172556

সালাম ইসলামের প্রতীক!

ওমর আলফারুক ♦

সালাম ইসলামের প্রতীক। ইসলাম সালামের ব্যাপারে যারপরনাই গুরুত্তারোপ করেছে। পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম দিতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন। অজস্র হাদিসে সালামের কথা এসেছে, সেখান থেকে কিছু নির্বাচিত হাদিস নিয়ে এবারের আয়োজন।

১. হজরত আলী রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, এক মুসলমান উপর অন্য মুসলমানের ওপর ছয়টি হক রয়েছে- যখন সাক্ষাৎ হয়, তখন তাকে সালাম দিবে। যখন দাওয়াত দেয়, তখন তার দাওয়াত কবুল করা।

যখন তার হাঁচি আসে (এবং আলহামদুলিল্লাহ বলে) তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। যখন অসুস্থ হয়, তখন তাকে দেখতে যাওয়া। যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার জানাজার সঙ্গে যাবে এবং তার জন্য তাই পছন্দ করবে যা নিজের জন্য পছন্দ করে। (ইবনে মাজাহ)

২. হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, এক মুসলমান উপর অন্য মুসলমানের ওপর পাঁচটি হক রয়েছে- সালামের জবাব দেয়া, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, জানাজার সঙ্গে যাওয়া, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচিদাতার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। (বুখারি)

৩. হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা ওই পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবে না, যে পর্যন্ত মুমিন না হয়ে যাও। (অর্থাৎ তোমাদের জিন্দেগি ইমানওয়ালা জিন্দেগি না হয়ে যায়।) এবং তোমরা ওই পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত পরস্পর একে অপরকে মহব্বত না করো। আমি কি তোমাদের ওই আমলটি বলে দেব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে মহব্বত পয়দা হবে? ( সেটা এই যে) তোমরা পরস্পর সালামের খুব প্রচলন ঘটাও।

৪. হজরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা সালামের খুব প্রচলন ঘটাও। তাহলে তোমরা উন্নত হয়ে যাবে। (তাবারানি, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)

৫. হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করিম সা.-এর খিদমতে হাজির হলো এবং সে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলল। নবী করিম সা. তার সালামের জবাব দিলেন, এরপর সে মজলিশে বসে গেল।

নবী করিম সা. ইরশাদ করলেন, দশ। অর্থাৎ তার সালামের কারণে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর আরেকজন লোক এলো এবং সে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলল। নবী করিম সা. তার সালামের জবাব দিলেন। তারপর সে বসে পড়ল।

নবী করিম সা. ইরশাদ করলেন, বিশ। অর্থাৎ তার জন্য বিশটি নেকি লেখা হলো। তারপর তৃতীয় একজন এলো এবং সে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বলল। নবী করিম সা. তার সালামের জবাব দিলেন। তারপর সে মজলিশে বসে পড়ল। নবী করিম সা. ইরশাদ করলেন, ত্রিশ। অর্থাৎ তার জন্য ত্রিশটি নেকি লেখা হলো। (আবু দাউদ)

৬. হজরত আবু উমামা রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্যের সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ওই ব্যক্তি যে আগে সালাম করে। (আবু দাউদ)

৭. হজরত আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আগে সালাম করে, সে অহংকার থেকে মুক্ত। (বায়হাকি)

৮. হজরত কাতাদা র. থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা. ইরশাদ করেছেন, যখন তুমি কোনো ঘরে প্রবেশ করো, তখন ওই ঘরের বাসিন্দাদের সালাম করো। আর যখন (ঘর থেকে) বের হও, তখনো ঘরের বাসিন্দাদের সালাম করে বিদায় হও। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক)

৯. হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কোনো মজলিশে যায়, তখন যেন সালাম করে। তারপর যদি বসতে চায়, তবে বসে। এরপর যখন মজলিশ থেকে উঠে যেতে ইচ্ছা করে, তখন যেন আবার সালাম করে। কেননা প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম থেকে উত্তম নয়। অর্থাৎ মুলাকাতের সময় যেমন সালাম করা সুন্নত, তেমনি বিদায়ের সময়ও সালাম করা সুন্নাত। (তিরমিজি)

১০. হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সা. ইরশাদ করেছেন, ছোট বড়কে সালাম করবে। পথচারী বসা ব্যক্তিকে সালাম করবে এবং কমসংখ্যক লোক অধিকসংখ্যক লোককে সালাম করবে। (বুখারি)

-ওএএফ/এএ

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.