193908

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর: বহির্বিশ্বকে এরদোগানের হুশিয়ারি

বেলায়েত হুসাইন ।।

তুরস্কের ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া জাদুঘর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগান প্রাচীন এই স্থাপনাটিকে মসজিদে রূপান্তরের আগ্রহের কথা ঘোষণার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত।

তুরস্কের বাইরে আয়া সোফিয়াকে ঘিরে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। তবে এই সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো বহির্বিশ্বকে এ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেছেন মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এই নেতা।

তিনি শক্ত গলায় বলেছেন, আমাদের মসজিদ নিয়ে বহির্বিশ্বের কেউ গলাবাজি করলে আমরা সেটিকে তুরস্কের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা মনে করবো।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের লেভান্ট অঞ্চলে একটি নতুন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের প্রার্থনাস্থলকে আমরা যেভাবে সম্মানের চোখে দেখি, তাদের থেকেও ঠিক এরকম আচরণই আশা করি। এটি নিয়ে তাদের কোন মতামত আমাদের জানার আগ্রহ নেই।

এরদোগান বলেন, এটি সত্য যে তুরস্কে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ- এরপরও এখানে বসবাসরত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও সমান স্বাধীনতা ভোগ করে। তারা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। আর তাদের এসব অধিকার রক্ষা করা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এরদোগান উল্লেখ করেন, পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের অজুহাতে নিহত হচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে- আমাদের সেগুলো আগে বন্ধ করা উচিৎ।

উল্লেখ্য, কনস্টেন্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) বিজয়ের আগে আলোচিত আয়া সোফিয়া ছিল একটি গির্জা। শহর বিজয়ের পরে উসমানি সুলতান সেনাপতি মুহাম্মাদ আল ফাতিহ এটিকে মসজিদে রূপ দেন। অতঃপর ১৯৩৫ সালে কথিত আধুনিক তুরস্কের রূপকার মোস্তফা কামাল পাশা (আতাতুর্ক) আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর বানিয়ে ফেলেন।

কয়েক দশক পরে এটিকে ফের মসজিদে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। আর এটি ইসলামি আইনেরও পরিপন্থী নয়, কেননা, ইস্তাম্বুল তরবারির সাহায্যে বিজয় হয়েছে, সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে নয়- এটিকে মসজিদ বানাতে ইসলামি আইনে কোন বাধা নেই।

এদিকে আয়া সোফিয়া জাদুঘর হিসেবেই বহাল থাকবে নাকি মসজিদে রূপান্তরিত হবে- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে তুর্কি কাউন্সিল অফ স্টেট গত বৃহস্পতিবার শুনানি আরম্ভ করেছে। জানিয়েছে, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালত ফায়সালা প্রদান করবেন।

আনাদুলু ও ডেইলি পাকিস্তান

-এটি

ad