181705

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে আত্মহত্যার ফতোয়া খুঁজছে সিরিয়ার নারীরা

ওমর আলফারুক।।

সিরিয়ার অবস্থা ভয়াবহ। চলছে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা| নাজুক পরিস্থিতি। বাইরে থেকে কাল্পনা করাও অসম্ভব। প্রতিদিন অসংখ্য নর-নারী নিহত হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। প্রতিদিন সেখানে ধর্ষিত হচ্ছেন অসংখ্য নারী। মুসলিম নারী। আলেপ্পোর আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার জন্য এটা খুবই ভয়াবহ সময়।

মারাত্মক এ অবস্থায় নারীরা ধর্ষিত হওয়ার আগে আত্মহত্যার ফাতোয়া খোঁজছে! পূর্ব আলেপ্পোর একপিতা ধর্ষিত হওয়ার আগে মেয়েদের হত্যা করার ব্যাপারে স্থানীয় আলেমদের পরামর্শ চেয়েছেন। ইরানি মিলিশিয়া এবং অন্যান্য আর্মি গ্রুপের ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকেন আলেপ্পোর নারীরা।

প্রখ্যাত সিরিয়ান ইসলামিক স্কলার মুহাম্মদ আল ইয়াকুবি টুইট করেন, আর্মি গ্রুপের ধর্ষণ থেকে রক্ষা করতে নিজ স্ত্রী-কন্যা-বোনদের হত্যা করার হুকুম জানতে চেয়েছেন এক ব্যক্তি।

আরও একজন নারীর একটি বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত জীবিত। এটা আমার সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য আমি জানি না। কারণ, এখানে কোন নারীর বেঁচে থাকার অর্থই হলো কোন না কোন গ্যাং কর্তৃক নিশ্চিত ধর্ষিত হওয়া।

তিনি বলেন, আমি কারও কারুণা চাই না। আমার বোঝাপড়া একান্ত আমার নিজের। আমাকে আল্লাহর কাছে ন্যস্ত করুন। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট। আত্মহত্যার পর আমাকে যেন অযথা দোষারোপ না করা হয়- আমি শুধু এইটুকু চাই!

তিনি বলেন, জাহান্নাম এখন আর ভয় পাই না আমি। আমাদের বেঁচে থাকাও যেখানে কিছু মাত্র কম নারকীয় নয়। আমার বাবা-মা মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছেন। এখন আমারও বাঁচতে হলে মরতে হবে। কারণ, বেঁচে থেকে আমি মানুষের মত প্রাণীদের আনন্দের বস্তুতে পরিণত হতে চাই না। আমি মানুষের সমালোচনার পরোয়া করি না। তারা আমার যা ইচ্ছা সমালোচনা করুক। তবু আমি হায়েনাদের স্পর্শমুক্ত পবিত্র মৃত্যু চাই’।

আলেপ্পো এখন একটি জল-জ্যান্ত দোজখ। যেখানে কেউ পোঁড়ছেন, কেউ পোঁড়ার অসহায় অপেক্ষা করছেন।

-হুআ

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.