সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪ ।। ৯ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫


ইলম নিয়ে ছড়িয়ে পড়তে হবে দাওয়াতি ময়দানে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| ইবরাহিম দেওলা, ভারত ||

উলামাদের উদ্দেশে খাস বয়ান-
জাহালাত দূর করার জন্য আল্লাহ তায়ালা ইলম দিয়েছেন, আর কুফর দূর করার জন্য ঈমান দিয়েছেন। যার ঈমান ও ইলম নেই, মন মতো চলাফেরা করে, তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক হয় আর ইলমের মাধ্যমে আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী আমল করা যায়। এই ঈমান ও ইলম অনেক দামি জিনিস, যার মাঝে এই দুই জিনিস আছে এবং সে অনুযায়ী আমল করে সে জান্নাতি। আর যে এই দুই জিনিসের মালিক না সে তো জাহান্নামি।

মুহতারাম হাজেরিন!  
ইলমে দীন ও ঈমান অনেক বড় নেয়ামত। এই দুই মূল্যবান বস্তুকে দিন দিন বাড়াতে হবে। যারা ইলম শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের জন্য তো সমস্ত মাখলুক দোয়া করে, আর যে শেখায় তার জন্য রহমতের দোয়া হয়।

ইলমে দীন নবুয়তের ওরাসাত, এটা যে তা গ্রহণ করবে তার জন্য এটা নেয়ামত। আমরা যখন কোনো জিনিসের মূল্য বুঝি তখন সেটার হেফাজত করি, যেমন স্বর্ণ-রূপা, এগুলোর মূল্য সবার জানা। তাই এগুলোর  হেফাজতও করা হয় যত্ন সহকারে। এই ঈমান ও ইলম এগুলোর চেয়ে বহুত দামি জিনিস। ঈমান ও ইলমের হেফাজত আর বেশি থেকে বেশি করা উচিত।

মুহতারাম উলামায়ে কেরাম!
আমরা সবাই জানি মালের তাকাজা হলে তাকে ব্যবসায় খাটালে সেটা বাড়ে, না হয়ে কমে যাবে। এমনিভাবে ইলমের তাকাজাও হলো এই ইলমকে চর্চা করা।  এই ইলম নিয়ে হরকত করা, ছড়িয়ে দেওয়া।

ভাই নিজেকে আমরা সবাই ইলমের তাবে বানাই। কোনো নবী এই ইলম থেকে আজাদ হয় নাই। যেহেতু আমাদেরও এই মিরাস মিলেছে, তাই সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় পেতে হবে আলেমদের । সবচেয়ে বেশি গোনাহ থেকে বাঁচতে হবে তাদের। সবচেয়ে বেশি নেক আমল করতে হবে আলেমদের। নবীরাও সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু। সবচেয়ে বেশি নেক আমলকারী ছিলেন। তাই ভাই,  আমরা নিজেদের ইলমের তাবে বানাব। এই ইলমের তাকাজা আমাদের আদায় করতে হবে। এক তাকাজা তো হলো ইলমের তাবে বানানো নিজেকে। আরেক হলো নিজে শিক্ষা করে অন্যকে শিক্ষা দেওয়া।

মুহতারাম দোস্ত!
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য এই ইলম রেখে গেছেন। এই ইলম নিয়ে আমাদের হরকত করতে হবে। যে শিখতে আসবে তাকে শেখানো আর যে আসবে না তার কাছে গিয়ে তাকে শেখানো। এটা হলো নবীওয়ালা সিফাত।  আমাদের ইলম হেফাজত হয় না। সাহাবাদের জামানায় ইলম হেফাজত হতো। কারণ, তাদের কাছে যখনই কোনো ইলম আসত সেটার ওপর তারা আমল শুরু করে দিতেন। সেই সাহাবাওয়ালা সিফাত আমাদের মাঝেও চর্চা করতে হবে।

মুহতারাম হাজেরিন!
জিন্দেগির মাকছাদ তো হলো ইবাদত করা। ঈমান এবং ইলম ছাড়া তো ইবাদত করা যায় না। ঈমান তো আছে আলহামদুলিল্লাহ। এখন ইলম ও শিখতে হবে। এই ঈমান ও ইলম যখন কারও মাঝে চলে আসবে, তার ইবাদত সুন্দর হবে, ইবাদতে প্রাণ আসবে।

যে যেই পেশায় আছে সে সেই পেশার শরয়ি বিধান জানতে হবে। যে শিকার করে সে শিকারের শরয়ি বিধান জেনে নেবে। যে ব্যবসা করে সে ব্যবসার শরয়ি বিধান জেনে নেবে। যে চুল কাটবে সে চুল কাটার শরয়ি বিধান জেনে নেবে। এটাই হলো মাকসাদ। তো ভাই! লোকজনকে এর উপর উঠানো, যে যেই পেশায় আছে তাকে তার পেশার বিষয়ে শরয়ি বিধান জানানো। শুধু ঈমান আর ৬ নাম্বার ইলমের তাকাজা না ভাই। ইলম নিয়ে বসে থাকার জিনিস না। এটাকে নিয়ে হরকত করতে হবে। তো মেরে ভাই! এই ইলমকে নিয়ে হরকত করতে হলে আলেমদের যাদের সম্ভব এক সালে বের হতে হয়। তা সম্ভব না হলে চার মাসের জন্য সকলেই তৈরি হয়ে যাই ইনশাআল্লাহ।

অনুলিখন ও তরজমা: মুফতি রাহাত জামিল 

কেএল/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ