187699

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ার ইসলাম: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিরাজ করছে করোনা আতঙ্ক। ইতোমধ্যে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগেই বন্ধ করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

এমনই পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে দশটি নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো হলো-

০১। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি।এরপর ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিন পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর পর আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি। যা সাধারণ ছুটির সঙ্গে যোগ হবে। ফলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান ছুটির আওতায় থাকবে।

এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও ওষুধের দোকান এবং হাসপাতালসহ জরুরি যেসব সেবা রয়েছে তার জন্য এসব প্রযোজ্য হবে না। করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুতরাং উল্লিখিত সময়ে জনসাধারণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (যেমন- খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ক্রয় ও চিকিৎসা গ্রহণ ইত্যাদি) কোনোভাবেই ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

০২। উল্লিখিত সময়ে কোনো অফিস-আদালতে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে হলে তা অনলাইনে সম্পাদন করতে হবে। তবে যারা প্রয়োজন মনে করবে তারা সরকারি অফিস সময়ের মধ্যে শুধু অফিস খোলা রাখতে পারবে।

০৩। এ সময়ে দেশে সীমিতভাবে গণপরিবহন চলাচল করবে। তাই জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একেবারেই যারা বাধ্য হয়ে গণপরিবহন ব্যবহার করবে তারা যাতে করোনা সংক্রমিত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া গাড়ির স্টাফদের মাস্ক ও গ্লাফস পরাসহ অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

০৪। ছুটি চলাকালে জনগণের প্রয়োজনের বিষয় বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেবে।

০৫। আগামীকাল ২৪ মার্চ থেকে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন থাকবে। দেশের ৬৪ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর জেলা কমান্ডারকে রিকুইজিশন দেবে।

০৬। করোনাভাইরাসের কারণে নিম্নে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি যদি স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয় তাহলে সরকারের ‘ঘরে ফেরার কর্মসূচি’ মাধ্যমে তাদের গ্রামে ফিরে গিয়ে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে জেলা প্রশাসক।

০৭। সরকার ভাসানচরে এক লাখ লোকের আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উল্লিখিত সময়ে দরিদ্র কেউ ভাসানচরে যেতে চাইলে জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

০৮। করোনাভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অথনৈতিক সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা প্রদান করবে।

০৯। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫০০ জন চিকিৎসকের তালিকা তৈরি ও তাদের প্রস্তুত রাখবে।

১০। দেশে সব ধরনের সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে, অসুস্থ জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যাওয়ার জন্য বার বার নিষেধ করা হয়েছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে নামাজ আদায় করতে না যেতে অনুরোধ করা হলো।

আজ সোমবার পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে করোনাভাইরাসে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছ ৩৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫ জন।

-এটি

ad