178750

উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে ওজিলের মন্তব্য ভূয়া, দাবি চীনের

আওয়ার ইসলাম: পূর্ব তুর্কিস্তানে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনের অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত সাবেক জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল। গত শুক্রবার একটি টুইটে এ নিয়ে চীনের সমালোচনা করেন তিনি। আর এতেই ফের উইঘুর মুসলিম ইস্যুতে চীনের সমালোচনায় ফেটে পড়ছেন বিশ্বসম্প্রদায়।

ফলশ্রুতিতে চীন চাইছেনা এই অবস্থা অব্যাহত থাকুক। উইঘুর মুসলিমদের ওপর তারা কোনরকম নির্যাতন করছেনা বলে এরইমধ্যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। চীন দাবি করেছে, ওজিল যা লিখেছেন তা ভূয়া । দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শিং জুয়াং বলেছেন, উইঘুরদের সঙ্গে চীনের মুয়া’মালা ও আচরণ সম্পর্কে আরসেনাল সুপারস্টার যে মন্তব্য করেছেন তার ভিত্তি মিথ্যা সংবাদের ওপর। তার দাবি, চীন সম্পর্কে ওজিলের নিকট ভুল সংবাদ উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবিসি আরবি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত উপত্যকা জিংজিয়াংয়ে মেজুত ওজিলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন।
শিং জুয়াং বলেছেন, ওজিল আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জিংজিয়াং আসলে বাস্তব বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন যে,ব্যাপারটি আসলে কি?

চীন সরকার উইঘুর মুসলমানদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেনা-অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করে দেশটির কর্মকর্তারা এই কথা জানিয়েছেন। তারা দাবি করছেন, বরং উইঘুররা ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দমন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রকম ট্রেনিংয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

কিন্তু চীনের এই কথারও কোন ভিত্তি নেই বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। কেননা,উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে এ পর্যন্ত একাধিক মানবাধিকার সংগঠন অসংখ্য তথ্য প্রকাশ করেছে-তাতে অন্তত দশ লক্ষ মুসলিম চীন কতৃক কার্যত গৃহবন্দী রয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পুরুষদেরকে বিনা বিচারে সেনাছাউনিতে দিনের পর দিন আটকেরও অভিযোগ করেছে সংস্থাগুলো।

মেসুত ওজিল চীনকে মুসলিমদের বিপক্ষে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোয় এর আগেও এক প্রতিক্রিয়া দেখেয়েছে চীন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিতে ওজিলের দল আর্সেনালের সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটির সম্প্রচার না করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

তবে ওজিলের সাহসী অবস্থানকে স্বাগত জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মুসলিমরা। উইঘুর ইস্যুতে সবাই যখন নিশ্চুপ ঠিক তখনই ওজিলের এই সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন মিসরের সাবেক ফুটবলার আবু তারিকাহ।

রোববার মিসরের একটি স্পোর্টস চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ওজিলের এই মন্তব্য শক্তিশালী ও সাহসীই বটে। আমি তার অবস্থানের সমর্থন করি। ওজিলকে জীবন্ত হৃদয়ের অধিকারী আখ্যা দেন আবু তারিকাহ।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর ওজিল তার ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে টুইট করে পূর্ব তুর্কিস্তানকে মুসলিম উম্মাহর ‘রক্তের মিনার’ আখ্যা দেন-এসময় পশ্চিমা গণমাধ্যমসমূহ উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনের অমানবিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার পরও ইসলামি বিশ্বের নীরবতা তাকে অবাক করছে বলেও জানান তিনি।

উইঘুর মুসলিমদের ধর্ম পালন না করতে চীনের চাপাচাপির কঠোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘পূর্ব তুর্কিস্তানে কুরআন আগুনে জ্বালানো হচ্ছে, মসজিদে তালা দেয়া হচ্ছে, মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, একে একে হত্যা করা হচ্ছে ওলামায়ে কেরামকে, যুবকদের বন্দী করে দাসত্বের জীবনের সম্মুখীন করা হচ্ছে’। এরপরও মুসলিম বিশ্বের নীরবতায় আমি অবাক।

উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনাদের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ওজিল বলেন, মুসলিম ঘর থেকে পুরুষদের সেনাছাউনিতে বন্দী করে রেখে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একটি মেয়েকে জোরজবরদস্তি করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে একজন কমিউনিস্ট পুরুষের সঙ্গে। প্রতিটি পরিবারেই একজন কমিউনিস্ট এই মিশন বাস্তবায়ন করছে চীন সরকার।

ওজিল আরও উল্লেখ করেন, এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত নীরব, তাদের তরফ থেকে কোন আওয়াজ নেই, প্রতিবাদ নেই। উইঘুর মুসলিম ভাইদের প্রতিরক্ষার জন্য কার্যত কোন ভূমিকাই তারা গ্রহণ করছে না। তারা কি জানে না যে, জুলুম-অত্যাচারে সম্মতি আরেকটি ভিন্ন জুলুম!

উইঘুর মুসলিমদের জন্য দোয়া করে ওজিল সেদিন লিখেন, হে মহান প্রতিপালক! পূর্ব তুর্কিস্তানে আমাদের উইঘুর ভাইদের সঙ্গে থাকো। আল্লাহ চক্রান্তকারীদের জন্য উত্তম প্রতিশোধ গ্রহণকারী

বিবিসি আরবি ও আল কুদস অবলম্বনে বেলায়েত হুসাইন

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.