163168

গুজবের আড়ালে ছেলেধরা ও গণপিটুনির গজব: মুক্তির উপায় কী?

মোস্তফা ওয়াদুদ 
বিশেষ প্রতিবেদক

কল্লাকাটা বা ছেলেধরা গুজবের ফলে দেশের কয়েকটি স্থানে হাতেনাতে কয়েকজন অপরাধী ধরা পড়ায় এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এই গুজবকে পুঁজি করে কোথাও কোথাও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃখঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আবার এ গুজবের শিকার হয়ে বাড্ডায় প্রাণ হারিয়েছেন নিরীহ তাসলিমা আকতার রেনু। গুজব নামক এ গজব থেকে মুক্তির উপায় কী?

আমরা যদি শুরু থেকে দেখি, প্রথমে পদ্মাসেতু নির্মাণে কল্লা লাগবে এমন একটি সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আইনশৃখঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই সংবাদকে গুজব বলে দাবি  করেছেন।

‘পদ্মাসেতু নির্মাণে কল্লা লাগবে’ এর নেপথ্যে কারা বা কী উদ্দেশেই এমন জঘন্য ঘটনা ঘটছে? এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বা অবস্থান কী?

রাজধানীর গুলিস্থান গোলাপশাহ মাজার মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জামীর জানান, “কল্লাকাট কিংবা ছেলেধরা নামে আজকাল চারদিকে আমরা যা শুনছি, এগুলো আসলে কুচক্রিমহলের ষড়যন্ত্র। দেশের শৃঙ্খলাভঙ্গে এরা কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে পারে।”

তিনি বলেন, “ইসলামে মানুষ হত্যা, শিশু হত্যা, নারী হত্যা মহাপাপ। ইসলামে কল্লাকাটা কিংবা ছেলেধরার মতো অপরাধকে কখনোই সমর্থন করে না। গণপিটুনিও ইসলাম সমর্থন করে না। গত পরশুদিন রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা আকতার রেনু নামের মাস্টার্স পাশ শিক্ষিত যে মেয়েটিকে গণপিটুনিতে মারা হলো। ইসলাম কখনোই এসব বৈধ বলে না। সবসময় এসব জঘণ্য কাজকে নাজায়েজ ও হারাম ফতোয়া দিয়ে এসব থেকে বিরত রেখেছে ইসলাম।”

“ ইসলাম  বর্বরতা রোধকল্পে আগমন করেছে। এসব নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে নিষেধ করেছে। সন্দেহের বশত কিছু করাকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে। অতএব এসব থেকে বেঁচে থাকাই হলো ইসলামের শিক্ষা।” যোগ করেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম।

ঢাকার মিরপুর-১ নাম্বার টোলারবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি ফয়সাল আহমদ যাকারিয়াও একই মতামত জানালেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির লোক ‘পদ্মাসেতুতে মানুষের মাথা লাগবে’ মর্মে গুজব রটাচ্ছে। যদিও এর সাথে ইসলামের বিন্দুমাত্র কোনো সমর্থন নেই।”

ফয়সাল আহমদ যাকারিয়া বলেন, চারদিকে কল্লাকাটা লোকদের খবর প্রচারিত হতে থাকলে পদ্মাসেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘এর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই মর্মে’ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর পরও সেতু নির্মাণে মাথা না লাগার বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায়। এ সত্বেও যখন এ জাতীয় ঘটনা ঘটছে, তখন এসব ঘটনার সাথে আদম ব্যবসায়ী বা মানব পাচারকারী চক্রের হাত থাকতে পারে বলে আমার সন্দেহ হচ্ছে। তারা গুজবের কথা বলে ঘাপটি মেরে নিজেদের হীনস্বার্থ উদ্ধার করে নিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, ছেলেধরার বিষয়টি ইসলাম কখনোই সাপোর্ট করে না। করতে পারে না। এ ব্যাপারে ইসলামের কঠিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নীল নদের ইতিহাস থেকে আমরা সে শিক্ষায় পাই।

মানবিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারণে গণপিটুনির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে ফয়সাল আহমদ বলেন, আমাদের দেশের মানুষের মানবতা, চারিত্রিক অবক্ষয় এমন অবনতিতে পৌঁছেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যার কারণে রেনু নামের মেয়েটির প্রাণ ছলছলে থাকা অবস্থায়ও বুকের উপর পা রেখে নিত্য করে তার প্রাণবায়ূ বের করেছে পাষণ্ড জনতা। আর আশপাশের মানুষগুলো তাকিয়ে তাকিয়ে বোবা শয়তানের ভূমিকা পালন করেছে।”

“ এখন আমরা যদি ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাগুলো মানুষের সামনে উচ্চারণ করতে পারি। দীনি আহকামগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি। তাহলে সমাজের এসব উপদ্রব দূর করা সম্ভব হবে। গণপিটুনির মতো ঘটনা থেকে জাতি রক্ষা পাবে। কল্লাকাটা গোষ্ঠীর মুখোশ উন্মোচিত হবে ইনশাআল্লাহ” যোগ করেন মুফতি ফয়সাল আহমদ যাকারিয়া।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.