148404

ড. জসিম উদ্দিন নদভীর মৃত্যু, শোকে ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া

মোল্লা মোহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

চট্টগ্রামের দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল মা’আরিফের সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র মুহাদ্দিস ড. জসীম উদ্দীন নদভী (৫১) ওমরা সফরকালে সৌদি আরবের মক্কায় গতকাল রাত ৩টায় তিনি ইন্তেকাল করেন।  ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ড. জসীম উদ্দীন নদভী জামিয়া  জামিয়া দারুল মা’আরিফের বর্তমান পরিচালক আল্লামা সুলতান যওক নদভীর মেয়ে জামাতা ছিলেন। ২ কন্যা ও ১ ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন ড. জসিম উদ্দিন নদভী।

মরহুম নদভী আরবি সাহিত্যের একজন শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সাহিত্য সংস্থা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-হকের সহ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় ওলামা-মশায়েখ ও আইম্মা পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ছিলেন।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ সারির আলেম-ওলামা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুম নদভীরবিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

চট্টগ্রামের দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল মা’আরিফ প্রাঙ্গণেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকও ভাসছে শোকের নদীতে। সেখানে থেকে আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য কয়েকটি ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো।

জানি আর দেখাও হবে না
সাইমুম সাদী, আলেম, সংগঠক, লেখক

চট্টগ্রাম দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়ার সহকারী পরিচালক ড: জসিম উদ্দীন নদভী সাহেবের নামের শেষে এখন থেকে রহ. বলতে হবে। এই মনিষী গতকাল ইন্তেকাল করেছেন পবিত্র মক্কা নগরীর একটি হাসপাতালে।

গত বছর Meer Hossain ভাইয়ের আহবানে উত্তরায় একটি সেমিনারে পাশে বসে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিল। অসম্ভব বিনয়ী এবং আন্তরিক মানুষ। চমৎকার আরবী বক্তব্য রেখেছিলেন সেদিন। অসংখ্য আলেমের উস্তাদ হওয়ার পরও আহংকারের ছিটেফোঁটাও ছিলনা তার ভেতরে।

আমাদের আরবী চর্চা নিয়ে তার সাথে আরও কিছু কথা জিজ্ঞেস করার ছিল। সেদিন সময় ছিলনা। বললেন আরেকদিন চট্টগ্রামে আসেন কথা হবে।

জানি, আর কখনও জিজ্ঞেস করা হবেনা। দেখাও হবেনা। আল্লাহ আমাদের এই অগ্রজকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

মাওলানা জসীম নদভী : উম্মাহর জন্য ব্যথিত হৃদয় লালনকারী
আবদুল্লাহ আল ফারুক, আলেম, লেখক, দাঈ

বিশিষ্ট আরবি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ডক্টর মাওলানা জসীমুদ্দীন নদভী (Dr. Jasim Uddin Nadwi সহকারী পরিচালক, জামেয়া দারুল মাআরিফ, চট্টগ্রাম) গতরাত দেড়টায় পবিত্র মক্কা মুকাররমায় ইনতিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।

মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, শিষ্য ও সহকর্মীদের সবরে জামিল অবলম্বন করার তাওফিক দিন। আমিন।

উম্মাহর জন্যে ব্যথিত হৃদয় লালনকারী এই মহান চিন্তাবিদ অল্প কদিন আগে ডক্টরেট সম্পন্ন করেছেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সূচনাতেই তিনি আজ পরকালের যাত্রী হলেন।

তাঁর ইনতিকালের মাধ্যমে আরেকবার সেই ধ্রুব সত্য ভেসে ওঠলো যে, মৃত্যু আমাদের খুব কাছেই অবস্থান করছে। আমরা হায়াতের খুব ছোট্ট পাথেয় নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি।

এই অমূল্য পাথেয়র প্রতিটি অংশ যেন আমাদের আখেরাত বিনির্মাণে ব্যয় হয়, আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় হয়। আল্লাহ আমাদেরকে জীবনের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দিন। আমিন।

তাঁর রেসপেক্ট ক্ষমতা ছিল অসাধারণ
মাওলানা মাসউদুল কাদির, সভাপতি, শীলন বাংলাদেশ

গভীর শোক জানিয়ে লেখেন, ড. জসীম উদ্দীন নদভী চলে গেলেন। হৃদয়ের কোণে একটা ব্যথা অনুভব করছি। নদভী সাহেব তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। বাসাটা দেখিয়ে বলেছিলেন, যখন মনে চায়, চট্টগ্রাম চলে আসবেন। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম তাঁর কথা। দারুল মাআরিফে তার আতিথেয়তা, আন্তরিকতা, হৃদ্যতা কখনোই ভুলতে পারবো না। প্রতিটি নতুন উদ্যমি কাজের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। অগ্রণী ছিলেন। বর্তমান আলেমসমাজকে নিয়েও তিনি অস্থিরতা অনুভব করতেন। তার সঙ্গে কথা বলে সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি।

ড. জসীম উদ্দীন নদভী ডক্টরেটের জন্য যেসব নথিপত্র দেখিয়েছিলেন, চল্লিশোর্ধ্ব তখনকার বয়সে একজন মানুষের পড়াশোনার চেষ্টা দেখে অভিভূত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। পরে খুশি হয়েছি তিনি ডক্টরেট লাভ করেছেন। যার কাছে ডক্টরেট করেছেন তিনিও আমার শিক্ষক।

নদভী সাহেবের সঙ্গে আমার কিছু কাজ ছিল। হলো না। আমি বার বার ঢাকা থেকে ফোন করেছি। এত সমিহ-সম্মান করে কথা বলতেন মনে হতো বয়সে জ্ঞানে আমি অনেক বড় আর তিনি আমার জুনিয়র। তাঁর রেসপেক্ট ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। আমি আজ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

হারিয়ে গেল আরেক নক্ষত্র
মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

আল্লামা সুলতান যউক নদবী সাহেবের জামাতা, জামিয়া দারুল মাআরিফ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশের অনন্য আরবী ভাষাবিদ মাওলানা ড জসিমউদ্দিন নদবী আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওইন্নাইলাইহি রজিউন।

ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন। সাথে মা আর বিবি। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। যেন মমতাময়ী মায়ের কোলে মাথা রেখে আর প্রিয় স্ত্রীর অশ্রু সজল চোখে চোখ রেখে চলে গেলেন মাঝ বয়সী এই অমায়িক মানুষটি। আহ…। আমরা হারালাম এক প্রিয় অভিভাবক। দেশ হারালো এক কীর্তিমান আলেম। উম্মাহ হারালো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র…..।

এ শোক কিভাবে সইবে তার পরিবার, তার স্বজন, তার অসংখ্য গুণগ্রাহী! হে আরহামুর রহিমিন, তাকে ক্ষমা করুন, তার উপর রহমত নাযিল করুন, তার নেক কাজগুলো কবুল করুন, জান্নাতে উঁচু মর্যাদা নসিব করুন। আমিন।

প্রিয় উসতাদ রাব্বে কারীমের কাছে চলে গেছেন
আফজাল শরীফ, শিক্ষার্থী জামিয়া দারুল মা’আরিফ

হুজুর যাওয়ার আগে শেষ ক্লাসটা আমাদেরকে দিয়ে গেছেন, বলেছিলেন তোমাদের সাথে আর দেখা হবে না, মাদরাসা যে দিন বন্ধ হবে সেদিন রাতে আমি ফিরবো। আমি বলেছিলাম হুজুর আমারাও মদিনায় যাবো, হুজুর মুচকি হেসে বললেন ইনশাআল্লাহ আমি দোয়া করবো।

যাওয়ার সময় বলেছিলেন ‘ আফজাল তোমার আব্বাকে সালাম দিও’।  দারুল মাআরিফে হুজুরই আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি স্নেহ করতেন।  ক্লাসমেটরা ফাজলামি করে বলতো ‘ জসিম সাহেব হুজুর আফজালের বন্ধু ‘ একদিন হুজুরের ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে হুজুর খোঁজ করতেন।

কি লিখবো! কিছুই আসছে না! প্রিয় উসতাদ রাব্বে কারীমের কাছে চলে গেছেন।

এমএম/

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *