195719

কাশ্মির ইস্যুতে সরব চীন-পাকিস্তান

আওয়ার ইসলাম: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের দ্বিখণ্ডিত হওয়া ও সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে আবারও সক্রিয় হয়েছে চীন-পাকিস্তান। বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তারা কাশ্মির প্রসঙ্গটি তোলেন।

এক্ষেত্রে চীন আরো একবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, গত এক বছরে এ নিয়ে তিন বার কাশ্মির প্রসঙ্গ জাতিসংঘে উত্থাপিত হলো এবং এটা তাদের ‘সাফল্য’।

যদিও গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ’ দাবি করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে বার বার নিরাপত্তা পরিষদে তোলার ব্যাপারে চীন-পাকিস্তানের ব্যর্থতা নতুন কিছু নয়। চীন এর আগেও দুই বার এই চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো ব্যর্থ হয়ে এবার তারা অন্তত ঠিক করুক যে, ভবিষ্যতে এই প্রয়াস আর চালাবে কি না।

বুধবার ছিল ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার প্রথম বর্ষপূর্তি। সে উপলক্ষে এদিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির প্রসঙ্গটি তুলতে সচেষ্ট হয় চীন। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের বাকি চার স্থায়ী সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়ার আপত্তিতে তা নিয়ে আর আলোচনা হয়নি।

পরে বিষয়টি নিয়ে এক টুইট বার্তায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় সব সদস্যই মনে করে, জম্মু-কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপক্ষীয় বিষয়। যা কোনোভাবেই আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে না। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের আরো একটি চেষ্টা ব্যর্থ হলো।

এদিকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের দাবি, কাশ্মির ইস্যুকে মাটিচাপা দিতেই এ দিনেই রাম মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করা। কারণ ৫ আগস্ট ভারতের সকল গণমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল রাম মন্দিরের ভূমি পূজা।

অন্যদিকে, ৪ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মির, লাদাখ ও গুজরাটের কিছু অংশসহ তাদের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যে সেটি পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায়ও অনুমোদন পেয়ে গেছে।

পর দিন ৫ আগস্ট ইমরান খান চলে যান পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মুজাফফরবাদে। সেখানে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তিনি। এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূলত চারটি অনুমানের ওপর নির্ভর করে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ভারত। কিন্তু তাদের প্রত্যেকটি অনুমানই ব্যর্থ হয়েছে এবং এটি ভারতের ‘কৌশলগত বিপর্যয়’।

-এটি

Please follow and like us:
error3
Tweet 20
fb-share-icon20

ad