172557

ডুবে যাওয়া কাবায় সাঁতার কেটে তওয়াফ করেছিলেন তিনি

আওয়ার ইসলাম: আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ সর্বক্ষণই তাওয়াফ করে মানুষ কিংবা ফেরেশতা। বৃষ্টির কারণে ঢুবে যাওয়া কাবা শরিফের সাঁতার কেটে তাওয়াফ করেছিলেন আল আওয়াদি।

জানা যায়, ১৯৪১ সালে একাধারে ৭দিন বৃষ্টি হয়েছিল, তখন পবিত্র কাবা শরিফ ৬ফুট পানিতে ডুবে গিয়েছিল। সাঁতার কেটে তওয়াফ করেছে ১২ বছর বয়েসি বাহরাইনের শেখ আলআওয়াদি।

মক্কায় দ্বীনি স্কুলের ছাত্র ছিলেন সেসময় তিনি। সে সময়ের ১২ বছর বয়েসি কিশোর ২০১৫ এর মে মাসের ১৬ তারিখ ৮৬ বছর বয়সে শেখ আল আওয়াদি বাহরাইনে ইন্তেকাল করেন।

তার ছেলে আব্দুল মজিদ ২০ বছর আগে হজ্জ করতে গিয়ে তার বাবার ছবির পোস্টার কপি কিনে এনেছিলো মক্কা থেকে পিতার জন্যে উপহার হিসেবে।

ইন্তেকালের আগে ২০১৩ সালে কুয়েত আল রাই টেলিভিশনে তিনি তার স্মৃতিচারণে বলেন, বন্যার পানিতে মানুষ, যানবাহন, আর গবাদি পশু ভেসে যেতে দেখেছি।

৭ দিন পর বৃষ্টি থামলে আমর ভাই হানিফ, বন্ধুবর তিমবাক্তুর মালিয়ান শহরের মোহাম্মদ আল তাইয়িব, আলী থাবিত, ইয়ামেনের এডেনের হাসিম আল বার, আর আমাদের শিক্ষক তিউনিসের আব্দুল রউফ মিলে কাবা শরীফের বন্যার অবস্থা দেখতে যাই।

তিনি আরো বলেন, ‘বাচ্চারা পানি দেখলে যা করে আমরাও তাই করলাম, মাথায় আসলো সাঁতরে তওয়াফ করবো। যেই ভাবা সেই কাজ, আমরা চারজন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।

পুলিশ হই হই করে উঠলো, আমরা কালো পাথর চুরি করার নিয়তে পানিতে নেমেছি কি-না। আমি সাঁতরাতে সাঁতরাতে পুলিশকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, আমি শুধু সাঁতরে তওয়াফ করব ৭ বার।

পুলিশ তার স্বভাবসুলভ খবরদারি করেই চলছিলো। ইতোমধ্যেই আলী থাবিত আর মোহাম্মদ আল তাইয়িব ক্লান্ত হয়ে পড়লে কাবা শরীফের দরজার ওপর বসে থাকে উদ্ধার হবার আশায়।

শেখ আলআওয়াদি আরো বলেন, ‘আমার ভয় হচ্ছিলো, পুলিশ আমাকে গুলি করে না বসে! আবার আনন্দ হচ্ছিলো এই ভেবে, পৃথিবীতে কেউ কোনদিন এই ভাবে কাবা প্রদক্ষিণ করেনি, আমিই প্রথম।

তাই ভয় আর আনন্দের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে আমি কাবার চারপাশে সাঁতরেই চললাম। পরবর্তীতে জানতে পেরেছিলাম, পুলিশের রাইফেলে আসলে গুলি ছিলো না।”

শেখ জানান তিনি তৎকালীন মক্কার বুড়ো মানুষদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তারা এরকম বানের পানি আগে দেখেছেন কি-না। তারা কস্মিনকালেও এত পানি দেখেননি বলে খবর দিয়েছেন। সূত্র: ইন্টারনেট

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.