178365

‘ভারতীয় মুসলমানদের জন্য আদালতের দরজাও বন্ধ হয়ে গেল’

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী কাল্পনিক চরিত্র রামের স্বীকৃতি সম্বলিত বাবরী মসজিদ সংক্রান্ত ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত সব ক’টি রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, অবশেষে ভারতীয় মুসলমানদের জন্যে সেদেশের আদালতের দরজাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের মুসলমানরা বিস্ময়ে হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মোদি সরকারের চাপেই বাবরী মসজিদের স্থানে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার রায় দেয়া হয়েছে। কেননা রামের কথিত জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমির বিবাদ নিয়ে চলা মামলা নিষ্পত্তির আগেই বাবরি মসজিদের ওপর রাম মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আসছে বিজেপি নেতারা।”

‘বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকায় খননকাজে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরা চাপের মধ্যে ছিলেন। তাঁদের বাধ্য করা হয়েছিল মন্দিরের পক্ষে বলতে। অনুসন্ধানের নেতৃত্বে ছিলেন যেই বি আর মানি, যাঁকে এলাহাবাদ হাইকোর্ট দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মানিকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে অধিষ্ঠিত করে” বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়।’

তিনি বলেন, আর্কিওলজিকেল সার্ভে অব ইন্ডিয়া—এএসআই-এর যে জরিপের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে রায় দেয়া হয়েছে, তা যে বিতর্কিত, রোমিলা থাপার, রামশরণ শর্মা ও ডি এন ঝা’র মতো ভারতীয় ইতিহাসবিদদের মন্তব্য তারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এসব প্রথিতযশা ভারতীয় ইতিহাসবিদরা এএসআই-এর প্রত্মতাত্বিক জরিপের প্রতিবেদনকে গলদ, সন্দেহজনক ও ক্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, ”এএসআই-এর রিপোর্ট থেকে মন্দিরের প্রত্যক্ষ প্রমাণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না”। তাছাড়া ”বাবরি মসজিদের নিচে পুরোনো ছোট মসজিদ ছিল। এর পশ্চিম পাশের দেয়াল, ৫০টি পিলার ও স্থাপত্যশৈলী তারই প্রমাণ। পশ্চিম পাশে দেয়াল দেখলেই বোঝা যায় যে এই পাশে মুখ করে নামাজ পড়া হয়েছে। এর কাঠামো মসজিদের মতো, মন্দিরের মতো নয়” বলে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে প্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, রিভিউ পিটিশনগুলো গ্রহণ করে এসব ক্রুটিপূর্ণ দিকগুলোর ওপর শুনানীর সুযোগ দেয়া হলে সুপ্রীম কোর্টের রায়ের ভুল-ভ্রান্তি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠতো। সেই পথ বন্ধ করার জন্যেই রিভিউ পিটিশনগুলো খারিজ করে দেয়া হয়েছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, আইন সঙ্গতভাবে নয়, বরং প্রশ্নবিদ্ধ প্রত্মতাত্ত্বিক জরিপের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রদত্ত সুপ্রীম কোর্টের বিতর্কিত রায়ে বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি যথাস্থানে বাবরী মসজিদ পুনঃনির্মাণের প্রতিশ্রুতি পালনে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্ঠির জন্যে বিশ্বের বিবেকবান সম্প্রদায় ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.