160939

বিটিভি ও সংবাদ পাঠিকাদের নিয়ে সংসদে কটূক্তি!

আওয়ার ইসলাম: সংসদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন (সংশোধন) বিল ২০১৯ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখার সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিকে নিয়ে সমালোচনায় মত্ত হন বিরোধীদলীয় সাংসদরা।

বিটিভির সংবাদ পাঠিকাদের নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংসদ মজিবুল হক চুন্নু। বিটিভিতে ‘বুড়া-থুড়া মহিলাদের’ দিয়ে সংবাদ পাঠ করানোর কাজ করা হচ্ছে বলে সংসদ অধিবেশনে মন্তব্য করেন এই সাংসদ। পরে সাংসদের এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার সংসদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন (সংশোধন) বিল ২০১৯ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

বিলটির ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, বিটিভিসহ অন্য চ্যানেলগুলোতে সারাদিন সিনেমা চালানো হয়। এতে করে ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর–কিশোরীরা স্কুলে যেতে চায় না। বুয়ারাও কাজ করতে চায় না।

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, দেশে এত টেলিভিশন চ্যানেল, একটা না একটায় সিনেমা চলতেই থাকে। আমি এই বিলের ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছি।

এদিকে, তথ্যমন্ত্রী যতটা স্মার্ট, বিটিভি ততটাই আনস্মার্ট। সংসদে এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। বাংলাদেশের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থাটির মানের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, কেবলমাত্র যেখানে অন্য চ্যানেল দেখা যায় না; সেখানকার মানুষই শুধু বিটিভি দেখে।

বিএনপির আরেক সাংসদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বিটিভিতে আরও বড় পরিবর্তন এনে একে যুগোপযোগী করে তোলা দরকার। এই প্রতিষ্ঠান সব সময় সরকারি দলের সংবাদ প্রচার করে। বিরোধী দল ও তাদের বিষয়ে কোনো সংবাদ দেখতে পাওয়া যায় না। গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও বিটিভি দেখেন না। আগ্রাসন ও অপসংস্কৃতির ধাক্কায় দেশীয় চলচ্চিত্র ধ্বংসের মুখে।

সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনার জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বয়স বেশি না কম; এটা কোনও কাজের মানদণ্ড হতে পারে না। কম বয়সী হলেই পারফরম্যান্স ভালো হবে এমন কোনও কথা নেই। এ ধরনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে দাবি জানান।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.