180828

আল্লামা হবিগঞ্জী রহ.-এর লন্ডনের দিনলিপি

আব্দুল জলিল।।

আল্লামা হবিগঞ্জী রহ. সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। সম্ভবত ১৯৮৮ সালেই তার প্রথম লন্ডন সফর। ইস্ট লন্ডন মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে তার সাথে হঠাৎ দেখা। সালামের পর কবে এসেছেন জিজ্ঞাসা করতেই বিনয়ী হাসি দিয়ে শায়খে কাতিয়া মাওলানা আমিনুদ্দিনের দিকে ইশারা করে বললেন, ‘সাবে লইয়া আইছইন’।

শায়খে কাতিয়া রহ. দীনের কাজে অন্যদের এগিয়ে যেতে সর্বদা আন্তরিক সহযোগিতা করতেন। দু’তিন দিন পর বাবর ট্র্যাভেলসের সত্ত্বাধিকারী গহরপুরের সিদ্দিক আলী সাহেবের বাসায় মাওলানা শামসুল হক ও আমি তার সঙ্গে রাতের খাবারে যোগ দেই। পরে তিনি ফোর্ড স্কোয়ার মসজিদে তশরীফ আনেন ও বয়ান রাখেন।

পরের বছর থেকে চার পাঁচ বছর পর্যন্ত ফোর্ড স্কোয়ার মসজিদ থেকে তাঁকে স্পন্সর করা হয় এবং লন্ডনে অবস্থানকালীন মসজিদের মেহমান কামরায় থাকতেন । হজরতের আল্লাহ প্রদত্ত মিষ্টি আওয়াজ মিশ্রিত গভীর জ্ঞানগর্ভ বয়ান যে কাউকেই আকৃষ্ট করত।

তারপর তিনি প্রতি বছরই ইংল্যান্ড সফর করেছেন, কখনও বা দুবার । ওই সময় তিনি অধিকাংশ সময় মোক্তারপুর, ওসমানীনগরের আব্দুল কাদির (সুরত আলীর) বাসায় অবস্থান করতেন । হজরতকে বিভিন্ন জায়গায় তিনি নিজ গাড়ীতে নিয়ে যেতেন ।

১৯৯৯ সালে ফোর্ডস্কোয়ারে ‘লন্ডন ইসলামিক স্কুল’ নামে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর প্রতিটি বাৎসরিক সভা এবং ২০০৬ থেকে প্রায় প্রতিটি খতমে বোখারীতে তশরীফ এনেছেন এবং সর্বশেষ গত বছর তাতে সবক ও দোয়া দিয়েছেন । অবশ্য প্রথম খতমে বোখারির সবক ও দোয়া পরিচালনা করেছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

হজরত ইংল্যান্ডের প্রায় প্রতিটি শহরেই ওয়াজ করেছেন। বেশ কয় বছর যাবত তিনি লন্ডনে দিরাইর মাওলানা শোয়ব আহমদের মারকাজুল উলুম ও তাহার বাসায় মেহমান হতেন । গত বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত জমিয়তে ওলামার শতবার্ষিকীতে যোগদান ও মাওলানা শোয়েবের দলের সাথে তুরস্ক সফর করেন । আমেরিকা ও ক্যানাডায় তিনি বহুবার দীনি সফর করেছেন ।

আল্লামা হবিগঞ্জী র. বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। নিজ উমেদ নগর মাদরাসা ও রেঙ্গা মাদরাসার শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জমিয়তে ওলামা এবং হেফাজতে ইসলামের সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার নিরহংকার ও বিনয়ী স্বভাবের কারণে সব স্তরের মানুষের সাথে সহজেই মিশে যেতেন। অসংখ্যবার বিদেশ সফর করলেও বিদেশের প্রতি কোন মোহ তার ছিল না। তার সন্তানরা সবাই দেশে থাকেন।

আমার সাথে ভাগ্যক্রমে তার শেষ সাক্ষাৎ হয় গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি গলমুকাপন দারুস সুন্নাহ মাদরাসার বার্ষিক জলসায়। সে সময় একান্তে প্রায় চল্লিশ মিনিট আলাপের ফয়েজ লাভ করি।

৬ জানুয়ারী সোমবার সকাল ১০টায় এই মহান মনীষীকে তার সন্তান মাওলানা মাসরুরুল হকের ইমামতিতে জানাজার পর মাদরাসার মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। তার তিরোধানে দেশবাসী শোকাহত এবং জ্ঞানের ময়দানে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ তার এই বান্দাকে মাগফিরাত করে রহমতের চাদরে ঢেকে দিন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন।

লেখক: সেক্রেটারি জামিয়া দারুস সুন্নাহ ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট এসোসিয়েশন ইউকে

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.