182596

দৃশ্যমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ

আওয়ার ইসলাম: সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অন্যতম দোহাজারী-কক্সবাজার ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান। প্রকল্পের শ্রমিকরা সকাল-সন্ধ্যা দ্রুত কাজ করছেন। রেলপথ বসানোর জন্য মাটির রাস্তা থেকে শুরু করে ব্রিজ, কালভার্ট তৈরির কাজও দিন-রাত চলছে। নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে কক্সবাজার রেলস্টেশনেরও।

জানা যায়, নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৩৩ শতাংশ। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অবশ্য কিছু ঝামেলা রয়ে গেছে। প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, যে গতিতে কাজ চলছে তাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে। তিনি বলেন, ছোটখাটো কয়েকটা সমস্যা রয়েছে। নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হওয়ার আগেই এগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের জুন মাসেই এই পথে ট্রেন চলবে। তবে রেলওয়ের অন্য সূত্রগুলো বলছে, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু জটিলতা এখনো থেকে যাওয়ায় তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের শতভাগ কাজ করার পথে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত আরও ২৮ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

প্রকল্প সূত্র জানায়, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথটি নির্মাণ হবে দুটি লটে। প্রথম লটে নির্মাণ করা হবে দোহাজারী থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার ট্র্যাক। একই সঙ্গে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন কাজ সম্পন্ন করা হবে।

আর দ্বিতীয় লটে চকরিয়া থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার ট্র্যাক এবং কক্সবাজার আইকনিক ইন্টারমডেল টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজ করা হবে। এ ধাপের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত (২২ জানুয়ারি) এই প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের সার্বিক অগ্রগতি ৩৩ শতাংশ। মেজর ৩৯টি ব্রিজের মধ্যে সাতটি ব্রিজের পিলার নির্মাণ শতভাগ শেষ হয়েছে। এখন শুধু উপরের অংশ বসানোর বাকি। একইভাবে আরও আটটি ব্রিজের পিলারের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

১৪৫টি মাইনর ব্রিজ-কালভার্টের মধ্যে ২৫টির নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। কক্সবাজার রেলস্টেশনের পাইলিং শুরু হয়েছে। এই রেলপথ নির্মাণে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে মাটির সড়ক বা এমব্যাঙ্কমেন্ট নির্মাণ।

সূত্র আরো জানায়, ইতিমধ্যে এই কাজেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এখন রেলপথের ৩৩ ও ৮২ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে মাটির কাজ চলছে। আরও অনেক স্থানে মাটির কাজ চলমান। রেলপথটির উচ্চতা হবে স্থানভেদে বিভিন্ন লেয়ারে ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.