163686

দুই বছর মেয়াদী ইফতা বিভাগের পরিকল্পনা বেফাকের; যা আছে প্রস্তাবনায়

রকিব মুহাম্মদ: শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমকালীন বিশ্বে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দুই বছর মেয়াদী ইফতা বিভাগের (উচ্চতর ইসলামি আইন গবেষণা ও ফাতওয়া বিভাগ) প্রস্তাবনা পেশ করে দেশের সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ও মতামত জানাতে দেশের বিজ্ঞ মুফতিদের পরামর্শ চেয়েছে বেফাক।

গত ২৭ জুলাই (শনিবার) রাজধানীর জামিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসায় বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে মজলিসে শূরার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই বছর মেয়াদী ইফতা বিভাগে ফাতাওয়ার মৌলিক আরবি গ্রন্থ ও উসুলে ইফতার গ্রন্থের পাশাপাশি সমকালীন বিশ্বকে জানার জন্য আধুনিক আরবি ভাষায় রচিত কিতাবাদি অন্তুর্ভুক্তকরণ, ইসলামি ব্যংকিং ও অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পারিবারিক আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক মাসয়ালা, হাদিস মুখস্তকরণ, ইসলামি আইন ও জাগতিক আইনের মৌলিক শিক্ষাসহ ইত্যাদি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, দেশের অন্যতম ১০ জন বিশেষজ্ঞ মুফতি প্যানেল পরামর্শক্রমে নতুন এ পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করেছেন। চট্রগ্রামের জামিয়া মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি আব্দুস সালাম ও রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের শাইখ যাকারিয়া ইসলামি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ ও  এ নেসাবের সার্বিক তত্বাবধায়ন করছেন।

নতুন এ পাঠ্যক্রম সম্পর্কে মুফতি প্যানেলের সদস্য ও শাইখ যাকারিয়া ইসলামি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, রাজধানী ঢাকা ও বাইরের কিছু বড় বড় মাদরাসার ইফতা বিভাগের কিতাবাদি সামনে রেখে  দুই বছরব্যাপী সম্ভব্য এ নেসাব তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরাদেওবন্দ, সাহরানপুর, পাকিস্তানের বেফাক বোর্ড, ফরিদাবাদ, ঢালকানগর, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ি, পটিয়া, হাটহাজারী, নানুপুরসহ আরও বেশকিছু মাদরাসার ইফতা বিভাগ পর্যালোচনা করে একাধিকবার বৈঠকে বসি এবং নতুন এ পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করি। মুরুব্বিরা নতুন এ পাঠ্যক্রমের মৌলিকত্ব ও বৈশিষ্ঠ্যগুলো মাথায় রেখে  তাদের সুচিন্তিত মতামত পেশ করবেন এবং এটাকে সবাই গ্রহণ করবেন।

১০ জনের বিশেষজ্ঞ মুফতি প্যানেল-  ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, জামিয়া মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি আব্দুস সালাম, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সহ-সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, শাইখ যাকারিয়া ইসলামি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।

মসজিদে আকবর কমপ্লেক্সের পরিচালক মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন। ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের মুফতি নুরুল আমিন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সহ-সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, জামিয়া মালিবাগ মাদরাসার মুফতি মোহাম্মদ হারুন, বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি আবু ইউসুফ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুফতি জিয়াউর রহমান।

২ বছর মেয়াদী ইফতা বিভাগের পাঠ্যক্রম (১ম বর্ষ): ১. উসুলুল ইফতা (ইবনে আবিদিন শামি রচিত ‘শরহু উকুদু রসমিল মুফতি’ এবং মুফতি তাকি উসমানি রচিত ‘উসুলুল ইফতা ও আদাবিহি’), ২. উসুলুল ফিকহ ( শাইখ আব্দুল করিম জায়দান রচিত ‘আল ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহ’ ), ৩. কাওয়াইদুল ফিকহ (শাইখ আমিমুল ইহসান আল মুজাদ্দেদী রচিত ‘আল কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যিা’ ও শাইখ ইবনে নাজিমুল মিসরী রচিত ‘ আসবাহু ওয়ান নাজায়ের- ১ম খন্ডের আল মাদখালুল ফিকহিয়িল আম লি জুরকা), ৪. তারিখুল ফিকহে ও তাদওয়েনিহি (তারিখুত তাসরিয়াহ আল ইসলামিয়া), ৫. আহকামুল মিরাস (আল মাওয়ারিস ফি শারিয়াতিল ইসলামিয়াতি লিস সাবুনি), ৬. আত তামরিন আলাল ইফতা (ফি ফিকহিল ইবাদাত), ৭. আদ্দুররুল মুখতার (কিতাবুত তালাক থেকে নির্বাচিত অংশ, ওয়াকফ ও মুকাদ্দামা)।

২ বছর মেয়াদী ইফতা বিভাগের পাঠ্যক্রম (২য় বর্ষ): ১. আল ইকতিসাদুল ইসলামিয়া (মুফতি তাকি উসমানি রচিত ‘বুহুছ ফি কাজায়া ফিকহিয়াতুন মাহাসিরা’), ২. আল মাকারিনাতুন বাইনাল কাওয়ানিনিল ওয়াজয়িয়্যা ও শারইয়্যা (হামারে আয়েলি মাসায়েল (উর্দু) অংশবিশেষ), ৩. আত তামরিন আলাল ইফতা, ৪. মাহাসিবাতুত তামরিন (নির্বাচিত বিষয়ে ১০০টি তামরিন), ৫. ই’দাদুল মাকালা, ৬. আহকামুস সিয়াসাতিল ইসলামিয়াতি ওয়া উসুলিয়া ফি জাওয়িল কিতাব ও সুন্নাতি (মুফতি তাকি উসমানি রচিত ‘ইসলাম আওর সিয়াসি নাজরিয়াত’)

আরএম/

 

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.