163200

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নৈশভোজে প্রিয়া সাহা, নেপথ্যে কী?

রকিব মুহাম্মদ : ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বিষয়ক একটি হাই প্রোফাইল বৈঠকেও প্রিয়া সাহা উপস্থিত ছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরার পর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে বরখাস্ত হওয়া এই নেত্রী আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিৎজের ভোজসভায় যোগ দেন।

বুধবার (২৪ জুলাই) ওই ভোজসভা নিয়ে টাইমস অব ইসরাইসহ প্যালেস্টাইন পোস্ট, আলজাজিরা, মরক্কো নিউজসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বৈঠকের ছবি প্রকাশিত হয়। ছাপা হওয়া ছবিতে আমন্ত্রিত অতিথিদের সারিতে প্রিয়া সাহাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিলে বসে আছেন প্রিয়া সাহা। বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোর কোথাও বাংলাদেশ বা প্রিয়া সাহা প্রসঙ্গ না এলেও এ ছবির এই নারী যে প্রিয়া সাহা এ বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এ বৈঠক অনুষ্ঠানের পেছনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতা শীর্ষক সম্মেলনের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ইরান ও আঞ্চলিক হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজিত নতুন ছবির এই সম্মেলনের বিষয়বস্তু একই। আর তা হচ্ছে ধর্মীয় স্বাধীনতা। সেই অনুষ্ঠানটিও একই দিন অর্থাৎ ১৭ জুলাইতেই হয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত সংবাদ

ধারণা করা হচ্ছে, যে প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থেকেছেন, একই প্রক্রিয়ায় হয়তো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রিয়া সাহা। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রিয়া সাহা আলাদা বৈঠকে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভিত্তিহীন কোন অভিযোগ করেছেন কিনা-সে বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা খোঁজখবর নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রিয়া সাহার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই দিনে হাই প্রোফাইল আরও একটি বৈঠকে প্রিয়া সাহার উপস্থিতি জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। ছবিটি দেখে অনেকে প্রশ্ন করেছেন, ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে প্রিয়া সাহার কাজ কী?

কোনো কোনো মহল প্রিয়া সাহার এ কর্মকান্ডকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছে। হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে আসা এই নারীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালত সেই মামলা আমলে না নিলেও প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিচারের আওতায় আনার ঘোর দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার বিষয়ে তার কার্যালয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন।

সেখানে প্রিয়া সাহা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ট্রাম্পকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশেই থাকতে চাই। এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমি আমার ঘরবাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং জমিজমাও দখল করেছে। কিন্তু এর কোনো বিচার হয়নি।’

কারা জমি ও ঘরবাড়ি দখল করেছে- তা ট্রাম্প জানতে চাইলে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো এসব করেছে।’ এর পরই বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.