162446

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংখ্যালঘুরা কেমন আছে

মোরশেদ আশরাফ ♦ 

বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ৯.০-৯.১ ভাগ আর ভারতে মুসলমান মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগএর বেশি। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে হিন্দুদের অবস্থান সবসময় ছিল ১০ ভাগের এর বেশি। ২০০৬ সালে টিআইবির রিপোর্টে দেখা যায় ,সরকারি চাকরিতে হিন্দু জনসংখ্যা ১৯% যেখানে মূল সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। পক্ষান্তরে ভারতে মুসলিমদের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা মাত্র ২% বা তারও কম।

ভারতীয় মুসলমানদের বঞ্চনার দলীল তুলে ধরে সাচার রিপোর্ট ২০০৫। সাবেক প্রধান বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচা কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে মোট মুসলমান ২০ কোটি প্রায় যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০% এর কাছাকাছি। অথচ চাকরিতে তাদের অবস্থান মাত্র ১%। যেখানে ১০৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময় এই হার ছিলো ৩৪%। সাচার রিপোর্ট অনুযায়ী মোট আই.এ.এস সদস্য ৩৮৮৩ জনের মধ্যে মুসলিম মাত্র ১১৬ জন যা মোট সংখ্যার ২%।

তদ্রুপ আই.পি.এস ১৭৫৩ জনে মুসলিম ৫০ বা ২.৮৩%, ইনকাম ট্যাক্সে উচ্চপদে মোট জনবল ৮৮১’র মধ্যে ২৭ বা ৩.৬%, রেলওয়ে এবং ট্রাফিকে ৪১৫ এ ১১ অর্থাৎ ২.৬৫%, ব্যাংক খাতে ২.১৮% কেন্দ্রীয় দপ্তরে ৪.৪১% ( ৮,২৬,৬৬৯ জনে ৩৩৪৬) এবং রাজ্য সরকারী দপ্তরে ৬.০১% মুসলমান কাজ করে। (https://bit.ly/2YewWuL ) রাজ্য হিসেবে যা দাঁড়ায় (মোট মুসলমান %, সরকারি চাকরি % এভাবে পড়ুন) পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান ২৫.২% এ চাকরি ২.১%, কেরালায় ২৪.৭% এ ১০.৪%, উত্তরপ্রদেশে ১৮.৬% এ ৬.১%, বিহার রাজ্যে ১৬.৫% এ ৭.৬%, আসাম ৩০.৯% এ ১১.২%, ঝাড়খন্ড ১৩.৮% এ ৬.৭%, কর্ণাকটে ১২.২% এ ৮.৫%, দিল্লী ১১.২% এ ৩.২%, মহারাষ্ট্র ১০.৬% এ ৪.৪%, অন্ধ্র প্রদেশ ৯.২% এ ৮.৮%, গুজরাট ৯.১% এ ৫.৪% এবং তামিলনাড়ুতে ৫.৬% মুসলিম জনসংখ্যায় চাকরি পাচ্ছে মাত্র ৩.২% লোক।

রিপোর্ট জানাচ্ছে ১৯৭১ সালে পশ্চিম বঙ্গে ২৫৪ জন আই.এস.এ’র মধ্যে মুসলিম ছিলো মাত্র ২ জন আর সর্ব ভারতীয় ক্লাস ওয়ান অফিসার ২২৩২ জনে মুসলিম মাত্র ৩৬ জন যা মোট সংখ্যার ১.৬১% মাত্র। (https://bbc.in/2O2xL67 )

পক্ষান্তরে (বাংলাদেশে রহস্যজনক কারণে হিন্দুদের সুযোগ সুবিধার প্রকৃত চিত্র  কোনো জরিপ রিপোর্ট পাওয়া যায় না। এগুলো সব আংশিক হিসাব যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো।) ২০১৫ সালের এক হিসেবে বাংলাদেশে মোট ৭২ জন সচিবের ৩ জন হিন্দু, যা মোট সংখ্যার ৪.১৬%।

অতিরিক্ত সচিব ২৩৯ জনে ৩৪ বা ১৪.২২%, যুগ্ন সচিব ১০১৭ জনে ১৩১ বা ১২.৮৮%, উপ সচিব ১৩১৬ জনে ১২৫ বা ৯.৪৯% সিনিয়র সহকারী সচিব ১৪৪১ জনে ৫৩ বা ৩.৬৭%।( http://bit.do/e2oua ) ২০১৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত মোট ১৫২০ জন এসআই’র ৩৩৪ জন হিন্দু যা মোট সংখ্যার ৩৩.১৭%। ২০১১ সালে এনএসআই-এ নিয়োগপ্রাপ্ত ৯৩ জনে ২৩ জনই হিন্দু যা মোট সংখ্যার ২৪.৭৩% এবং ৬ষ্ঠ ব্যচে নিয়োগপ্রাপ্ত ১২৪ জন জজের ২২ জন হিন্দু যা মোট সংখ্যার ১৭%। (.shorturl.at/gmDH2)

জাতীয় নির্বাচনে প্রতিনিধিত্বের হিসেব যদি আমরা দেখি তবে, ভারতে ১৯৮০ সালে সব দল মিলে ৯ শতাংশ মুসলমান প্রার্থী দেয়া হতো, সেখানে ২০১৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ শতাংশে। পক্ষান্তরে বিগত নির্বাচনে কেবল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়ন পান ১৮ জন হিন্দু যা দলটি মোট মনোনয়নের ৬.৪%। (https://bit.ly/2Z0r0mr) অথচ রিপোর্ট জানাচ্ছে উত্তর প্রদেশে ২০% জনসংখ্যা মুসলিম হলেও সেখানে কোনো মুসলমানকে মনোনয়নই দেয়নি ভারতীয় দলগুলো! (https://bit.ly/2xTCk7S)।

এ হলো প্রকৃত চিত্র যা বাংলাদেশের হিন্দুরা স্বীকার করতে চায় না। এরা সবসময় এক ধরনের ফোবিয়ায় আক্রান্ত থাকে যাতে করে তারা অনুভব করে হয়তো ভারতের নাগরিক হলে নিজেরা আরও বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারতো!

বাংলাদেশে হিন্দুদের স্বাক্ষরতার হার এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ সুবিধার কোনো পরিসংখ্যান আমরা খুঁজে পাইনি। তবে তাদের শিক্ষার হার উচ্চতর বলেই বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারী পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান উন্নত করতে পারছে।

পক্ষান্তরে সাচার রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে শহুরে মুসলিমদের শতকরা ৬০% ছেলে-মেয়ে স্কুলে যায় না। পশ্চিমবঙ্গ-বিহারের ১০০০ মুসলিম গ্রামে কোনো বিদ্যালয়ই নেই বলে জানাচ্ছে সাচার রিপোর্ট। ভারতে প্রতি ১০০ জন স্নাতকে মুসলিম মাত্র ৬.৩ জন যেখানে প্রতি ১০০ জন মানুষে মুসলিম ২০ জন। দেশটির কারিগরি বা টেকনিক্যাল শাখায় মোট শিক্ষার্থীর ১.৩ ভাগ মুসলমান।

মুসলমানদের গড় স্বাক্ষরতার হার ৫৯.৯% মাত্র। অপপ্রচার করা হয় যে মুসলিমরা সন্তানদের মাদরাসায় দিয়ে দেয় বলে মূল ধারায় মুসলিম শিক্ষার্থী কম। অথচ সাচার রিপোর্ট জানাচ্ছে মাদরাসায় পড়াশোনা করে মোট মুসলিম শিক্ষার্থীর মাত্র ৪%। তবুও কী বলবেন ভারত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আর বাংলাদেশে হিন্দুরা ভালো নেই?

আসুন ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে। বাংলাদেশে যেখানে সরকারী বরাদ্দে মহাসমারুহে পালিত হচ্ছে দূর্গোতসব, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত হচ্ছে স্মরস্বতি পূজা, সেখানে ভারতে ২০১৫-২০১৮ সালের মধ্যে কেবল গরুর গোস্ত রাখা বা খাওয়ার অপরাধে পিটিয়ে আহত বা নিহত করা হয় ২৮০ হতভাগা মুসলিমকে। স্বয়ং বিজিপি সভাপতি অমিত শাহ এক সমাবেশে প্রকাশ্যে মুসলমানদের উইপোকা বলে অবিহিত করেন। (https://bit.ly/2JHN4gl )

আজ যখন প্রিয়া সাহা তার সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান, তখন প্রশ্ন জাগে এ দেশের খেয়েপরে তারা দেশের প্রতি আসলে কতোটা কৃতজ্ঞ!

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.