165040

কাশ্মির পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেভাবে দেখছে

আবদুল্লাহ তামিম ♦

ভারতের সংসদে কাশ্মীরের বিশেষ আইন ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পাস করার কথা নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতের সংসদ শুরু হতেই রাজ্যসভায় এ বিল পাস করা হয়।

কাশ্মিরে ভারত সরকারের এ নতুন পদক্ষেপকে অঞ্চলটিতে সঙ্ঘাত উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো। বিজেপি সরকার কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্বশাসন তুলে নেয়ার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যম। এ ঘটনা উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন সঙ্কট তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবিসি ওয়ার্ল্ডের খবরে ভারত সরকারের পদক্ষেপকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এর ফলে কাশ্মিরে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, কাশ্মিরের মর্যাদার বিষয়ে ভারতের যে কোন সরকারের সবচেয়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। রিপোর্টে কাশ্মিরকে ভেঙে দুই ভাগ করার ঘটনাকে ‘নাটকীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, এতে পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা বাড়বে এবং জম্মু ও কাশ্মিরীদের কাছ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়বে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

কাতারভিত্তিক জনপ্রিয় পত্রিকা আল জাজিরা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভারত রাষ্ট্রপতির এক ডিক্রির মাধ্যমে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। গত সাত দশকেরর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির জন্য এটি সবচেয়ে বিতর্কীত সিদ্ধান্ত। আল জাজিরা আরো লিখেছে, এই পদক্ষেপের সমালোচকরা বলছেন, সরকার আশা করছেন আর্টিকেল-৩৭০ বাতিলের মাধ্যমে হিন্দুদের কাশ্মিরে জমি কিনে বসবাসের ধারা তৈরি করে তারা মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরের জনসংখ্যার চিত্র পাল্টে দিতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন লিখেছে, কাশ্মিরের শাসন পদ্ধিতিকে বিতর্কীত এক পরিবর্তন এনেছে মোদি সরকার। সিএনএন অনলাইন তাদের রিপোর্টে লিখেছে, কাশ্মির কার্যত স্তব্ধ এখন। একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই পদক্ষেপকে কাশ্মিরবাসীর জন্য ‘মানসিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

আরেক মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ সেখানে নতুন করে সঙ্ঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। এতে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির সাথে জম্মু ও কাশ্মির সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে এর ফলে।

পাকিস্তানের দ্য ডন নিউজ বলেছে, কাশ্মিরকে মুসলিম প্রধান এলাকা থেকে হিন্দুপ্রধান এলাকা করে তোলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেইলি পাকিস্তানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত যদি কোনো অপরিণামদর্শী অঘটন কিংবা আগ্রাসন চালায়, তবে তার দেশ উপযুক্ত জবাব দেবে।

রোববার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বৈঠকের তিনি এমন কথা বলেন। রুশ গণমাধ্যম স্পুটনিকের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুচ্ছ গোলা নিক্ষেপের পর ইমরান এই বৈঠকের ডাক দেন।

হিন্দি পত্রিকা দ্যা ইনকিলাব লিখেছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির জনসাধারণ জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (ওআইসি)।

ওআইসির অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে দেয়া এক পোস্টে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে বলা হয়, ভারত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে মুসলিম নেতাদের নজরবন্দীর করে রাখা ও দেশটিতে ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।

এদিকে পুরো কাশ্মীরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করাকালীন আরও আট হাজার আধাসামরিক সেনা পাঠানো হচ্ছে।

বিমানবাহিনীর সামরিক পরিবহন বিমানে করে সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে আট হাজার সেনা পাঠানো হয়। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হলো।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যদি মনে করে যে, তাদের সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ, তাহলে তারা প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে গভর্নর শাসিত আইন জারি কিংবা এটি নিয়ে রাজনীতি করতো না। এতে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং উত্তেজনা বাড়বে।

সূত্র: দ্য ইনকিলাব, ডেইলি পাকিস্তান, বাসিরাত অনলাইন

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.