

ওই মাহফিলে মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, “আমি এক বক্তব্যে পবিত্র কুরআনের সুরা তাহরিমের এক আয়াতের ব্যাখ্যায় তাওবাতান নাসূহা সম্পর্কে যা বলেছিলাম, আসলে ব্যাপারটা এমন না। নাসূহা সম্পর্কে মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী রহ. মাআরেফে মসনবীতে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন কিন্তু সেই ঘটনার সাথে আয়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা ভিন্ন ঘটনা।

নিজের দেওয়া বক্তব্যের সাথে কুরআন হাদিসের কোন সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুরআন ও হাদিসে নাসূহা সম্পর্কে কোনো ঘটনা উল্ল্যেখ নেই বরং কুরআনে বর্ণিত সুরা তাহরিমের ৮ নং আয়াতের তাওবাতান নাসূহা অর্থ হলো খাটি তওবা করা” আমার বক্তব্যের ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুক, সাথে সাথে সকলকে ক্ষমা করুক।”

প্রসঙ্গত, সূরা আত-তাহরিমের ৮ নাম্বার আয়াত—‘তূবূ ইলাল্লাহি তাওবাতান নাসূহা’ নিয়ে লোকমুখে এক রাজকন্যা ও নাসুহার ঘটনা প্রচলিত রয়েছে। তাফসিরের পরিভাষায় যা “ইসরারাইলি রেওয়ায়েত” নামে পরিচিত। অধিকাংশ, মুফাসসিরিনে কেরাম এ ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে থাকেন।

মাওলানা হাফিজুর রহমানের বক্তব্যে ‘তাওবাতান নাসুহা’র তাফসিরে ওই ঘটনা বর্ণনা করতে দেখা যায়। কবে, কোথায় তিনি ওই বক্তব্য দিয়েছেন তা জানা না গেলেও ফেসবুকে বক্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ‘ভুলব্যাখ্যা’র জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। পরে বাঁশখালীর মাহফিলে এমন বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে তওবা করেন।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী আওয়ার ইসলামকে জানান, “আমি তাওবাতুন নাসুহার বক্তব্য থেকে ভুল স্বীকার করেছি। যারা আমাকে এই ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

আরএম/

 

 

 

 

 

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.