165948

যেমন ছিল পুরনো দিনের কাবা শরীফ!

বেলায়েত হুসাইন


পবিত্র কাবাসহ হজ আদায়ের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থানের পুরোনো দিনের দুর্লভ কিছু ছবি আবিষ্কৃত হয়েছে। সম্প্রতি ছবিগুলো আবিষ্কার করেছে সৌদি আরবের বাদশাহ আব্দুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি। ছবিগুলো ১৯৩৬ ঈসায়ী মোতাবেক ১৩৫৪ হিজরী সালের হজ ও ওমরার।

আজ থেকে প্রায় ৮৩ বছর আগের ঘটনা-এতে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার প্রাচীন নানা দৃশ্য ফুটে উঠেছে। একইসঙ্গে আরব দেশটির তৎকালীন জীবনযাপনের অবস্থা ও তাদের সভ্যতা সম্পর্কেও মোটামুটি ধারণা নেয়া যায় এই ছবি থেকে।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি একটি আরব-ইসলামী জ্ঞান ও তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দুর্লভ ছবিগুলো এখানেই সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এছাড়া, লাইব্রেরিতে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহীত ইসলামের সোনালী দিনগুলোর দৃশ্য সম্বলিত অনেক ছবির সমাহার। এগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আরব-ইসলামি ইতিহাস টিকে থাকবে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ এই আশা রাখে।

১৯৩৬ সালের ছবিগুলো মূলত মিশরীয় হজযাত্রীদের। তবে তাদের কাছে এর কোনটাই রক্ষিত ছিল না। এতোদিন পরে বাদশাহ আব্দুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি এগুলো জনসম্মুখে উপস্থাপন করল। কিন্তু এই ছবিগুলো তারা কোত্থেকে জমা করেছে তা জানা যায়নি।

মিশরীয় এই কাফেলার ছবিগুলোতে রয়েছে ১৯৩৬ সালের পুরোনো কাবাগৃহ,আরাফাতের ময়দানে জমায়েত তীর্থযাত্রীদের তৎকালীন কিছু খন্ডচিত্র, মিনা ও মুজদালিফায় আগমনরত এহরামের সাদা কাপড় পরা মানুষের রাস্তা পারাপারের দৃশ্য, সেই সময়ের কাবা শরীফের একটি দরজার ছবি এবং মসজিদে নববী স. এর পুরোনো একটি মিনারসহ মদীনায় হাজী সাহেবদের পানি পান করা ও হজের নানান প্রাচীন দৃশ্য।

তাছাড়া, ইসলামী অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্লভ অন্তত ৫৫৬৪ টি স্থিরচিত্রের বিরাট এক সংগ্রহ গড়ে তুলেছে বাদশাহ আব্দুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি। আর এর অধিকাংশ ছবিগুলো তুলেছেন সময়ের সবচে বিজ্ঞ আলোকচিত্রীগণ। ছবির মাধ্যমেই যারা ইতিহাস ঠিকিয়ে রাখছেন যুগের পর যুগ।

আর মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাহর বর্তমান যে আলিশ্বান অবস্থা, সৌদির অর্থনীতির আকাশচুম্বী উত্থান, সেখানের উন্নত রাস্তাঘাট, নান্দনিক স্থাপনা এবং হজযাত্রীদের সেবা প্রদানে একেক করে তথ্যপ্রযুক্তির নানারকম ব্যবহার-এর সবই মূলত সৌদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরম্ভ হয়েছে-যার কিছুই আগে এরকম ছিল না।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.