188329

অসহায়দের পাশে দাঁড়ান: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ার ইসলাম: সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রথম কর্তব্য। করোনা ভাইরাস রোধে তিনি সমস্ত নির্দেশনা মেনে চলতে জনগণকে অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিতে হবে। সচেতন হন, নিজের ও পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন না। যার যার স্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আলাপের সময় এ কথা জানান তিনি। সীমিত আকারে অফিস আদালত চালু করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান সংকটের সুযোগে কেউ যেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে না পারে তা লক্ষ্য রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। ছিন্নমূল হতদরিদ্র জনগণের দোড়গোড়ায় খাদ্যসহ যাবতীয় সহযোগিতা পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রসাশনের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। দুসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি দুর্নীতি করে, সে যেই হোক ছাড় দেয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেলক্ষ্যে কারো অনাবাদি জমি যেন পড়ে না থাকে। যার যেখানে জমি আছে তরিতরকারি-ফলমূল-খাদ্য উৎপাদন করুন।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজব ছড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। গুজবে কান দেবেন, গুজবে বিচলিত হবেন না। নববর্ষের অনুষ্ঠান ডিজিটাল আকারে করার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবন থেকে ৬৪ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা বিত্তবানদের সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তা হবে দুঃখজনক। এটা আমরা সহ্য করব না।

তিনি বলেন, ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে। তারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে।

‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাই যেন সাহায্য পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে।’

করোনা মোকাবেলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বিশাল। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কারণ নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যেন করোনা না ছড়ায় সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

করোনার উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করার অর্থ নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জনকল্যাণে যেসব কাজ তা করতে হবে যথাযথভাবে নিয়ম মেনে।

-এটি

ad