মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪ ।। ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ ।। ১৭ মহর্‌রম ১৪৪৬


কুরবানি ও আকিকা একসঙ্গে দেওয়া যাবে কি ?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
প্রতীকি ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম আমল হচ্ছে পশু কুরবানি করা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার ইবাদতের জন্য এই পশু জবাই করার নামই কুরবানি, যা প্রতিটি সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। তবে কেউ কেউ কুরবানির পশুতে নিজেদের সন্তানের আকিকার অংশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এভাবে কুরবানির পশুতে আকিকার অংশ দেয়া সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? 

সন্তান জন্ম নেয়ার সপ্তম দিন আকিকা করা উত্তম। তবে সপ্তম দিনে আকিকা করতে না পারলে পরে যেকোনো সময় তা আদায় করা যাবে। শিশুর জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা না হয়ে থাকলে কুরবানির ঈদের দিন কুরবানির পশুর সঙ্গে শিশুর আকিকা করা যাবে। কুরবানি যেমন ইবাদত হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, আকিকাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা যায়, তাই কুরবানির পশুতে আকিকার শরিক রাখতে কোনো বাধা নেই।

উট ও গরুর মতো যেসব বড় পশু সাতটি নামে কুরবানি করা যায়, ওইসব পশুতে চারটি নামে কোরবানি হলে আরও দুটি বা তিনটি নামে আকিকাও হতে পারে। একইভাবে কুরবানির শরিকানার মতো একই পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হয়ে আকিকা আদায় করতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬) 

প্রথমে জেনে রাখা উচিত যে, কুুরবানির কোন পশুতে কতজন অংশ নিতে পারে। তাহলে কাউকে শরিক করতে চাইলে বিষয়টি সহজ হবে। প্রথমত, উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন: দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭) 
 
শরিকে কুরবানির ক্ষেত্রে পশুতে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ অন্যের অংশ থেকে কম-বেশি হতে পারবে না। যেমন কারও আধা ভাগ, কারও দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরিকের কুরবানি শুদ্ধ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ি: ৪/২০৭) 
 
কুরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হওয়া যাবে। এতে কুরবানি ও আকিকা দুটোই হবে। ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিতে হবে। (ইলাউস সুনান: ১৭/১২৬) 
 
 ফাতাওয়া শামিসহ ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবাদিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কৃুরবানির সঙ্গে আকিকা শুদ্ধ। (রাদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; হাশিয়াতুত তহতাভি আলাদ্দুর: ৪/১১৬)
 
আকিকা দেয়ার নিয়ম
আকিকা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ কাটা, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা, জানের সদকা দেয়া ও আল্লাহর নিয়ামতের মোকাবিলায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। ইসলামি পরিভাষায় আকিকা হচ্ছে, নবজাতকের পক্ষ থেকে পশু জবেহ করা। আলেমদের অনেকেই আকিকা করাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতি হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে একটি করে বকরি জবেহ করেছেন। (আবু দাউদ)

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, দুটি বকরি জবেহ করেছেন। খায়সামি রহ. বলেন, হযরত আনাসের বর্ণনা শুদ্ধতার বিচারে বুখারি-মুসলিমের বর্ণনার সমমর্যাদা রাখে। ইমাম মালেক রহ. তার মুআত্তায় বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার সন্তান হয় সে যদি সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করতে চায়, তবে তা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে রক্ষিত। সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে আকিকা কর, নাম রাখ ও চুল কর্তন কর। (তিরমিজি)
 
আকিকায় কতটি পশু কোরবানি করবেন?
 
ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নত। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, ছেলের পক্ষ থেকে প্রতিদান হিসেবে দুটি বকরি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নত। জন্মের সপ্তম দিন, সম্ভব না হলে ১৪তম দিন বা ২১তম দিন আকিকা করা সুন্নত।

 হযরত বুরায়দা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সপ্তম দিন অথবা চতুর্দশ দিন অথবা একুশতম দিন আকিকা কর। (তিরমিজি)

আকিকার গোশতের বিধান

আকিকার গোশত শিশুর মা-বাবাসহ সবাই খেতে পারবে। কুরবানির পশুর ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে আকিকার পশুর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। অর্থাৎ পশুর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া যাবে না। এর চামড়া বা মাংস বিক্রি করা যাবে না বরং এর মাংস খাবে, সদকা করবে ও যাকে ইচ্ছে উপহার হিসেবে দিবে। 

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে যে, তিনি বলেন, আকিকার গোশত নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে এবং কিছু সদকা করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৬৬৯)

আল্লাহ তায়ালা আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এনএ/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ