162493

সাদা চোখে: কোরআন বুঝা নিয়ে মশিউরের গান বিতর্ক

আলী আবদুল মুনতাকিম । । 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু মানুষের কণ্ঠের উচ্চারণে মধু ঢেলে দিয়েছেন বা তাদের ভোকাল কর্ডগুলো বিশেষায়িত করে দিয়েছেন । তারাই কণ্ঠশিল্পি। গান লিখতে পারবেন, সুর দিতে পারবেন কিন্তু কণ্ঠ দেওয়া সহজ নয়। নিজস্ব চ্যানেলে অঢেল অর্থ ব্যয়ে সবরকম ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করে ATN Bangla তে একঘন্টার গানের অনুষ্ঠান করেও ড. মাহফুজুর রহমান সমালোচনার মুখে পড়েছেন, কারণ কণ্ঠ ছিল না, তিনি বড় মনের বিধায় সমালোচনা সহ্য করেছেন। শিল্পীর কণ্ঠ আল্লাহপাকের দান। এ দানের সদব্যবহার শিল্পীর দায়িত্ব।

আমাদের দেশের বহু শিল্পী গানের জগতে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শিল্পী আব্দুল আলীম, আব্বাসউদ্দীন, আব্দুল জব্বার, সাবিনা, রুনা, সামিনা, হাদী, আইয়ুব বাচ্চু, জেমস্, হাসান, সাফিন,কুমার বিশ্বজিত, এরা স্ব স্ব স্থানে উজ্জ্বল আর হালে একাই একশ হিসেবে প্রমাণ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে সারাগামাপার মঞ্চ কাঁপিয়ে আমাদের  “নোবেল”। এরা ইসলামি গান করলে কী হত কল্পনা করুন!

যাক, ইসলামী সংগীত বলতে নজরুল এর কিছু গান-ই আমরা শুনতাম। কবি শিল্পী মতিউর রহমান মল্লিক আশির দশকে ইসলামী সংগীতের নবযুগ সূচনা করেন। তার হাত ধরে বহু শিল্পীর আগমন ঘটে। তারপর একে একে আমরা সাইমুম এর পরে আলহেরা, কলরবসহ অসংখ্য শিল্পীগোষ্ঠী দেখি।

ইসলামী সংগীতে প্রতিটি গানের লেখকেরই আল্লাহপাককে সন্তুষ্টির একটা নিয়ত থাকে। রসুলের সা. উপর দরুদের একটা বাসনা থাকে, সওয়াবের একটা লোভ থাকে। কিন্তু কোন গান যদি অর্থের কারণে গোনাহর আশংঙ্খা থাকে বা ভুল মেসেজ শ্রোতার কাছে পৌঁছার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তা জরুরি সংশোধন করা উচিত। শিল্পী হতে বহু বছর লাগে, তাকে শেষ করে দিতে সপ্তাহ লাগে। শিল্পীর সমালোচনার আগে শতবার ভাবতে হয়। কারণ, একটি গানের লাইনের অনেক অর্থ করা যায়।

মূল কথায় আসা যাক, ইসলামি সংগীতের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পি মশিউর রহমান “কোরান বুঝা খুবই সহজ কোরান বুঝা প্রয়োজন ” ছন্দে ছন্দে একটি গান চিত্রায়ণ করে আপলোড করেছেন। গানটির কিছু শব্দ বা বাক্য নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে এবং দু -একজন ইউটিউবার ব্যাংঙ্গ করে তার বিপরীতে জারিগান গেয়ে তারাও আপলোড করেছেন। ব্যাপারটি সিক্সপ্যাক বিতর্কের মত ঘোলাটে হওয়ার আগে সমাধানের লক্ষ্যেে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস।

আগেই বলে নেই, আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করব। আমাকে কোন পক্ষে ফেলার সূযোগ নেই,দয়া করে আমাকে পক্ষে ফেলার চেষ্টা না করতে আমার সম্মানিত পাঠকদের অনুরোধ করব। আমাকে যারা জানেন, আমি নিজে কওমি মাদরাসার খেদমতে অনেকদিন থেকে জড়িত।

তাই কোন কথা কওমির পক্ষেই বলব তা নাও হতে পারে। পক্ষে না হলে আমি অমুক তমুক এ মন্তব্যগুলি না করা উত্তম । আবার যারা ইসলামি আন্দোলন করেন তাদের পক্ষে না গেলে হেফাজতি কওমি এগুলো না বলাই উত্তম। মশিউর এর বিতর্কিত গানের আগে তার একটি গান নিয়ে বলি।

” মালিক.. মালিক, মালিক তুমি জান্নাতে তোমার কাছে আমায় একটি ঘর বানিয়ে দিও -সে বিভীষিকাময় মহাদিনে, তোমার প্রতিবেশি করে নিও, মালিক…..। যেদিন কেহ আসবেনা কারো কোন কাজে, যেদিন পাপি পাপের বোঝায় মরবে লাজে। ফুলসিরাত পার হতে গিয়ে পিছলে যাবে কত পথিক…মালিক..।

আবুল আলা মাসুম এর কথা, মশিউর রহমানের সুর ও নিজ কন্ঠে এ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেকে এ কথা বলতেও ভুলেন না যে, এই একটি গান আল্লাহপাক কবুল করলে জান্নাতে যাওয়ার বড় উছিলা হয়ে গেল।

এ সময়ের সেরা শিল্পী ও জাগ্রত কবি  মুহিব খান যেমন, “বাংলাদেশ আমার, বাংলাদেশ তোমার, বাংলাদেশ সবার ,ধন্য ধন্য আমি সবার চাইতে দামি বাংলা মাটির সন্তান , ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি সেনার চাইতে খাটও নগদ রক্ত দিয়ে কেনা, কসম খোদার,শত্রু বা হানাদার একটি কনাও কেউ নিতে পারবে না ”

অথবা “কেন কেন কেন কেন …..কেন নারী নেতৃর কাজের মেয়েটি হচ্ছে নির্যাতিতা….কেন অপচিকিৎসায় ধুঁকে মরে ডাক্তার পুত্রের পিতা, কেন সারামাস খেটে স্কুল শিক্ষক বেতন পায়না তার, কেন ছয় চার মেরে লাখ টাকা পায় সামান্য খেলোয়ার..” সহ অসংখ গান তার নিজের লেখা, সুরারোপ করা ও নিজ কণ্ঠে গেয়ে ইসলামি সাংস্কৃতিক অঙ্গণকে মাতিয়ে তুলার এক অনন্য -অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।

মুহিব ক্ষণজন্মা। অকালে ঝরে পড়া ইসলামি সঙ্গিতাকাশের নক্ষত্র আইনুদ্দিন আল আজাদ মৃত্যুর আগে গেয়েছিলেন ” পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে, কত ঢেউ চলে যায় আসে নাতো ফিরে…তেমনি আমিও হারিয়ে যাব আসব না কভু ফিরে…. ” । আজাদ ক্ষণজন্মা।

শিল্পি মশিউরেের বেশ কিছু কালজয়ী গান বর্তমান প্রজন্মের শিহরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এ কথা বলতে কোন দ্বিধা নেই। ইদানীং, তিনি তার মেয়েকে নিয়ে যৌথ কনণ্ঠে গান পরিবেশন করে আরও চমকে দিয়েছেন।

বছর বিশেক আগে মশিউর কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে, হিমছড়ি পাহাড় চূড়ায় দেখা ঘন কুয়াশা, আছরে পড়া ঝর্ণা ও বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এর অপূর্ব মিতালি দেখে মালিক রবের মায়াবি ছোয়া নিয়ে একটি গান লিখে, সুর দিয়ে নিজ কণ্ঠে গেয়ে শুনিয়ে সারা ফেলেছিলেন।

জাগ্রত কবি মুহিব, প্রয়াত শিল্পী আজাদ যেমন এক সিলসিলায় গান গেয়ে তরুণদের মাতিয়ে রেখেছেন, মশিউর তেমনি আরেক সিলসিলার গান গেয়ে তরুনদের মাতিয়ে রেখেছেন। কোন তকমা লাগিয়ে কোন শিল্পীকে ব্যাংঙ্গ করার আগে খোঁজ-খবর নিলে গীবতের কঠিন গোনাহ থেকে বাঁচা যায়। ব্যাংঙ্গ করে ইউটিউব বানালে বা টিকটক বানালে কি হয় তা জানিনা। ফতোয়া দরকার। মশিউর-এর গাওয়া যে গানটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা দেখি।

“গ্রামবাসী শহরবাসী শুনেন দিয়া মন
কোরান বুঝা খুবই সহজ কোরআন বুঝা প্রয়োজন
না বুঝে পড়লে কোরআন শয়তানেরই জুড়ায় পরাণ
এক অক্ষরেে দশ নেকি হবেরে ভাই তখন
মাতৃভাষায় কোরান আপনি বুঝে পড়বেন যখন
শুনেন দিয়া মন,
শিরক করা বড় গোনাহ সন্দেহ তাতে নাই
কোরআননা জানা সবচে বড় গোনাহ সেটাও জানা চাই
আরে শুনেন দিয়া মন,
কোরআন বুঝা খুবই সহজ কোরআন বুঝা প্রয়োজন “

যে লাইন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে তাহল, ” না বুঝে পড়লে কোরআন শয়তানেরই জুড়ায় প্রাণ” আর দশ নেকি হবে বুঝে পড়লে। সাদা চোখে কথাটিতে আপত্তি তোলা যেতেই পারে। সাধারণ শ্রোতারা সাদা চোখেই তাকায়। কিন্তু সূক্ষ দৃষ্টিতে তাকালে, দেখা যায় বলা হয়েছে, কেউ যদি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বা কোরআন বুঝে পড়ার সূযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বুঝে পড়ল না বা ফাঁকি দিয়ে গেল, শয়তান খুশি হল যে, যাক বাবা সে কোরআন বুঝতে গেলনা, খালি সওয়াবের উদ্দেশ্যে পড়ে গেল।

কথাটি সবার জন্য নয়। একজন মূর্খের পক্ষে কোরআন বুঝা কঠিন। সে তেলাওয়াতেই সওয়াব পাবে। যাক তবুও মশিউর বলেছেন, গানটি তিনি লেখেন নি, কণ্ঠ দিয়েছেন মাত্র। ইতোমধ্যেই গানটি নাকি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চলুন দেখি কোরান কি বলে এবং এ আলোকে ইসলামী স্কলারগন কি বলেন, কোরআনের ৫৪ নং সুরা ক্বামারের ৪ জায়গায় বলা আছে, “আমি উপদেশ গ্রহন করার জন্য এ কোরআনকে সবার জন্য সহজ করে দিয়েছি, কে আছে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য ?”

আল্লাহ পাকের এ আহবান সুযোগ থাকা সত্তেও যে গ্রহন করলনা সে খুবই দুর্ভাগা। তাকে দেখে শয়তানের পরাণ জুড়াবে। এখানে বিষয়টা সহজ। কিন্তু কোরআন তেলাওয়াত করতে অর্থ বুঝতেই হবে অথচ তার অর্থ জানার সুযোগ নেই তাকে তেলাওয়াত থেকে নিরুৎসাহিত করার সুযোগ নাই।

সব আমলের চেয়ে বড় আমল হল কোরআন তেলাওয়াত। একটি জরুরি কথা, কেউ যদি কোরআনের কোন বঙ্গানুবাদ পড়ে মনে করেন তিনি কোরআন বুঝেছেন ঠিক হবে না । কারণ তিনি ঐ বুঝটা বুঝেছেন যেটা অনুবাদকারী বুঝেছেন।

যেমন- কেউ ইবনে কাসির পড়লেন তিনি ইমাম ইবনে কাসিরের বুঝ নিলেন। অন্যজন তফসিরে তাবারী পড়লেন তিনি তার বুঝ নিলেন। কেউ জালালাইন পড়লেন তিনি তার বুঝ নিলেন। কোরআনের বুঝ নিতে কোরআনকেই বুঝতে হবে। হতে পারে আপনি এমন বুঝ পেলেন যে বুঝটা এ পর্যন্ত কেউ উদ্ধার করতে পারেনি। এখানেই কোরআনের মোজেজা। আপনি সফল।

বিশিষ্ট মুফাস্সির, স্কলার ড.আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বলেছেন, কোরআন না বুঝে পড়াটা কোন পড়া হলনা। আস সুন্নাহ ট্রাস্টের এক আলোচনায় ৬/১১/২০১৫ তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কোরআান পড়বেন না, বুঝবেন না, জান্নাতে যাবেন এটা কঠিন। না বুঝে তেলাওয়াত করা না’হক আর তেলাওয়াত বুঝে করা তেলাওয়াতের হক ।

কোরআন যার শাফায়াত করবে সে পার পেয়ে যাবে। সৌভাগ্যবান। যার শাফায়াত কোরআন করবে না সে দূর্ভাগা। না-বুঝে পড়াটা কোরআনের পূর্ণ হক আদায় হল মনে করে বসে থাকার সূযোগ নেই। বুঝিনা বলেও কোরআন পড়ে কেউ ভুল করে না বরং কোরআন না পড়েই ভুল করে। আমাদের দূর্ভাগ্য কোরআনের কোন এলমি তরজমা হচ্ছেনা। তাই আমরা কোরআনের মূল স্পিরিট জানছি না। আলেমগনও এ দায়িত্ব নিচ্ছেন না। কোরআন পড়ে মুত্তাকী হওয়া যায়, মুফতি হওয়া যায় না।

অপরদিকে বিশিষ্ট আলেম ড. মুস্তাফিজ বলেছেন, কোরআন তেলাওয়াত করা ফরজে আইন আর বুঝে পড়া ফরজে কেফায়া। কোরআন বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহপাক কোরান তেলাওয়াতের কথা বলেছেন। (১-ইয়াতলু আলাইহিম আায়াতি, ২- উতলু মা উহিয়া ইলাইহে)

‘”আয়শা রা. সূত্রে বর্ণিত, নবী সা. এরশাদ করেন, যারা সহিহ শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করে তারা নেককার সম্মানিত ফেরেশতাদের সমতূল্য মর্যাদা পাবে। আর যারা কষ্ট সত্ত্বেও কোরআন শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা ও মেহনত চালিয়ে যায়, তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব” আবুদাউদ-১৪৫৪

একজন আলেমের লিখা দেখুন, “কোরআন শরিফ মধুর কণ্ঠে পড়াও প্রশংসনীয়। হাদিস শরিফে সুন্দর কণ্ঠে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। বারা ইবনে আজেব রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সুললিত কণ্ঠে কোরআন পড়ো, কেননা তা কোরআনের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়। ’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ২১৪১)

কোরআন শরিফ হচ্ছে হেদায়েতের এমন ব্যবস্থাপত্র, যা পাঠ করলেই ঈমান বাড়ে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তাদের সামনে কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২)

কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। একেকটি অক্ষর পাঠ করলে দশ-দশটি নেকি পাওয়া যায়। এ সওয়াব পাওয়ার জন্য অর্থ বোঝার শর্ত হাদিসে উল্লেখ নেই। হজরত উসমান রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পড়বে, সে একটি নেকি পাবে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ করে বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)”

বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলমানের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশী মুসলিম আরবী জানেনা, বাকি ২০% মুসলিমের মধ্যে ১৫ শতাংশ হচ্ছে লোকাল আরবী ভাষায় কথা বলে। সুতরাং কোরআন বুঝে পড়াটা শর্ত হলে বিশাল জনগোষ্ঠী কোরান থেকে দূরে সরে যাওয়ার ভয় থাকে।এ জন্য কোরান তেলাওয়াত ফরজে আইন, বুঝে পড়া ফরজে কেফায়া বলা হয়েছে।

বুঝা গেল মশিউর এর গাওয়া গানটি বাস্তবতা থেকে দূরে। তাই গানটি সরিয়ে ভাল কাজ করেছে। যারা মশিউরকে দলীয় তকমা লাগিয়ে গালি দিচ্ছেন তাদের ভিউয়ার ৪/৫ শত, মন্তব্যের ঘরেও তারা গালি শুনছেন। মশিউর এর গানের ভিউয়ার মিলিয়নে। তাকে কেউ গালি দেয় না, সাদা চোখে এটিই দেখা যায় । একজন শিল্পীকে শেষ করে দেয়ার মানসিকতা ভাল নয়। তাকে বিচারের ভার কেন নিচ্ছেন। তার খুলুসিয়াতে হাত দেয়া দরকার কি!

ফ্র্যান্স একাডেমি এওয়ার্ড প্রাপ্ত ড. মরিস বুকাইলি তার গবেষণার জন্য আরবী শিখেছেন। ফেরাউনের লাশ গবেষণার পর জানলেন এটা কোরআনে সুরা ইউনুসের ৯২ নং আয়াতে আছে। তিনি তাই ৫০ বছর বয়সে কোরআন শেখেন। কারণ কোরআন বুঝতে, কেরআ শিখতে হয়। অনুবাদ শিখে হয় না।

কোরআন তো নাজিল হয়েছে আমল করার জন্য, আমল করতে হলে তাে বুঝতে হবে, না হয় শুনে আমল করতে হবে। কোরআন শুনলে মনে রেখাপাত করতে হবে। না হলে আমলে আসবে না। তাই বুঝাও দরকার।
কোরআন না বুঝে পড়লে তাকওয়া আসবেনা। মশিউর এর গানে সে কথাগুলোই বুঝানো হয়েছে। দশ নেকি নিয়ে বলাটা অবশ্যই ঠিক হয়নি। যেহেতু অর্থে গোলমাল শুরু হয়েছে তাই এ গান নিয়ে মশিউর ভাবুন!

লেখক: প্রকৌশলী ও কুরআন গবেষক

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.