সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪ ।। ৯ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫


তিন দিনের মেহনত বহমান থাকুক বছরজুড়ে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মাওলানা আহমাদ লাট ||

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) বাদ ফজরের বয়ান

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই পৃথিবীতে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। সে দায়িত্ব হলো- আমরা এক আল্লাহর গোলামি করব এবং তাঁরই দেওয়া দীন প্রচার করব। এই দীন প্রচার করতে গিয়ে আম্বিয়া আলাইহিস সালাম কত মেহনত আর মুজাহাদা করেছেন। কত ত্যাগ আর কুরবানির নজরানা পেশ করেছেন। হজরত আদম আ. কুরবানি করেছেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে ‘আবুল বাশার’- সমস্ত মানুষের পিতা বানিয়ে দিয়েছেন। এমনিভাবে রাসুল সা.-এর কুরবানি ছিল সবচেয়ে বেশি, তাই আল্লাহ তাঁকে নবীদের নবী বানিয়ে দিয়েছেন। আমাদের সে মুজহাদা আর কুরবানির নজরানা দিতে হবে। তাহলে যত বড় কুরবানি তত বড় ফলাফল লাভ করা যাবে। সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহুম দীনের মেহনতে অনেক বড় কুরবানি দিয়েছেন। নিজের সহায়-সম্পত্তি হারিয়েছেন। বিবি নিজের বিরুদ্ধে গেছে। সন্তান হারাতে হয়েছে। তাদের ঈমান ছিল কত মজবুত! এজন্য, আমাদের ঈমান মজবুত করতে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান দাও, ঈমানের হাকিকত দাও।

মেরে মুহতারাম ভাই!
আজ আমরা যে রাত পার করলাম, একদিকে ঠান্ডা আরেক দিকে বৃষ্টি, এটা এমন এক দৃষ্টান্ত, যে ব্যাপারে রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে যার সাথে সাদৃশ্যতা রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়, তার হাশরও তার সাথে হবে’- (ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২/৫০)। সাহাবাদেরও এমন অবস্থা হয়েছে, দীনি কাজে তাদেরও নানা বৈরী আবহাওয়া ভোগ করতে হয়েছে। তো, আশা করা যায় আমাদের হাশর ও সাহাবাদের সাথে হবে। আবু বকর রা. তাঁর জান ও মাল আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছেন। ওমর ফারুক রা. তাঁর জান-মাল আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছেন। তাদের এই কুরবানির কারণে হেদায়েত আরও মজবুত হয়েছে। ঈমান তাজা হয়েছে। আল্লাহও আমাদের আজ রাতের এই কুরবানির ফলে হেদায়েত দান করুন।

মেরে দোস্ত ও বুজুর্গ!
আমরা যে এই ইজতেমা মাঠে এসেছি, মূলত আমরা আসিনি, আল্লাহ আমাদের এনেছেন। এই দীন আল্লাহর বাছাই করা। আল্লাহ আমাদের বাছাই করে এখানে এনেছেন। সুতরাং সবার যেন একটাই ফিকির হয়, আমি যা কিছু করছি আল্লাহর জন্যই করছি। ঘরের মাহাওল-পরিবেশ যদি ঠিক না হয়, তাহলে পুরুষ বদলে যায় ঘরের মহিলার প্রভাবে। যেমন ফেরাউনের জামানায় গণকরা বলল, ‘এক ছেলে আসবে যে তার রাজ্যকে দখল করবে।’ এরপর তার লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছেলেসন্তান মেরে ফেলত এবং গর্ভে থাকা ছেলেসন্তানকে পেট কেটে মায়ের বুকের ওপর রেখে জবাই করত। এভাবে বনি ইসরায়েলের ছেলেসন্তানকে তারা মেরে ফেলত। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ফায়সালা নবী মুসা আলাইহিস সালামকে পাঠাবেন, তাই পাঠালেন। আছিয়ার কারণে ফেরাউনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হলো না। ঘরের মাহাওল ঠিক না হলে পুরুষ তাশকিল হয়ে ঘরে যায়, ঘরের মহিলা সেটাকে পরিবর্তন করে দেয়। এজন্য নিজের ঘরের সদস্যদের  ঠিক করা, তাদের পেছনে মেহনত করা। তাদের ভেতর দীনের জন্য কুরবানি আর ভালোবাসা তৈরি করা।

মেরে ভাই!
ইজতেমায় ইতোমধ্যে অনেকে চলে এসেছেন, আসছেন আরও। যারা আগে এসেছেন তারা ‘অগ্রগামী’দের অন্তর্ভুক্ত হবেন। সাবিকুন আউয়ালিনদের বিষয়ে আল্লাহর ফায়সালা হলো, আল্লাহ তাদের প্রতি খুশি হয়ে যান। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাদের প্রতিও খুশি হয়ে যাবেন। আমরা তিন দিনের জন্য এই ইজতেমায় এসেছি। এই তিন দিনের মেহনত আমাদের সারা বছরের জন্য আমাদের মেহনত করতে শেখায়। ঈমান, আমল, আখেরাত, আল্লাহকে রাজি-খুশি করার মেহনত যেন আমাদের জিন্দেগিতে ভরে ওঠে। ইজতেমা শেষ হওয়া পর্যন্ত যেন এই ফিকির থাকে সবার। এগুলোকে সামনে রেখে আমরা আমাদের সময়কে কাজে লাগাই। আমলি রঙে নিজেকে রাঙাই। শীতের রাতে বৃষ্টিতে ভিজে আজ আপনারা যে কুরবানি করেছেন, আল্লাহ এই কুরবানিকে কবুল করুন।  আমিন।

শ্রুতিলিখন : মুফতি রাহাত জামিল 

কেএল/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ