সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪ ।। ৯ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫


আজ দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরা, আসতে পারে কী সিদ্ধান্ত


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ। ছবি: সংগৃহীত

|| হাসান আল মাহমুদ ||

আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি) বুধবার উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সকাল ৯টা থেকে দারুল উলূম দেওবন্দের গেস্ট হাউসে শুরু হচ্ছে এ বৈঠক। ৩ দিনব্যাপী এ বৈঠক  চলবে ১ লা মার্চ পর্যন্ত।

বৈঠকে দারুল উলুম দেওবন্দের সম্মানিত মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নো’মানী, সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানী, মাওলানা মাহমুদ মাদানী, মাওলানা মুহাম্মদ আকিল সাহারানপুরী, মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ ওয়াস্তাভী, মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল, মাওলানা আবদুল আলিম ফারুকী, মাওলানা ইসমাইল মালিগাও, মুফতি মাওলানা  আহমদ খান, হাকিম কলিমুল্লাহ আলীগড়ী, মাওলানা রহমতুল্লাহ কাশ্মীরী, মাওলানা আনোয়ারুর রহমান বাজনুরী, মাওলানা সৈয়দ হাবিব বান্দভী, সৈয়দ আনসার হুসেন মিয়া দেওবন্দী, মাওলানা মাহমুদ রাজস্থানী, মুফতি শফিক ব্যাঙ্গালোর, মাওলানা আকিল গাড়ী দৌলত, মাওলানা বিলাল হোসনি নদভী লখনউ, মুহাম্মদ ইশতিয়াক মুজাফফরপুরী, মাওলানা মালিক ইব্রাহিম এবং পশ্চিমবঙ্গের মাওলানা আব্দুল সামাদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দেওবন্দ টাইমস জানিয়েছে, ‘ভারতের গাজা সংক্রান্ত পুরনো ফতোয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দারুল উলূম দেওবন্দের সুপ্রিম পাওয়ার মজলিস শুরার (নির্বাহী কমিটি) তিন দিনের বৈঠক ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুরা এই বিষয়ে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন (এনসিপিসিআর) নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এছাড়াও, দারুল উলূম দেওবন্দের অনলাইন ফতোয়া পরিষেবা এবং ফতোয়া ওয়েবসাইট বন্ধ করার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় শুরায় চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হবে।

জানা গেছে, এই বিতর্কের মধ্যে দুই মিলিয়ন মানুষ দারুল উলূমের ওয়েবসাইট দেখেন।

অন্যদিকে, দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা মুফতি আবুল কাসিম নো’মানী তার লিখিত জবাব ডিএমএসপিতে পাঠিয়েছেন।

শিক্ষা সংস্কারের বিষয়ে দারুল উলূমের অতিথি কক্ষে তিন দিনব্যাপী মজলিস শুরা অনুষ্ঠিত হবে। শুরা বৈঠকে ‘গাজওয়ায়ে হিন্দ’ বিরোধও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

মজলিস শূরা সদস্যরা এনসিপিসিআর-এর মাধ্যমে ‘গাজওয়ায়ে হিন্দ’ বিষয়টি উত্থাপনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, দারুল উলূমও বিতর্কের পর তাদের ফতোয়া ওয়েবসাইট বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে দারুল উলূমের মজলিস শুরায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, দারুল উলূমের ওয়েবসাইট প্রতি মাসে ভারত-বিদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ ভিজিট করেন।

দারুল উলূম থেকে এক লাখের বেশি ফতোয়া জারি হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ফতোয়া অনলাইনে ৪০ হাজারেরও বেশি ফতোয়া জারি করা হয়েছে৷

তবে, এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় দারুল উলূমের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন দায়ের করা হয়নি। ডাঃ বিপিন টাডা, এসএসপি সাহারানপুর বলেছেন যে এই বিষয়ে এসডিএম এবং সিও-র একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে পায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: দেওবন্দ টাইমস

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ