181600

আধ্যাত্মিক জগতের দিকপাল আল্লামা মেহেরুজ্জামান ইসলামাবাদী রহ.

মুহাম্মদ এনামুল হক।।

জাহিলিয়াতের ভাইরাসে আক্রান্ত সমাজকে সঠিক ভাবে নিরাময়ের যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এক শ্রেনির বান্দাদের মনোনীত করেন। সকল প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে দীনি মুজাহাদা সর্বোপরি মানুষের আত্মার সঠিক চিকিৎসার লক্ষ্যে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম স্মৃতির পাতায় আজো বিদ্যমান। গণমানুষের হৃদয় বিজয়ী একজন সাধক, স্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া এক মহা মনীষী আল্লামা শাহ মেহেরুজ্জামান ইসলামাবাদী রহ.।

নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহাম্মদ সা. এর প্রেমে মাতওয়ারা এক সাহাবীদের মতো জীবন-যাপনকারী এক রাসূল প্রেমিক। যার তেজস্বী, মধুর ও অনলবর্ষী বক্তৃতার সিংহভাগে ফুটে উঠতো রাসূল সা. প্রেম ও শ্রদ্ধা। আল্লাহর অলিদের প্রতি ছিলো যার অসাধারণ ভক্তি ও শ্রদ্ধা। আধ্যাত্মিক জগতের দিকপাল, ইসলামী শরিয়তের খুটিনাটি বিষয় ও যার নখদর্পনে আলোকিত মানুষ গড়ে উঠতো, নির্লোভ, নিঃস্বার্থ মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ও প্রচন্ড আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর বহু অসাধারণ ও দূর্লভ গুণাবলীর অধিকারী আল্লামা শাহ মেহেরুজ্জামান ইসলামাবাদী রহ.। এমন মনীষীরা যুগ যুগ ধরে আপন মহিমাতেই ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

আল্লামা শাহ মেহেরুজ্জামান ইসলামাবাদী রহ. চট্টগ্রাম জেলার রাংগুনিয়া উপজেলাধীন কোদালা গ্রামে ১৯১১ খৃষ্টাব্দে জম্ম গ্রহণ করেন। ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ সোমবার ৮৬ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। লাখো মানুষের বুক ফাঁটা কান্নায় তারই প্রতিষ্ঠিত শেষ জীবনের স্মৃতি আল জামেয়া আল ইসলামীয়া মেহেরিয়া সরফভাটা মাদরাসার মাকবারায় দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, ছয় পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য শাগরেদ, ভক্ত ও অনুরক্ত রেখে যান।

প্রাথমিক লেখাপড়া শেষে তিনি স্কুল ছেড়ে মাদরাসায় ভর্তি হন। পরে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রামের জামেয়া আরবিয়া ইসলামীয়া জিরি মাদরাসায় ভর্তি হয়ে মাধ্যমিক স্তরে দীর্ঘ সাত বছর অধ্যয়ন সমাপ্ত করেন। অতপর এশিয়া খ্যাত দীনি বিদ্যাপীঠ জামেয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।

বই কিনতে ক্লিক করুন

তিনি স্নাতকোত্তর (দাওরায়ে হাদিস) এর সনদ লাভ করে ২৩ বছর বয়সে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে পশ্চাৎপদ রাংগুনিয়া বাসীর মধ্যে দীনের আলো প্রজ্জ্বলিত করার জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন আল জামেয়া আল ইসলামিয়া মেহেরীয়া মাঈনুল ইসলাম সরফভাটা মাদরাসা, আজিজিয়া কাছেমুল উলুম কোদালা বড় মাদরাসা ও সরফভাটা মুয়াবিনুল ইসলাম মাদরাসা। এ সকল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা এবং ঈর্ষণীয় উন্নতিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

রাজনৈতিক ভাবে সচেতন ও বিচক্ষণ এ মনীষী আজাদী আন্দোলনে পালন করেন বিরাট ভূমিকা। ৬৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী সন্নিকটে গেলেও তাঁর বিজয়কে জোর করে ও কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়া হয়। ৭১ সালের পর বহুকাল তিনি প্রতিহিংসার কবলে পড়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

মাওলার আশেকে সাধকগন অক্লান্ত সাধনা বা তাপস্যা করে রুহানি জগতের কামালিয়াতের স্থরে বেলায়াতের অতি মর্যদাশীল মকাম হাসিল করেন। এ-মহান মনীষীর খেলাফত লাভের ঘটনা এক নজিরবিহীন ইতিহাস। জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কুতুবে যমান আল্লামা শাহ মুফতি আজিজুল হক রহ. দক্ষিণ চট্টগ্রামের এক বিশাল ইসলামী মহাসম্মেলনে বক্তৃতাকালে তাকে খেলাফত প্রদান করে স্বীয় পাগড়ি পরিয়ে দেন। সেই থেকে পাগড়ি তাঁর পোষাকের অপরিহার্য অংশ। কেউই চিরদিনের জন্য এই পৃথীবীতে আসেনি। আল্লাহ ব্যতিত কেউ আমরা চিরন্তন নন।

আল্লামা শায়খ আবদুল হক ছলিম, আল্লামা সোলতান যওক নদভী, মাষ্টার হাবিবুল্লাহ, মাওলানা কারী ওবাইদুল্লাহসহ অনেকে তাঁর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেছেন।

লেখক: পরিচালক পারুয়া সাহাব্দিনগর ইসলামিয়া মাদরাসা

-এএ

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.