193914

মৃতের নামে চল্লিশা, কুলখানির বিধান!

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী।।

মহাগ্রন্থ আল কোরআনকে আল্লাহতায়ালা আরোগ্যদানকারী ও রহমত বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। যে মহামানবের পবিত্র অন্তরে কোরআনকে গ্রথিত করেছেন তাকে রহমাতুল্লিল আলামীন (বিশ্ব জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ) বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। কোরআন এইজন্য নাজিল হয়নি যে, একে যথেচ্ছা ব্যবহার করা হবে। ভুল প্রয়োগ করা হবে। আর এর কারণে আমাদের বদ কিসমত অর্জন করতে হবে!

আমরা আমাদের আমলের মাধ্যমে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারব, মৃতদের নয়। বিশেষ করে যে সমস্ত পদ্ধতি আমরা নিজেরা বানিয়ে নিয়েছি মৃতদের সওয়াব পৌঁছানোর জন্য। এগুলো নবী (সা.) থেকে প্রমাণিত নয়; বরং সরাসরি বিদআত। যেমন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে বিশেষ দিনে, বিশেষ সময়ে ও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একত্রিত হওয়া এবং ঐ মজমায় খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা।

মৃতের নামে কুলখানি, কোরআন খানি, ফাতেহাখানির খতম করানো, জুমা রাতে খতম দেওয়ানো, তিনদিনা, দশদিনা, চল্লিশা, বাৎসরিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি করার শরয়ী কোনো ভিত্তি নেই। এ সবই হিন্দুদের সংস্কৃতি। এগুলোকে ইসলামের অংশ মনে করা বিদআত। তাই তা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যক।

তবে মৃতের কবরে সওয়াব পাঠানোর জন্য ইসালে সওয়াব করা উত্তম কাজ। সেই হিসেবে এভাবে তৃতীয় দিন, চল্লিশতম দিন, এগারতম দিন ইত্যাদি কোনো নির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে এতিম-অসহায় মানুষদেরকে খানা খাওয়ানো, তাদের উদ্দেশ্যে কোরআন পড়ানো জায়েয আছে। তবে কোরআন পড়তে হলে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থান থেকে পড়তে হবে। একসাথে একত্রিত হয়ে পড়ার সুযোগ ইসলামে নেই।

মনে রাখতে হবে নির্ধারিত দিন তারিখ ইচ্ছা না থাকা সত্তে¡ও প্রথা মোতাবেক ঐ দিনে করাটাও বিদআত। তবে ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরআনখানি বা দুআ করে টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়া জায়েয নয়। মৌলভী ভাড়া করে কোরআন খতম দেওয়ানের চেয়ে নিজে ছোট ছোট সূরা পড়ে মৃত আত্মীয়-স্বজনের নামে ইসালে সওয়াব করাই ভালো। কারণ এ ধরনের খতমের বিনিময় আদান-প্রদান হলে যে পড়বে তারই তো সওয়াব হবে না, মৃতের কবরে কিভাবে পৌঁছবে?

হাঁ, খতমে কোরআন, খতমে ইউনুস বা অন্য কোনোদুআ-দুরুদের খতম যদি কেবলমাত্র দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে করা হয় (যেমন, রোগমুক্তি, বিপদ-আপদ থেকে হিফাযত, ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি ইত্যাদি) সেক্ষেত্রে বিনিময় দেয়া-নেয়া জায়িয। তবে এক্ষেত্রেও বিনিময় না নেওয়াই শ্রেয়।- ইলাউস সুনান ১৬/১৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/২৪০-২৪১, ২৪৩; ফাতাওয়া দারুল উলূম ৫/৪৩৪-৪৪

লেখক: মুহাদ্দিস জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম বাগে জান্নাত ৪৩ নবাব সলিমুল্লাহ রোড, চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ।

-এটি

ad