সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪ ।। ৯ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫


গাজায় ইসরায়েলি ব্যর্থতা আমেরিকা বুঝতে পেরেছে: হামাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

গাজা উপত্যকার সর্ব-দক্ষিণের শহর রাফাহতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পরিকল্পিত স্থল অভিযান নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হামাস। তেহরান সফররত হামাসের লেবানন প্রতিনিধি ও অন্যতম পলিটব্যুরো সদস্য ওসামা হামদান এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।

তিনি ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির একটি একক টক-শো অনুষ্ঠানে বলেন, “ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় তাদের ঘোষিত একটি লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেনি। এখন তাদের সামনে একটি কাজ করাই বাকি রয়েছে, আর তা হচ্ছে রাফাহতে আক্রমণ করা। ওই আক্রমণের ফলাফলও হবে শূন্য।”

সম্প্রতি ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার সর্ব-দক্ষিণের শহর রাফাহতে স্থল অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা করেন। তার ওই ঘোষণার বিরুদ্ধে ইসরাইলের দোসর আমেরিকাসহ গোটা বিশ্ব প্রতিবাদ জানায়।

কিন্তু সে প্রতিবাদ উপেক্ষা করে নেতানিয়াহু বলেছেন, যারা ইসরাইলকে রাফাহতে অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকতে বলে তারা প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধে তেল আবিবকে পরাজিত হওয়ার আহ্বান জানায়।

তবে এ সম্পর্কে হামদান বলেন, “রাফাহতে আক্রমণ করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোর প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে। ইহুদিবাদী শত্রু  এক সময় বুঝবে যে, তার পক্ষে বিজয় অর্জন করা সম্ভব নয়।” হামাস নেতা বলেন, “আমেরিকা এই বিষয়টি উপলব্ধি করেছে বলেই তারা ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।”

ওসামা হামদান গত ৭ অক্টোবরের আল-আকসা তুফান অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ আখ্যায়িত করে বলেন, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি বিশাল অভিযান চালিয়েছে অথচ তেল আবিব তা প্রতিহত করার কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু আগামী চার বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি ইস্যুকে শেষ করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা প্রতিহত করার জন্যই ৭ অক্টোবরের অভিযান চালানো হয়েছে।

হামাসের এই শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী পুরো জেরুজালেম আল-কুদস শহরকে দখল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। অথচ ফিলিস্তিনি জনগণ পূর্ব জেরুজালেম আল-কুদসকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

নেতানিয়াহু আগামী চার বছরে সারাবিশ্ব থেকে আরো ১০ লাখ ইহুদিকে এনে পশ্চিম তীরে তাদের জন্য বসতি গড়ে দেয়ারও পরিকল্পনা করেছিলেন বলে হামদান উল্লেখ করেন।

গাজা উপত্যকার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তার পশ্চিমা সমর্থকরা ‘যুদ্ধ-পরবর্তী’ যে পরিকল্পনার কথা বলছে তা সরাসরি নাকচ করে দেন হামাসের এই পলিটব্যুরো সদস্য। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব বেছে নেবে। গাজার ভবিষ্যত কী হবে তা একমাত্র ফিলিস্তিনি জনগণই নির্ধারণ করবে অন্য কেউ নয়।

হামদান বলেন, এই বাস্তবতাকে আমেরিকা পরিবর্তন করতে পারবে না এবং আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কোনো বহিঃশক্তিকে নাক গলাতে দেব না।

এনএ/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ